ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: শরীয়তপুরের নড়িয়ার ওয়াপদা লঞ্চ ঘাটে নোঙ্গর করা তিনটি লঞ্চ পদ্মা নদীর স্রোতে ডুবে গেছে।

আজ সোমবার ভোরের এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত ২০ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন। তবে পুলিশ নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।

নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন— নড়িয়া পৌরসভার লোমসিং গ্রামের পারভিন বেগম (৩৫) ও তার পাঁচদিন বয়সী শিশু সন্তান এবং ফকরুন্নেছা বেগম (৫০)।

এ ঘটনায় পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন নিখোঁজ পারভীনের স্বামী ও নবজাতকের বাবা মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় হাসপাতালে আমাদের বাচ্চার জন্ম হয়। ওর বয়স পাঁচদিন। আজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে ওকে নিয়ে লঞ্চে আসি। ভোরে লঞ্চ টার্মিনালে ভিড়লেও চারদিক ফর্সা না হওয়ায় লঞ্চ থেকে আমরা নামিনি। এরই মধ্যে হঠাৎ লঞ্চটি আমাদেরসহ বাবুকে নিয়ে তলিয়ে যায়। পরে আমি পাড়ে উঠতে পারলেও বাবুসহ ওদের উদ্ধার করতে পারিনি।’

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন জানান, গভীর রাতে চারটি লঞ্চ ওয়াপদা চেয়ারম্যান ঘাট টার্মিনালে এসে ভিড়ে। ভোর ৫টার দিকে পদ্মা নদীতে প্রচুর স্রোত থাকায় টার্মিনালে রশি দিয়ে বাঁধা থেকে নড়িয়া-২, মৌচাক-২ ও মহানগর নামে তিনটি লঞ্চ রশি ছিঁড়ে পণ্টুন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। পাঁচজন যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, যাত্রী ও লঞ্চের স্টাফসহ বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। তবে ঠিক কতোজন নিখোঁজ রয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

নড়িয়া ওয়াপদা ঘাট ইজারাদার মোতালেব শিকারী জানিয়েছেন, ভোরে ৪টি লঞ্চ এসে টার্মিনালে নোঙ্গর করে পরে স্রোতের তোড়ে তিনটি লঞ্চ ডুবে যায়।

তিনি বলেন, ‘ডুবে যাওয়া লঞ্চগুলো থেকে প্রায় সবাই নেমে যেতে সক্ষম হলেও চারজন যাত্রী নামতে পারেনি। আর আমাদের লঞ্চ স্টাফরাও ছিলেন। ঠিক কতোজন স্টাফ নিখোঁজ তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে উদ্ধার কাজের জন্য মাওয়া ঘাট থেকে ডুবরি দল এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে জাহাজ প্রত্যয় রওয়ানা দিয়েছে।