নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি॥ জনগণের সুখে দু:খে সামিল হওয়াই আমার ইচ্ছা। কারন আপনাদের বোটে আমি এপি নির্বাচিত হয়েছি। অবহেলিত এলাকার সব উন্নয়ন কাজ করতে পারলেই আমি ধন্য হবো।

বুধবার বিকালে নবাবগঞ্জের শিকারী পাড়া বিষমপুর আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় জাতীয় পার্টি আয়োজিত কর্মীসভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ঢাকা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এসব কথা বলেন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী এসময় আরো বলেন, বিজয়ের মাসে দেশ প্রেমের চেতনার আলোকে আমাদের সকলকে এলাকার উন্নয়নে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সমাজে মাদক এখন প্রধান ও জাতীয় সমস্যা হয়ে দাাঁড়িয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ বির্নিমানে সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমাদের ছেলে ও মেয়েদের সমান অধিকারের ভিত্তিতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। পাশাপাশি ধর্মীও মূল্যবোধের শিক্ষাও দিতে হবে। তবেই আমরা সূখী ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। সময় তিনি উপস্থিত সকলকে এলাকার উন্নয়নে মত পথের উর্দ্ধে থেকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে শিকারীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে হযরত মেম্বার, হায়দার, খালেক ও রবিনের নেতৃত্বে প্রায় ২শতাধিক নেতাকর্মী সাংসদ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। এসময় তারা শিকারীপাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিষমপুরে পাকা রাস্তা নির্মানের দাবি জানায়।

উপস্থিত এলাবাসীর উদ্দেশ্যে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা হচ্ছে একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। বিগত দিনে যারা আপনাদের ভোটে জনপ্রতিনিধি হয়েছিলো তারা এই অঞ্চলের জন্য আপনাদের জন্য, কি করছেন, আপনাদের প্রয়োজনে কতটুকু সময় দিয়েছেন সেই বিষয় আপনারাই ভালো জানেন। আমি দোহার-নবাবগঞ্জ তথা এই অঞ্চলের উন্নয়ন কাজকে এগিয়ে নিতে রাজনীতিতে এসেছি। কিছু পাওয়ার আশায় নয়, আপনারাই আমার আপনজন ও পরম পাওয়া। আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম ও আমার একটাই ইচ্ছা নবাবগঞ্জ এবং দোহার উপজেলার মানুষের কল্যানে কাজ করে যাওয়া।

তিনি এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বিষমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ করা ও ওই এলাকার রাস্তাঘাট নির্মানে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।

আগামী দিনে এই অঞ্চলের মানুষের সার্বিক সহোযোগিতার হাত অব্যাহত থাকলে এই জনপদ হবে ঢাকা জেলার উন্নয়নের মডেল। কৃষি ও প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলকে আমারা সবাই মিলে একটি উন্নয়ন মূখী সমৃদ্ধ এলাকায় রুপান্তর করবো ইনশাল্লাহ। দারিদ্র মুক্ত দেশ গঠনে ঐক্যের বিকল্প নেই। আসুন বিজয়ের মাসে শপথ করি সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, দূর্নীতি ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি। একই দিন তিনি দোহারের জয়পাড়া বাজারে ‘ইউডো’ নামে একটি ফ্যাশন হাউসের উদ্বোধন করেন। এসময় সাংসদ বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে যাতে সব পণ্য তুলে দেয়া যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে দোহার থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, ফ্যাশন হাউসের মালিক মো. পলাশ, দোহার জাতীয় পার্টির নেতা ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ, আব্দুল আলীম, লোকমান হোসেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিকারী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আলেিমার রহমান পিয়ারা, জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন দিলু, উপজেলা যুগ্ন আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর চোকদার, খলিলুর রহমান এম.এ মজিদ, খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল গফুর, নাজিম হোসেন, ওয়াসিম আহমেদ, ছলেমান মেম্বার, হাশেম মেম্বার, আতাহার হোসেন, আব্দুস সালাম, মনির হোসেন, কিরণ খান, ফিরোজ আহমেদ, পলাশ রোজারিও, আইয়ুব হোসেন, আইরিন গমেজ, তাজনিনা আহমেদ, নার্গিস আক্তার, আজিজুর রহমান, খলিল দেওয়ান, মিজানুর রহমান, ফয়সাল, স¤্রাট সরকার, নাইম খন্দকার, তুষার, কাউসার, মনির হোসেন প্রমুখ।