তুহিন আহামেদ, আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি::
আশুলিয়ায় এক নারী পোশাক শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রেমিক রাসেল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। ধর্ষিতা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
১২ জানুয়ারী শুক্রবার রাত ১০টায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী বাজার এলাকায় ওই নারী পোশাক শ্রমিককে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল আউয়াল।
আটককৃত প্রেমিক রাসেল মিয়া বগুড়ার সাড়িয়াকান্দি থানাধীন কামালপুর এলাকার আলা মিয়ার ছেলে।
এঘটনায় ধর্ষিতা পোশাক শ্রমিক সোনিয়ার ভাড়া বাসা ভাদাইল এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বাবা-মা ও ছোট এক বোনের সাথে একটি কক্ষে বসবাস করে। সে স্থানীয় সোনিয়া স্যোয়েটার কারখানায় হেলপার পদে কাজ করে।
ধর্ষিতার সহকর্মী মমতা আক্তার ও প্রতিবেশীরা জানায়, গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার রাসেল মিয়া নামের এক গার্মেন্ট শ্রমিকের সাথে সম্পর্ক ছিল সোনিয়ার। ঘটনাটি জানাজানি হলে গত বৃহস্পতিবার একদল উশৃঙ্খল যুবক আক্রোশ থেকে রাসেলের দুলাভাই আল-আমিনকে শারিরীক ভাবে লাঞ্চিত করে।
এঘটনার পর সোনিয়া শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাসা থেকে নিজ কর্মস্থলে বেতন উত্তোলণের কথা বলে বেড়িয়ে যায়। রাত ১০টায় গণধর্ষণের শিকার হওয়া সোনিয়াকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের জিরানী এলাকায় সজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ধর্ষিতার প্রেমিক রাসেল মিয়ার দুলাভাই আল-আমিন জানায়, সোনিয়ার সাথে রাসেলের সম্পর্কের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লাঞ্চিত করার পর শুক্রবার রাতেও মারধর করে ইমরান, তানভির, সৌরভ, সোহাগসহ প্রায় অজ্ঞাত ২৫ জন যুবক। এসময় জোরপূর্বক কাগজে তার ও শ্যালক রাসেল সোনিয়াকে ধর্ষণ করেছে এমন একটি মুচলেকা নেয় তারা।
এঘটনায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সোনিয়ার কথিত প্রেমিক রাসেলকে চন্দ্রা থেকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
এব্যাপারে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনায় ভিকটিমের প্রেমিককে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া ভিকটিম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।