মো. নাজমুল হোসেন, দোহার-নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি॥ ঢাকার নবাবগঞ্জের শোল্লা ইউনিয়নের রূপারচরের চিহ্নিত ১৫ মাদক ব্যবসায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার শপথ গ্রহণ করে প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বিকালে রূপারচর বাজারে শোল্লা ইউনিয়ন পুলিশিং সেল আয়োজিত জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী মতবিনিময় সভায় তারা এ আত্মসমর্পণ করেন। প্রধান অতিথি ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ-দক্ষিণ) মাছুম আহমেদ ভূইয়া ও অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় তাদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

আত্মসমর্পনকারীরা হলেন- রূপারচরের আলিমউদ্দিনের ছেলে রবিউল মিয়া, তার ছেলে রতন মিয়া ও সুজন, সহর আলীর ছেলে মো. নুরু, তার ছেলে মহর, টুটুল ও মহিল, মহিলের স্ত্রী সেলিনা, কাশেদের স্ত্রী জুসনি, আকমতের স্ত্রী সাহেদা, এলাহী মোল্লার ছেলে আ. খালেক, আ. মালেক, আবুল শেখের ছেলে লাল চাঁন, নুরুল হক বেপারীর ছেলে হবি, তার ছেলে নজরুল মিয়া।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আত্মসমর্পনকারীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। আত্মসমর্পনকারীরা আজ থেকে সব ধরনের বাংলা মদ তৈরি, মাদক বিক্রি ও সেবন থেকে নিজেদের বিরত রাখার শপথ নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দেওয়া হয়।

আত্মসমর্পনকারী প্রবীণ মো. নুরু বলেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছর যাবত বাংলা মদ বানাই। আজ থেকে আমরা এই রূপারচরে মদ বানামু না আর বেচুমুও না, সেই সাথে আর কাউরে বানাতে দিমু না। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা জুসনি বেগম বলেন, আমরা এখন থেকে মদের ব্যবসা করুম না। ভাল হয়ে যামু। মদের ব্যবসায় কোন শান্তি নাই।

প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পনকারী আ. মালেক বলেন, এই বাংলা মদের ব্যবসা কইরা পুলিশের ভয়ে অনেকদিন বাড়িতে ঘুমাইতে পারি নাই। বাইরে মশার কামুড় আর ইটের উপর মাথা দিয়া রাত কাটাইছি। আমি আর এমন জীবন চাই না। তাই পুলিশের কাছে নিজের ভুলের ক্ষমা চেয়ে আত্মসমর্পন করলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ-দক্ষিণ) মাছুম আহমেদ ভূইয়া বলেন, বর্তমান সরকার মাদকের ব্যাপারে জিরো ট্রলারেন্সে। দেশে মাদক র্নিমূলে চিরুনী অভিযান চলছে। আজ যারা শপথ নিলেন তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। সৎ পথে চলুন, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে এর পর কেউ মাদকের ব্যবসা করলে তাদেরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। সোজা ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে, সে যেই হোক না কেনো।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, আজ রূপারচরের ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। আশা করি বাকিরাও তাদের পথ ধরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন। আর যেন রূপারচরে মদ তৈরি বা বিক্রি না হয় সবাইকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘরে ঘরে আর যেন মদের গন্ধ পাওয়া না যায়। আমি যতদিন এই নবাবগঞ্জে কর্মরত আছি কাউকে মাদকের ব্যবসা করতে দিবো না। আর যদি আমার কাছে এই ধরনে খরর আসে যে, ঐস্থানে মাদক বিক্রি করা হচ্ছে তাহলে সরকারের চলমান অভিযান ক্রসফায়ার তার জন্য লিখিত হবে যাবে। আশা করবো আজকের পর থেকে শুধু রূপারচর নয় পুরো নবাবগঞ্জে মাদক বেচা-কিনি বন্ধ হয়ে যাবে।

শোল্লা ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমান তুহিনের সভাপতিত্বে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু, কৈলাইল ইউপি চেয়ারম্যান পান্নু মিয়া, শায়েস্তা ইউপি চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দিন চোকদার, নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হক, শোল্লা ইউপি সদস্য মো. রুবেল মিয়া, চান্দহর ইউপি সদস্য খালেদ রেজা, রাহাত মাহমুদ প্রমূখ।