লিয়াকত হোসাইন লায়ন,জামালপুর প্রতিনিধি::

গ্রামে যখন মামলা মেটে কেন যাবো থানা কোটের্’ লোক মুখে এমন আলোচনা জামালপুরের ইসলামপুর, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে। কম সময়ে- অল্প খরচে প্রতিকার পাওয়ায় সাধারন মানুষ এখন গ্রাম আদালতের সরনাপন্ন হচ্ছে।

তারি ধারাবাহিকতায় গতকাল উপজেলার পাথর্শী ও পলবান্ধা ইউনিয়ন চলমান শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে এলাকাবাসী গ্রাম আদালতের সরনাপন্ন হন। এতে জমি সংক্রান্ত শুনানি মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তি হয়। এলাকাবাসী জানান, মামলাটি দ্রুত নিস্পত্তি হওয়ায় সমাজে পারিবারিক কলহ থেকে মুক্তি সহ হৃদ্যতা ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, পাথর্শী ইউনিয়নে ২০১৭ সালের জুলাই মাস হতে সেপ্টেম্বর অধ্যবদি পর্যন্ত ৮৮ টি মামলা গ্রহন করা হয়েছে। উচ্চ আদালত ও অন্যান্য উৎস হতে ১৫টি সহ ৮৬ টি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে। এতে ৪টি মামলা খারিজ এবং ২টি মামলা চলমান রয়েছে। নিস্পত্তিকৃত মামলা থেকে ৫লাখ ৬৮হাজার ৩৬৫ টাকা ক্ষতিপুরন আদায় হয়েছে।

এছাড়াও পলবান্ধা ইউনিয়নে উচ্চ আদালত ৫টিসহ ৫৮টি মামলা মধ্যে ৫৪টি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে। নিস্পত্তিকৃত মামলা থেকে ৪লাখ ৪৫হাজার ৬০০ টাকা ক্ষতিপুরন আদায় হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে শুনানি মামলা চলমান রয়েছে।

ভুক্তভোগিরা জানায়, ছোট বিরোধের জন্য জন্য গ্রাম থেকে থানা ও জেলা আদালতে দৌড়াতে হয়। সাধারন দরিদ্র মানুষ আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ সহ দীর্ঘ সময় অপেক্ষো করতে হয়। বর্তমানে গ্রাম আদালতে মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত সহাকরীর সহযোগীতায় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধ,বিচার দ্রæত নিস্পত্তি হওয়ায় সামাজিক হৃদ্যতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাদারীপুর লিগাল এইড এসোসিয়েশন সুত্রে জানা যায়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি’র আর্থিক সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১৭ সালে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প সারাদেশে ২৭টি জেলার ন্যায় ১০৮০টি ইউনিয়নে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলা সহ ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।