বশির আহমেদ, বান্দরবান প্রতিনিধি॥ সারা দেশের ন্যায় কাল থেকে বন্দরবানে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজা। এ উপলক্ষে স্থানীয় রাজার মাঠে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তৈরী করা হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ পূজামন্ডপ।

প্রতিবছর শরৎকালে দেবী দুর্গার আগমন হয় নিজ ভূমিতে। সনাতন ধর্মের শাস্ত্র মতে জানা যায়, বছর ঘুরে আবারও উমা দেবী আসছেন তার বাপের বাড়ি। হিমালয়ের কৈলাশে তার স্বামী শিবের বাস। সেখান থেকেই সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে আসেন সমতল ভূমির এই বাংলায়। সঙ্গে নিয়ে আসেন গণেশ, কার্ত্তিক, লক্ষ্মী আর সরস্বতীকে। শাস্ত্র মতে, মর্ত্যলোকে এবার দেবী দূর্গার আগমন ঘটে নৌকায় করে।

সনাতন ধর্ম মতে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া হিসেবে পরিচিত। এভাবেই মর্ত্যলোকে আবাহন ঘটে দেবী দুর্গার। মন্দিরে মন্দিরে উচ্চারিত হয় ‘যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেন সংস্থিতা, নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমোঃ নমোঃ’। ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু। জগৎ জননী মায়ের আগমনে মাতৃভক্ত সন্তানদের হৃদয়ে চলছে আনন্দধারা। এই আনন্দকে সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে সারা দেশের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও শুরু হয়েছে শারদীয় দূর্গোৎসব। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সব চেয়ে বড় পূজামন্ডপ তৈরী হয় এ জেলায়। মন্ডপ দেখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার দর্শণার্থী।

স্থানীয় রাজার মাঠে দূর্গা পূজার প্রতিমা শিল্পীরা বলেন, সারা বছর আমরা এই দিনটির জন্য বসে থাকি। দূর্গা পূজার প্রতিমা তৈরী করে আমরা অর্থ উপার্জন করে পরিবার চালাতে হয়। কিন্তু দিন দিন আমাদের এই কাজের চাহিদা কমে যাচ্ছে, তাই এ কাজ করে পরিবার চালাতে আমাদের কষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আমরা বান্দরবানে দূর্গা পূজার প্রতিমা তৈরী করতে এসেছি। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমা তৈরীতে সাজসজ্জায় অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। উন্নতমানের রং, মাটি, কাপড়, গয়নাসহ প্রতিমা তৈরীর যাবতীয় উপকরণ উন্নতমানের হওয়ায় কাজ করতে আমাদের বেশ ভালই লাগছে। দুর্গা পূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে দুর্গা প্রতিমা। তাই মনমুগ্ধকর ও নিখুঁতভাবে কাজ ফুটিয়ে তুলতেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে আমাদের। এদিকে, মা দেবীর বন্দনা উৎসব জমকালো করতে পেশাদার প্রতিমা শিল্পীদের পাশাপাশি রাত দিন খেটে প্রতিমা তৈরি, মঞ্চ সজ্জাসহ তোরণ নির্মানে সহযোগিতা করছে স্থানীয় তরুনরাও।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি লক্ষীপদ দাশ বলেন, বান্দরবান জেলায় এবার সব মিলিয়ে পূজামন্ডপ হবে প্রায় ২৭ টি। যার মধ্যে শুধু জেলা সদরেই আছে ১০টি মন্ডপ। স্থানীয় রাজার মাঠেই হচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষনীয় মন্ডপ। ব্যয় করা হচ্ছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দূর্গাদেবীর প্রতিমা ছাড়াও তৈরি করা হচ্ছে নজর কারা বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমা। অনুষ্ঠান সুন্দর ও সফল করতে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিও সেরে নেয়া হচ্ছে। বান্দরবান জেলায় সবচেয়ে বড় পূজা অনুষ্ঠিত হবে শহরের প্রাণকেন্দ্র রাজার মাঠে, শুধু এই পূজা দেখার জন্য দক্ষিণ চট্রগ্রামের লোকেরা ও ভিড় জমায় এই পূজা মন্ডপে।

বান্দরবান জেলার পুলিশ জাকির হোসেন মজুমদার জানান, এবার বান্দরবান জেলায় সর্বমোট ২৭টি পূজা মন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পূজা মন্ডপে যেন সনাতন ধর্মালম্বীরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজা পালন করতে পারে সে লক্ষ্যে সার্বক্ষনিক আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সাদা পোষাকদারী পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আগামীকাল সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গোৎসবের উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই ডিজিটাল লাইটিংয়ের মাধ্যমে মহামায়ার আর্বিভাব ও দেবতা কর্তৃক অস্ত্রপ্রদান প্রদর্শনী, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাঁচদিনের এই উৎসব ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে।