ঝিনাইদহ প্রতিনিধি::
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত দক্ষিনাঞ্চলের অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে আর্থিক দৈন্যতা দেখা দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা বেতন ভাতা পাচ্ছে না। সুগার মিলের ৯ শতাধিকের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের বেতন ভাতা-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তবে মিলের ব্যবস্থপনা পরিচালক সঞ্জিব কুমার দত্ত জানিয়েছেন, গোডাউনে প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। চিনি বিক্রি না হওয়ায় সুগার মিলটি আর্থিক সংকেট পড়েছে। চিনি বিক্রি হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা দেয়া হবে এবং সকল সমস্যা কেটে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক-কর্মচারী জানিয়েছেন, তারা দুই মাস ধরে মিল থেকে কোন বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। মিলের কর্মকর্তারা তাদের (শ্রমিক-কর্মচারীদের) বলেছেন, চিনি বিক্রি না হওয়ায় বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। দুই মাস বেতন না পেয়ে অনেকে বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, চাউল-ডাউল ক্রয় ও ছেলে মেয়েদের নতুন বছরে স্কুলে ভর্তি, নতুন ড্রেস ও বই-খাতা কিনে দিতে না পেরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এছাড়া আখ চাষীরা আখ বিক্রির টাকা না পেয়েও ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে।

সুগার মিলের মহা-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দিলিপ কুমার বিশ্বাস জানান, মিলের গোডাউনে গত বছরের ১ হাজার ৭৩০ মেঃ টন ও চলতি বছরের ১ হাজার ৮৪২ মেঃ টনসহ মোট ৩ হাজার ৫৭২ মেঃ টন চিনি গোডাউনে রয়েছে। প্রতি টন চিনির মিল মূল্য ৬০ হাজার টাকা। সে হিসেবে মিলের গোডাউনে ২১ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকার চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।

মিলের মহা-ব্যবস্থাক (অর্থ) সাইফুল ইসলাম জানান, সুগার মিলে মোট ৯০২ জন শ্রমিক কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে। তাদের মধ্যে গত নভেম্বর মাসে শুধুমাত্র কারখানার শ্রমিক কর্মচারী অংশিক বেতন দেয়া হয়েছে। কারখানার শ্রমিক কর্মচারী বাদে নভেম্বর মাসে ৭০ লাখ ও ডিসেম্বর মাসে দেড় কোটি সহ মোট ২ কোটি ২০ লাখ টাকার বেতন ভাতা বকেয়া রয়েছে।

মোবারকগঞ্জ সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্জিব কুমার দত্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের দুই মাসের বেতন ভাতা বকেয়া থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, চিনি বিক্রি না হওয়ায় তিনি বেতন-ভাতা দিতে পারছেন না। চিনি বিক্রি হলে এ সমস্যা কেটে যাবে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে ক্রয়কৃত আখের মধ্যে সাড়ে ৪ কোটি টাকার ঋণ সমন্বয় ও ৬ কোটি টাকা আখ চাষীদের পেমেন্ট দেয়া হয়েছে।