শামীম আহসান মল্লিক, মোরেলগঞ্জ ॥ সরকারের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির অধীনে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দরিদ্র মানুষের মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিক অক্টোবর মাসের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি আজ থেকে শুরু হয়েছে। উপজেলার দরিদ্র মানুষ নির্ধারিত কার্ড নিয়ে ডিলারের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করছে। এ উপজেলায় কার্ডধারীর সংখ্যা ২৬৪৫৪ জন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কে এম শহিদুল ইসলাম জানান, মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৬ ইউনিয়নে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগী কার্ডধারীর সংখ্যা ২৬৪৫৪ জন। এর মধ্যে বহরবুনিয়া ইউনিয়নে ১৫৪০ জন, বলইবুনিয়া ইউনিয়নে ১১৩৪ জন, বনগ্রাম ইউনিয়নে ১০৮৭ জন, বারইখালী ইউনিয়নে ২২১৭ জন, চিংড়াখালী ইউনিয়নে ১৫৪৪ জন, দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নে ১৬২৮ জন, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নে ১৯৩০ জন, হোগলাপাশা ইউনিয়নে ১১৫০জন, জিউধরা ইউনিয়নে ২২২৬ জন, খাউলিয়া ইউনিয়নে ২৬৯৯ জন, মোরেলগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ১২১৫ জন, নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নে ২৬২০ জন, পঞ্চকরন ইউনিয়নে১৪৪৯ জন, পুটিখালী ইউনিয়নে ১৪৬০ জন, রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নে ১৫৩৯ জন এবং তেলীগাতি ইউনিয়নে ১০২৫ জন সুবিধাভোগী রয়েছেন।

উপজেলার সন্ন্যাসী বাজারে ডিলারে কাছে চাল নিতে আসা হনুফা বিবি (৪৫) জানান, বর্তমান বাজারে ১০ টাকা কেজি দরে চাল কল্পনাও করা যায় না। সেখানে আমার মত অতি দরিদ্ররা ১০ টাকা কেজি দরে চাল কিনে খাচ্ছি। এটা শুধু প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই সম্ভব হয়েছে। হনুফা বিবির মত আব্দুল গনি হাওলাদার, জুলফিকার আলী, আব্দুল জব্বার, হামেজ উদ্ধিন বলেন, এই সরকারই আমাদের মত দরিদ্রদরে কথা ভাবে বলেই আমরা এখনও ১০টাকায় চাল কিনে খাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান মিন্টু জানান, ২০১৬ সাল থেকে সরকার অতি দরিদ্র মানুষের সহায়তায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অধীনে প্রথম প্রান্তিক বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেপ্টেম্বর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ১০ টাকা কেজি দরে জন প্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করে আসছে। এ বছরে মার্চ-এপ্রিলে বিক্রির পরে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অক্টোবর মাসের চাল আজ থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। বিদ্যমান তালিকায় বিভিন্ন সময়ে কিছু সুবিধাভোগীর নাম মৃত্যুজনীত এবং অন্যান্য কারণে পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।