নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

যে কলেজের অধ্যাপক সে কলেজের সভাপতি এমপি ইয়াসিন

রানীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি:: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি ও ঠাকুরগাও-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক ইয়াসিন আলী রানীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ঐ কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এমপি হিসেবে দশম সংসদে নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার কিছু দিন পরেই, তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বনে যান। এবং অর্নাস কোর্সের শিক্ষক নিয়োগ সহ কর্মচারীর নিয়োগ নেওয়ার নামে মোটা অংকের উৎকোচ আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় এক আ’লীগ নেতা ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন বলে তথ্য রয়েছে। মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক ২০০৯ সংশোধিত শিক্ষা আইনে বলা হয়েছে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিজ কর্মরত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হতে পারবে না। যদিও এ প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি ডিগ্রী ও অর্নাস কোর্স চালু রয়েছে।

ঠাকুরগাও-৩ আসনের এমপি অধ্যাপক ইয়াসিন আলীর সাথে আমাদের প্রতিবেদকের গতকাল শনিবার কথা হলে তিনি বলেন,আমি আমার নির্বাচিত এলাকার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবো। তাই আমি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হয়েছি। এটি সাংঘর্ষিক কিনা প্রশ্নে বলেন,কেন সাংঘর্ষিক। আপনি এবার এমপি আছেন আগামীতে নাও থাকতে পারেন, তখন আপনি যাদের নিয়োগ দিলেন এবং আপনি এক সাথে চাকরী করবেন। ঐ প্রতিষ্ঠানে বিষয়টি কেমন হলো প্রশ্নে হাসতে হাসতে বলেন এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়। তারা আমাকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। আমি দায়িত্ব পালনের জায়গা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। তবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অংকের উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। জানা যায়, তিনি সভাপতি হওয়ার পর কলেজটির অর্নাস কোর্সের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়াও কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন প্রায় বিশ জনের অধিক। এসব নিয়োগ মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে উপজেলা আ’লীগ যুগ্ন সম্পাদক আনিসুর রহমান বাকী ঐ কলেজে শিক্ষক নিয়োগের নামে মোটা অংকের উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম ২০১২ সাল থেকে অনিয়মভাবে অধ্যক্ষের পদটি ধরে রয়েছেন মর্মে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়,শিক্ষা মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। যদিও দীর্ঘ কয়েকমাসও অভিযোগের কোন তদন্ত হয় নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আ’লীগ নেতা আনিসুর রহমান বাকী।

এদিকে কলেজটির মোট শিক্ষক সংখ্যা প্রায় শতাধিক এর মধ্যে এমপিও ভুক্ত সাতান্নজন,অর্নাস শিক্ষক তেতাল্লিশ জন। কর্মচারী মোট ৪৯ জন এর মধ্যে অনার্স কোর্সের ৩৫ জন কর্মরত রয়েছে।

জানা যায়, নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়ে কলেজ তহবিল থেকে তাদের প্রতি মাসে সন্মানী দেওয়া হচ্ছে, যা কলেজের জন্য অমঙ্গলজনক বলে মনে করেন সচেতন মহল। তারা শুধুমাত্র টাকার লোভে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন বলে দাবী স্থানীয় সচেতন মহলের। এছাড়াও কিছু দিন পূর্বে কোন ধরনের সভা সিদ্বান্ত ছাড়াই ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নরগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুশমত আলী, কোথা থেকে কাকে এনে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করিয়ে বলেন, আজ থেকে আপনার এখানে চাকরী হলো। যা নিয়ে কলেজ প্রশাসন ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় বিষয়টি সাথে সাথে এমপি হস্তক্ষেপ করে স্বাক্ষরটি কেটে দেওয়া হয় বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করে। কলেজটিতে রয়েছে নিয়মশৃঙ্গলার অভাব শিক্ষকরা ইচ্ছেমত আসে কলেজে,নিয়মিত কলেজে ক্লাশ না হওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে নাম প্রকাশে অইচ্ছুক ঐ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য বলেন,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কলেজের অধ্যাপক হওয়ায় ম্যানেজিং কমিটির অনেক সিদ্বান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কারন সভাপতি নিজে জোর দিয়ে কোন কিছু বলতে পারেন না। তাই কলেজের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রমের অবস্থা নাজুক বললেই চলে। শিক্ষকরা ঠিকমত কলেজে না আসলেও। কোন কোন শিক্ষক আবার ইচ্ছেমত এসে হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত থাকা ঘরগুলোতে স্বাক্ষর করে বেতন তুলেন বলে অভিযোগ উঠলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম ও সভাপতি এমপি ইয়াসিন দেখেও না দেখার ভান করেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।

এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করেন। যারা কলেজে ঠিকমত আসেন না তাদের বেতন কর্তন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।