ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি::
দৈনিক কালের কষ্ঠের ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী তার বক্তব্যে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি শুধু বলতে চাই যারা সাংবাদিকতা করতেছেন, সাংবাদিককে অনেকে আজকে সাংঘাতিক বলে ডাকে। “সাংঘাতিক হয়েন না সাংবাদিক হোন”। বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশন করতে যদি মাজার শক্তি, মনোবল থাকে, সাহস থাকে তাহলেই সংবাদ পরিবেশন করবেন তাহলে মানুষ সম্মান করবে।

ধান্দাবাজীর জন্য যদি সাংবাদিক হোন, ধান্দাবাজীর জন্য যদি খবর, নিউজ করে লোককে বেকায়দায় ফেলে ভাবমূর্তি নষ্ট করে কিছু পাওয়ার জন্য সাংবাদিকতা করেন তাহলে সাংবাদিকতা করতে আসিয়েন না। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্যটি নিন্মে আংশিক তুলে ধরা হলো।

“ আমরা কিছু কিছু সংবাদ পরিবেশনের সময় লক্ষ্য করি কিছু প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি ব্যক্তি, কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সংবাদ পরিবশনের সময় কিছু কিছু (সংবাদিক) সাংবাদিক নেগেটিভ সংবাদ গুলো পরিবেশন করতে অতি উৎসাহ হয় ।

আমি ( এক্সজাম্পল) উদাহরনসহ সম্প্রতি কালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে বিশাল র‌্যালীর মধ্য দিয়ে, সুশৃঙ্খল,সুষ্ঠ ভাবে গোটা শহর প্রদিক্ষন করে জেলা পরিষদ মিলনায়তন প্রাঙ্গনে সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য ওরা শৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সেখানে একটি চেয়ারকে কেন্দ্র বা বসার সিট কেন্দ্র করে অহেতুক বিশৃঙ্খলা জনক ঘটনা ঘটলো। তাৎক্ষনিক ভাবে সেই বিষয়টা অনলাইন পত্রিকায় বিভিন্ন ভাবে নেগেটিভ ভাবে খবরটি প্রচার করলো। অথচ ছাত্রলীগের ছেলেগুলো কোন উৎশৃঙ্খলতা করলো না। এত সুন্দর আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোটা শহর প্রদক্ষিণ করে যে র‌্যালীটি করলো সেটার বিষয়ে এক লাইনও পত্রিকায় আসলো না।

একটি ব্যক্তি বিভিন্ন ভাবে, অনেক সততার সাথে, নিষ্ঠার সাথে, সমাজে ভাল কাজের সাথে নিয়োজিত করেন। এই অনুষ্ঠানে একজন সফল ব্যক্তি ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বাইরে সুনামের সাথে কাজ করে চলছেন। এখন ওই প্রতিষ্ঠানে যদি কোন খবর ভুলও হয়ে থাকে, সমস্যা হয়ে থাকে সেটি আগে অনুসন্ধান করে দেখা উচিত বা উনার সাথে আলোচনা না করে সরাসরি পত্রিকায় প্রচার করে একটা নেগেটিভ ধারনা মানুষের মধ্য দিয়ে গোটা দেশের মধ্যে ও ঠাকুরগাঁওয়ের যেমন ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন তেমনি ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হবে। পাশাপাশি একটা জিনিস লক্ষ্য করি এখানে (ঠাকুরগাঁওয়ে) অনেক ঘটনা ঘটে, অত্যান্ত করিত অন্যায়, হত্যা সন্ত্রাস ও মাদক ওই ধরনের অনেক খারাপ ঘটনা ঘটে। এই ধরনের খবর পরিবেশন করতে কিন্তু অনেকেই সাহস পান না। আমি শুধু বলতে চাই যারা সাংবাদিক করতেছেন, সাংবাদিককে অনেকে আজকে সাংঘাতিক বলে ডাকে। “সাংঘাতিক হয়েন না সাংবাদিক হোন”। বস্তুনিষ্ঠ খবর পরিবেশন করতে যদি মাজার শক্তি,মনোবল থাকে, সাহস থাকে তাহলেই সংবাদ পরিবেশন করবেন তাহলে মানুষ সম্মান করবে।

ধান্দাবাজীর জন্য যদি সাংবাদিক হোন,ধান্দাবাজীর জন্য যদি খবর, নিউজ করে লোককে বেকায়দায় ফেলে ভাবমূর্তি নষ্ট করে কিছু পাওয়ার জন্য সাংবাদিকতা করেন তাহলে সাংবাদিকতা করতে আসিয়েন না। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্যটি আংশিক তুলে ধরা হলো।”

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, ইএসডিও নির্বার্হী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু তোরাব মানিক,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দাশ, জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, জেলা উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি সেতারা বানু প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ, কালের কন্ঠ শুভসংঘের অন্যান্য সদস্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা এ সময় গণমাধ্যমে সঠিক সংবাদ পরিবেশন তুলে ধরার আহবান জানান। পরে অতিথিরা কেক কেটে কালের কষ্ঠ পত্রিকার ৮ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেন।