হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি॥

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিনামূল্যে দেওয়া বাড়ী পেয়ে খুশি হয়েছেন উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ভূমিহীন গরীব দুঃখি অসহায় ১০৮টি পরিবার।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় যার জমি আছে ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে পরিবার গুলোকে। গত শুক্রবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম.জে. আরিফ বেগ ও ৬নং ভাতুরিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাজাহান সরকার এবং পিআইওর প্রতিনিধি শাহনেওয়াজ বাড়ী পরিদর্শন করে। উপজেলার চাপাসার গুচ্ছগ্রামে বানু নামে এক মহিলাকে তার বাড়ী বুঝিয়ে দেন। সে বাড়ী পেয়ে তার সংসারের আসবাসপত্র ও মালামাল ঘরে তুলে গোছ-গাছ করছেন।

এ সময় তাকে ঘর পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও শেখের বেটি হাসিনা আমাদের মত গরীব, দুঃখি, অসহায় মানুষের কথা মনে রাখেছে। আমার শেষ বয়সে হলেও আমি শেখের বেটি হাসিনার দেওয়া বিনামূল্যে একটি বাড়ী পেয়ে ভীষন খুশি। আমার মনের না পাওয়া যতসব বেদনা ছিল তা মুছে গেল। আমি যতদিন বেচে থাকবো ততোদিন তাকেই (নৌকায়) ভোট দিব। দুবেলা পেটপুরে খেতে না পারলেও রাতে নিঃচিন্তে ঘুমাতে পারবো। ৫ম শ্রেনীর ছাত্রী তার মেয়ে আনজুরা বলেন আগে আমরা জড়াজির্ণ বাড়ীতে থাকতাম রাতে ঘুমানোর জন্য চিন্তা করতাম। শীতকালে ভীষন কষ্ঠ করতাম। এখন আর সে ধরনের পরিবেশে থাকতে হবেনা। রাতে আমি ভালভাবে পড়ালেখা করতে পরতাম না। এখন আমার পড়ালেখা একধাপ এগিযে যাবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি নির্বাহী অফিসার এম.জে. আরিফ বেগ ও সচিব পিআইও মোতাহার হোসেন বাড়ী নির্মাণ কাজের তদারকি ও দেখভাল করছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম.জে. আরিফ বেগ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় যার জমি আছে ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় হরিপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১০৮টি অসহায়, দুস্থ্য ও জরাজির্ণ বাড়ী ঘরের পরিবারগুলোকে বিনামূল্যে একটি টিনসেটের ঘর ও সেনিটেসন তৈরী করে দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১নং গেদুড়া ইউনিয়ন ১৫টি, ২নং আমগাঁও ইউনিয়নে ১৭টি, ৩নং বকুয়া ইউনিয়নে ১৯টি, ৪নং ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নে ১৮টি, ৫নং হরিপুর ইউনিয়নে ২১টি, ৬নং ভাতুরিয়া ইউনিয়নে ১৮টি বাড়ী তৈরি করে দেওয়া হয়। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এই পরিবার গুলোর তালিকা সংগ্রহ করে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সরকারের দেওয়া পরিপত্র অনুয়ায়ী প্রকৃত দুস্থদের বাড়ী ও সেনিটেসন নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাড়ীর জন্য ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রয়েছে কাজ প্রায় শেষের দিক। বাড়ী নির্মাণ শেষে প্রতিটি বাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়ী এই মর্মে একটি করে সাইনবোর্ড দেওয়া হবে। ৫নং হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মংলা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিনামূল্যে বাড়ী পেয়ে প্রকৃত গরীব, দুঃখি ও অসহায় পরিবার গুলো খুশি হয়েছে। এ ধরনের বাড়ী পাওয়ার মত গ্রামে অনেক পরিবার রয়েছে। সরকার যেন পরবর্তিতে আবারো নতুন ভাবে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে গৃহ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।