জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ লালমনিরহাট জেলা বিএনপির উদ্দ্যেগে ধরলা নদী সংলগ্ন বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সদর উপজেলার কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নে বন্যা কবলিত পরিবারের মাঝে মুরগী ও ঘর নির্মানের টিন বিতরণ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী উপস্থিত থেকে ১শত ৫০টি পরিবারের মাঝে এ ত্রান সামগ্রী বিতরন করেন।

ত্রান বিতরন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন বিএনপি অফিসে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মমিনুল হক, ভাইস-চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মেদ লিমন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান আঞ্জুমান আরা শাপলা, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি হাসান আলী প্রমুখ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রানের জন্য বানভাসি মানুষের মধ্যে যখন হাহাকার, ঠিক ওই মুহুর্তে আ’লীগ সরকারের নেতা-কর্মীরা বানভাসি মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রানের চাল আত্মসাৎ করে গোডাউন ফাকা করে দিচ্ছে। এই চাল বিক্রি করে তারা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছেন। অথচ বন্যা কবলিত মানুষেরা সরকারী নেতাকর্মীদের কাছে ত্রান চাইলেই তারা বলেন, নাম লিষ্ট করা হচ্ছে বরাদ্দ এলেই পর্যায়ক্রমে সকলকে ত্রান দেয়্ হবে। বন্যা কবলিত লোকজন আমাদের কাছে অভিযোগ করছেন, এখনও অনেক জায়গা আছে, যেখানে সরকারী ভাবে কোন ত্রান পৌঁছায়নি।

তিনি রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের সহযোগীতা তো করছেনই না। বরং সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের সঙ্গে আনা মুল্যবান স্বর্নলঙ্কার লুট করে মুসলিম যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়ে ধর্ষন করা হচ্ছে। অথচ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যখন রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য ট্রাকে করে ত্রান সামগ্রী পাঠালেন তখন হিংসার বশবর্তী হয়ে এই নির্লজ্জ আ’লীগ সরকার পুলিশ দিয়ে বিএনপির সেই ত্রানের ট্রাকগুলো আটক করে রাখেন।

কেন্দ্রীয় কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বন্যা পরবর্তী বানভাসি মানুষদের ঘরবাড়ি মেরামত করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে ত্রান হিসেবে মোগলহাট ইউনিয়নের ৫০টি পরিবারের মাঝে টিন এবং কুলাঘাট ইউনিয়নের ১শত পরিবারের মাঝে প্রত্যেককে ৫টি করে মুরগী দেয়া হয়েছে। এই মুরগী লালন পালন করে বানভাসি মানুষেরা যেন স্বাবলম্বী হয় এজন্যই জেলা বিএনপি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।