ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: ৩৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি, তাদের মধ্যে থেকে ৪৭০ জনকে এ মাসের ১৮ তারিখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক স্কুলে পদায়ন করা হয়েছে তাদের। এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী থানা শিক্ষা অফিসারের সুপারিশে বদলি করা হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্টের আশঙ্কা রয়েছে।

কারণ, থানা শিক্ষা অফিসাররাও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা। তাই এদের বদলির বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার অথবা জেলা প্রশাসকের অধীনে নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। এরই আলোকে বদলি নীতিমালার সংশোধনী আনা হবে। এর খসড়া নিয়ে নানা ঘষামাজা চলছে। এ ছাড়া সহকারী শিক্ষকদের বদলির সুপারিশ কে করবেন, তা নিয়েও চলছে এ ধরনের টানাপড়েন। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ে এ ব্যাপারে দু’টি মত রয়েছে। একটি অংশ চাইছে, সহকারী শিক্ষকদের বদলির সুপারিশ করবেন স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এখানেও রয়েছে, দু’টি মত। উপজেলা চেয়ারম্যান নাকি তারও ওপরের কেউ? অপর অংশ চাইছে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হলে থানা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমেই বদলির সুপারিশের বিদ্যমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) ড. এ এস এম মনজুর কাদির প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির নীতিমালার সংশোধনীর কথা স্বীকার করে বলেন, বিসিএসের চূড়ান্ত পরীায় উত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি, তাদের মধ্যে থেকে ৪৭০ জনকে সম্প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক স্কুলে, পদায়ন করা হয়েছে। তাই প্রধান শিক্ষকদের বদলির বিদ্যমান নীতিমালার কিছুটা সংশোধন সময়েরই দাবি। এ নিয়ে কাজ চলছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী জানুয়ারির আগেই বদলি নীতিমালার সংশোধনী চূড়ান্ত করে আদেশ জারি করা হবে।

প্রতি শিক্ষা বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একই উপজেলা/থানা, আন্তঃউপজেলা/থানা, আন্তঃসিটি করপোরেশন ও আন্তঃবিভাগে সরকারি প্রাথমিক স্কুলের বদলি সম্পন্ন করতে হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বদলির জন্য অব্যাহত রাজনৈতিক চাপ ও তদবির ঠেকাতে চলতি বছর ২ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় থেকে এক ‘অফিস আদেশ’ জারি করে অসীম ক্ষমতা চর্চার বিধিকে স্থগিত করে। সে অসীম ক্ষমতার মাধ্যমে এর আগে জনস্বার্থের দোহাই দিয়ে ‘যেকোনো কারণে যেকোনো শিককে যেকোনো সময়ে বদলির এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের হাতে নেয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে জারি করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি নীতিমালায় ২০১৫’তে এ অসীম ক্ষমতাসংক্রান্ত ওই দু’টি ধারা যুক্ত ছিল।

জানা গেছে, ২০১৫ সালে ওই নীতিমালার আলোকে মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও বদলি বাণিজ্যে জড়িয়েছিলেন। এ নিয়ে তখন বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

সরকারি প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক বদলি নির্দেশিকা ২০১৫ বলা হয়েছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তার নিজ একই উপজেলার মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কমিটির সুপারিশক্রমে সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃবদলির অনুমোদন দিতে পারবেন। পরে উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসার বদলি আদেশ জারি করবেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আন্তঃউপজেলা/থানার মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারের সুপারিশক্রমে বদলি করতে পারবেন। সিটি করপোরেশন আওতাধীন থানার ক্ষেত্রেও তিনি এরূপ বদলি করতে পারবেন। বিভাগীয় উপপরিচালক তার নিজ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা/জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সুপারিশক্রমে সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃজেলা বদলি ও প্রধান শিক্ষকদের একই উপজেলা, আন্তঃউপজেলা ও আন্তঃজেলায় বদলি করতে পারবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও বিভাগীয় উপপরিচালকের সুপারিশক্রমে যেকোনো সময় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের আন্তঃবিভাগ বদলি করতে পারবেন। একইভাবে তিনি সিটি করপোরেশন এলাকাধীন থানার ক্ষেত্রে সুপারিশক্রমে প্রধান শিক্ষকদের আন্তঃথানা/আন্তঃবিদ্যালয়ে বদলি করতে পারবেন।

কোনো শিকের স্ত্রী/স্বামী সরকারি বা আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে তাকে স্ত্রী বা স্বামীর কর্মস্থলে বদলির সুযোগ দেয়ার কথাও বলা আছে। তবে এ সুবিধা কর্মজীবনে সর্বোচ্চ দু’বার নেয়া যাবে। বদলির এক বছর অতিক্রান্ত না হলে কোনো শিক্ষক পুনর্বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। প্রধান শিক্ষক বা সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেলে তার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

উল্লেখ্য, দেশে নিবন্ধিত প্রাথমিক স্কুল জাতীয়করণের পর বর্তমানে ৫৯ হাজার ৭৭৩টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে মোট শিক্ষক আছেন তিন লাখ এক হাজার ১৯৪ জন। এর ৪০ শতাংশ হচ্ছেন নারী শিক্ষক।