ঢাবি প্রতিনিধি:: কোটা আন্দোলনের নেতা রিমান্ডে থাকা রাশেদ খাঁন, কারাগারে থাকা ফারুক হাসানের মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস বর্জনের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে রোকেয়া হলের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে শতাধিক মেয়ে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’ ব্যানারে মিছিল করে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ মাস্টার্সের ছাত্রী শেখ মৌসুমী। তিনি বলেন, ‘রাশেদ রিমান্ডে, নূর হাসপাতালে, ফারুক কারাগারে। তাদেরকে এ অবস্থায় রেখে আমরা ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারি না। তাদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না।

মেয়েদের অভিযোগ, আজকে মিছিল করতে গিয়ে তারা ছাত্রলীগ কর্মীদের কটূক্তির মুখে পড়েছেন।

মৌসুমী বলেন, ‘আজকের বিক্ষোভে আমরা যখন গ্রন্থাগারের সামনে আসি সেখানে অনেক ছেলে আমাদের কটূক্তি করে। আমরা ক্যাম্পাস নিরাপদ রাখতে চাই। কোনো ধরনের হামলা চাই না।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরকে নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানান মেয়েরা।

গত সোমবার শহীদ মিনারে হামলায় আহত মরিয়মও বক্তব্য রাখেন এ সময়। তিনি বলেন, ‘আমাকে যদি সম্মান দিতে চাও তাহলে প্রজ্ঞাপন (কোটা বাতিলের) দাও।’ ‘জামায়াত, শিবির ও ইয়াবা সেবনের ট্যাগ দেয়া হয়েছে আমাকে। এসব যদি বাদ দিতে হয় তাহলে প্রজ্ঞাপন দাও।’ সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর থেকে আন্দোলনকারীরা এই ঘোষণার আলাকে প্রজ্ঞাপন দাবি করে আসছেন।

২৭ জুন রাতে প্রধানমন্ত্রী সংষদে বলেন, কোটা থাকবে না তবে বলেন, এতদিন ধরে চলে আসা পদ্ধতিটি বাতিলে কিছু সময় লাগবে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় একই রাতে এক ভিডিও বার্তায় কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন ‘তার রক্ত গরম হয়ে গেছে’ জানিয়ে আবার আন্দোলনে নামতে ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাশেদ তার বক্তব্যে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের পাঠানো রেমিটেন্স সরকার ভিন্ন খাতে ব্যবহার করছে। ওই ভিডিওতে রাশেদ আরও বলেন, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আবার সেই বার্তায় তিনি বলেন, ‘মনে হয় তার বাপের দেশ।’

এই কটূক্তি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছে অভিযোগ করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন এক ছাত্রলীগ নেতা আর ১ জুলাই রাশেদকে মিরপুরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দারা। কোটা আন্দোলনের নেতাকে গ্রেপ্তারের পরদিন তদন্ত কর্মকর্তা তার এই বক্তব্যের পেছনে কী উদ্দেশ্য আছে, তা জানতে তাকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। আর বিচার তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দেন ২ জুলাই।

এর আগে ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতাকে বেদন পিটুনি দেয়া হয়। সেদিন আহতদের মধ্যে কোটা নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ন নুরুল ইসলাম নুরকে একটি হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও উঠে।

এর প্রতিবাদ করতে গেলে ২ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পেটানো হয় আরও কয়েকজনকে। সেখান থেকে পিটিয়ে কোটা আন্দোলনের নেতা ফারুক হাসানকে পুলিশে দেয়া হয়। আর পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে করা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।