ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে ‘শিক্ষক শিক্ষা আইন’ নামে একটি নতুন আইনের খসরা চুড়ান্ত হবার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। আইনটি অনুমোদনের জন্যে খুব শিগগির মন্ত্রীসভায় তোলা হবে। তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ শিক্ষক গঠনের জন্য আইন নয় বরং কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁস, শ্রেণীকক্ষে যথাযথ পাঠদান না করাতে পারা এবং জাল সনদে নিয়োগ সহ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় নিয়ে আসতে এবং শ্রেণীকক্ষে মানসম্পন্ন পাঠদান নিশ্চিত করতে আলাদা আইন করতে যাচ্ছে সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছুসংখ্যক শিক্ষক নিয়মকানুন মানেনা। নৈতিকতা তাদের মধ্যে নাই। এগুলো নিয়ে আমরা বড় সমস্যায় আছি।

এরই মধ্যে আইনটির খসরা চুড়ান্ত করা হয়েছে। এটি যে কোনো সময় মন্ত্রীসভায় তোলা হবে।

জাতীয় শিক্ষনীতি ২০১০’এ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কারণে শিক্ষাবিদরা বলছেন, আইন নয় বরং শিক্ষক কর্মকমিশন গঠনে সরকারকে নজর নিতে হবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, শিক্ষকের প্রত্যেকটা আচরন শিক্ষার্থীর কাছে শিক্ষনীয়। এসব বিবেচনা করে ভালো শিক্ষক নির্বাচনের জন্যে শিক্ষক কর্মকমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু সালাহউদ্দীন বলেন, একটা কমিশন গঠন করা দরকার যা শিক্ষকদের জন্যে কাজ করবে। এবং সেটার নামকরণ যাতে শিক্ষকদের জন্যে শ্রুতিমধুর হয় সেটা ‘শিক্ষক শিক্ষা আইন’ না হয়ে যদি ‘শিক্ষা কর্ম কমিশন’ হয় সেটাই অনেক বেশি কার্যকরী হবে।

তারা মনে করছেন, শিক্ষক নিয়োগের যে কাঠামোই সরকার তৈরি করুক না কেন পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে মেধাবীদেরকে। নইলে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ সম্ভব হবেনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বিধায় আমাদের নীতিতে শিক্ষক কর্মকমিশনের বিষয়টা চিন্তায় এসেছে। এই কমিশনে যারা কাজ করবেন তারাও যেন যোগ্য ব্যাক্তি দ্বারা পরিচালিত হয়।

গেল বছর নোট গাইড নিষিদ্ধ করে জাতীয় শিক্ষা আইনের খসরা চুড়ান্ত করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে সে আইন জাতীয় সংসদে এখন পর্যন্ত পাস না হলেও এবার শিক্ষক নিয়োগের জন্যে আলাদা এই আইনের উদ্যোগ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। সূত্র : নিউজ টোয়েন্টিফোর