টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:: টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শিক্ষকদের লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ পাঁচ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রাতে ঢাকার রিজেন্ট বোর্ডে এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন গণমাধ্যমকে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃত অন্যরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার, সহ-সভাপতি মো. ইমরান মিয়া, আদ্রিতা পান্না, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল ও ইয়াসির আরাফাত।

এর আগে ছাত্রলীগের দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রথমে ৪৮ ও পরে ৮ শিক্ষকের পদত্যাগপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. তৌহিদুল ইসলামের কাছে জমা দেয়া হয়। পদত্যাগ করা শিক্ষকদের মধ্যে দু’জন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, চারজন ডিন, চারজন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সব হাউজ টিউটর ও সহকারী প্রক্টর রয়েছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ। এতে ঈশিতা বিশ্বাস ফেল করেন। তিনি ৪ এর মধ্যে ১.৯৮ গ্রেড পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২.২৫ পেলে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হবেন।

এরপর গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কোয়ান্টাম মেকানিক্স-১ পরীক্ষায় বিভাগের পক্ষ থেকে অনুমোদন না দেয়ার পরেও ঈশিতাকে জোর করে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ করে দেয় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সজীব তালুকদার তার সহযোগীদের নিয়ে উপস্থিত থাকেন, ঈশিতা তার পরীক্ষা শেষ করেন।

বিভাগের শিক্ষকেরা তাৎক্ষণিক এর প্রতিবাদ জানালে সজীব তালুকদার ওই বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষক মহিউদ্দিন তাসনিনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি পরীক্ষায় নিজ দলের কর্মীদের কৃতকার্য করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স পরিবর্তনের অন্যায্য দাবিও তুলে এ ছাত্রলীগ নেতারা। সেজন্য হল থেকে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক আন্দোলনে নিয়ে আসাও হয়।