ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: নাম মাকসুদা পারভিন মৌরি। তবে সহপাঠীরা তাকে এলিয়েন গার্ল বলেই ডাকে। রাজবাড়িতে জন্ম নেয়া এই এলিয়েন গার্ল ঢাকা বিশ্ববিদ্যলিয়ের রসায়ন বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে। তাকে নিয়ে এখন পরিবার, সহপাঠী এবং শিক্ষকদের মাঝে উম্মাদনার শেষ নেই। আনন্দে আত্মহারা ৩.৯৪ পাওয়া মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই তরুণী ও তার পরিবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনঅর্গানিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. আনওয়ারুল ইসলাম বলেন, নতুন পরিবেশে এসে সে যে অর্জন করেছে তা প্রশংসনীয়। এটার পিছনে তার বিভাগের সকল শিকক্ষকদের অবদান রয়েছে। আমার বিশ্বাস, মাকসুদা তার সময়টাকে পড়ালেখায় ব্যয় করেছে বলেই এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। বর্তমানে সে আমার বিভাগের অধীনে মাস্টার্স কোর্স করছে। আমরা আশা করি ভবিষ্যতে আরও ভাল করবে।

মাকসুদার আরেক শিক্ষক ড. এম এ ইমরান কাইয়ুম বলেন, মাকসুদা শুরু থেকেই ক্লাসে খুব মনযোগী ছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সাফল্য। তার মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে যেকোন শিক্ষার্থীরই ভাল ফলাফল করার সুযোগ আছে। তাদেরকে শুধু মনযোগী হতে হবে। মাকসুদাকে দেখে তারা অনুপ্রেরণা পেতে পারে।

মাকসুদার মা জানান, তার কোন ছেলে নেই। মেয়েরা তার ছেলের মত। তার কনিষ্ঠ কণ্যার সাফল্যে তিনি খুব আনন্দিত। ছেলে না থাকার আক্ষেপ মাকসুদা মিটিয়েছেন বলে জানান তিনি। সাফল্যের অবদানের কথা জানতে চাইলে মাকসুদা বলেন, সব থেকে বড় অবদান তার বাবা-মা। শত প্রতিকুলতার মাঝেও তারা আমার পাশে ছিলেন। এছাড়া তার শিক্ষকরা তাকে সকল প্রকার সহায়তা করেছেন। কিসে তাকে অনুপ্রাণীত করেছে জানতে চাইলে মাকসুদা বলেন, তারা ৩বোন। তাই সবসময় নিজেকে ছেলে হিসেবে চিন্তা করে আসছেন। তার মতে, একটা ছেলে যেটা পারে একটা মেয়েরও চেষ্টা করলে তা করা সম্ভব। শুধু প্রচেষ্টার প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তিনি শিক্ষা পেশায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি গবেষণায় মনোনিবেশ থাকতে চান এই মেধাবী।

উল্লেখ্য, ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া মাকসুদা এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+ পেয়ে ২০১২-১৩ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় ৩.৮৮ পেয়ে সকলের নজর কারেন তিনি। চার বছরে তার সিজিপিএ দাঁড়ায় ৩.৯২। যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিপিএ নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।