সাহিত্য ও শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরের দিয়াবাড়ীতে সুবিধাবঞ্চিত ১০০ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাদান করছে আকিজ ফাউন্ডেশন। একইসঙ্গে রাজধানীজুড়ে বাসের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। শনিবার দিয়াবাড়িতে আকিজ ফাউনডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ।

এ সময় আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, সমাজে পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেই আকিজ ফাউন্ডেশেনের বিনামূল্যের এ শিক্ষা কার্যক্রম।

যে সমস্ত বাচ্চারা প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আসছে না এ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তারা উচ্চ-শিক্ষায় শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। এটি একটি অনন্য উদ্যোগ, তাই এটাকে সাধুবাদ জানাই। এ জাতীয় স্কুল কলেজের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত। আমি অল্প সময়ে যেটুক দেখেছি তাতে বুঝতে পেরেছি এখানে একটা মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের এমন মহৎ চেষ্টা সামনে এগিয়ে যাবে সে কামনা করছি।

উদ্বোধন পরবর্তী বক্তব্যে আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা বলেন, আমার স্বপ্ন ছিলো এমন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করার। যেখানে একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি বিভিন্ন বই পড়ানো, ছবি আঁকাসহ আরো আনুসাঙ্গিক লেখাপড়া করানো হবে। মূলত সেখান থেকেই এ উদ্যোগটা নেয়া হয়েছে। সঙ্গে ছিন্নমূল ছেলে-মেয়েদেরই এখানে বিনা পয়সায় পড়ানো হবে। এখানে আমাদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আকিজ গ্রুপ এগিয়ে এসেছে। স্কুলটি শুরু করার পরে দেখলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই স্কুলে পড়িয়ে আমি বেশি আনন্দ পাচ্ছি সেখান থেকেই এ ক্যাপ্পাসগুলোর বিস্তৃতি।

তিনি আরও বলেন, ছোট শিশুদের মন হচ্ছে কোমল। এ সময় তাদের মনে বিজ বপনের সময়। এটা হচ্ছে তাদের ভিতর আস্থার বিজ, দেশ প্রেমের বিজ, সৎ ও ভালো মানুষ হওয়ার প্রত্যয়ে নিয়ে চলবে। মিথ্যা পরিহার করে চলবে। তাইলেই সত্যিকারে মানুষ হিসেবে তারা বেড়ে উঠবে। এসময়টা ছোটদেরকে দিলেই সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কাছে ১৮/১৯ বছরের ছেলেময়ে আসে। তাদের এ শিক্ষাটা দিলেও তেমন কাজে আসে না। আমি এখন আমার এ স্কুল নিয়ে কাজ করতে বেশি উপভোগ করছি। সমাজেরর সচ্ছল মানুষরা এগিয়ে আসলে যে বিনামূল্যে শিক্ষা দেয়া যায় সেটা আমি বিদেশে দেখে এসেছি। সরকারের একার পক্ষে কখনোই এটা সম্ভব নয়। তাই আমাদের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে পিছিয়ে পড়া ছিন্নমূল ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে পাঠদান করিয়ে শিক্ষায় দ্যুতি ছড়াচ্ছে। আকিজ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে শুরুতে ৩ জন শিক্ষক এবং ৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে এ স্কুলের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১,৮০০ জন এবং শিক্ষক ১৫০ জন। ক্যাম্পাস সংখ্যা পাঁচটি। আকিজ ফাউন্ডেশন স্কুল জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রমের ইংরেজি ভার্সন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে উঁচ্চ মাধ্যমিকে বংলা ভার্সন চালু রয়েছে।

এছাড়াও এ স্কুলে পথ শিশুদের জন্য রয়েছে ‘বনফুল’ নামে একটি শিক্ষা কার্যক্রম। যেখানে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তান যারা শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করতে পারে না তাদের জন্যই এ পাঠদান। এ কার্যক্রমে মোহাম্মদপুর, উত্তরা এবং দিয়াবাড়ী এলাকার পথশিশুরা বিনা বেতনে অধ্যয়ন করে থাকে। এর বাহিরে একটি মোবাইল স্কুল রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানটির। যেটি ঢাকার বিভিন্ন বস্তি এলাকায় অবস্থান করে বিনোদনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। আকিজ ফাউন্ডেশনের এ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটির আরো রয়েছে মেধাবৃত্তি, বিনামূল্যে প্রদান ও বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ কার্যক্রম।