মোঃ ইসলাম হোসেন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি::

সিরাজগঞ্জে সরকারি আইন যেন কেউই মানছেনা। তাড়াশ ও উল্লাপাড়ায় ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের হিড়িক পরেছে। ফলে কমে যাচ্ছে ফসলি জমি, সেই সঙ্গে যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় ফসলের মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন।

ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধ করতে গণমাধ্যম কর্মীরা নায়েব থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন ও এসিল্যান্ড পর্যন্ত সরেজমিনে এবং মুঠোফোন যোগাযোগ করে বিভিন্ন স্থানীয় জাতীয় টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোটালে ধারাবাহিক নিউজ প্রচার করেও যেন থামছেনা অবৈধ পুকুর খননের কাজ।

এদিকে পুকুর খননের কাদামাটি আঞ্চলিক ও মহাসড়কের ওপর দিয়ে বহন করার ফলে সড়কগুলো কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইটভাটা মালিকদের লেলিয়ে দেয়া বহিরাগত একশ্রেণির পুকুর ব্যবসায়ী ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের যোগসাজশে কৃষকদের তিন ফসলি আবাদি জমিতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে গভীর গর্ত করে জমির চারদিকে বাঁধ তৈরি করে পুকুর খনন শুরু করেছে। আবার সেই খননের মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে। দশ বছরে তাড়াশ উপজেলায় ভূমি নীতিমালা উপেক্ষা করে আড়াই হাজারের বেশি পুকুর খনন হয়েছে। তাড়াশ সদর এবং নওগাঁ, মাধাইনগর, বারুহাঁস ও মাগুড়াবিনদ ইউনিয়ন এলাকার ফসলি জমিতে সবচেয়ে বেশি পুকুর খনন হয়েছে।

চলতি বছর তাড়াশ সদরের আশপাশের শতাধিক পুকুর খননের কাজ শেষের দিকে। উপজেলায় সব মিলে বর্তমানে চার-পাঁচশ পুকুর খননের কাজ চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ওবায়দুল্লা বলেন তাড়াশে সচেতনার অভাবে অবৈধভাবে তিন ফসলি আবাদি জমিতে গণহারে পুকুর খনন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বাঙ্গালা ইউনিয়নে অন্তত ১৫টি রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১২টি এবং সলঙ্গায় প্রায় ১০টি স্থানে অবৈধভাবে কৃষিজমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে।

এসব পুকুর খনন নিয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অফিস ও উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেননা।

পুকুর খননকারীরা প্রকাশ্যে কৃষিজমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি করলেও স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এতে এসব কৃষিজমি ফসল উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে চিরতরে পুকুর-ডোবায় পরিণত হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করে খুব দূত প্রশাসন যদি অবৈধ পুকুর খনন বন্ধে কঠোর ভূমিকা পালন না করে তাহলে সিরাজগঞ্জ জেলা একদিন ডোবায় পরিণত হবে।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ হাসান খান জানান এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করে অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।