স্পোর্টস ডেস্ক::

প্রথমে সৌম্য সরকারের ঝড়, এরপর শেষ দিকে এসে ঝড় তুললেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সৌম্যর ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর মোসাদ্দেকের ২০ বল হাফ সেঞ্চুরি। এই দুই ঝড়ো ইনিংসের ওপর ভর করে এই প্রথম নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ফাইনাল জিতল বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের এ কাব্যিক জয়ের মূল কারিগর সৌম্য সরকার আর মোসাদ্দেক হোসেন।

ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ২৪ ওভারে ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে মোসাদ্দেকে ঝড়ের সামনে ৭ বল হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২৪ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ২১০ রান। কঠিন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে ১৫.৪ ওভারেই ১৪৩ রানে ৫ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ৪৮ বলে দরকার ৬৫ রান। জয়ের স্বপ্ন কি এবারও অধরা থাকবে? ঠিক এই সময়ই আবির্ভাব মোসাদ্দেকের।

১৮ বলে যখন দরকার ২৭ রান, ম্যাচটা চকিতে নিজেদের হাতের মুঠোয় আনলেন মোসাদ্দেক। অ্যালেনের করা ২২তম ওভারে ৬, ৬, ৪, ৬, ২, ১—২৫ রান তুলে এক ঝটকায় সমীকরণ করে ফেললেন একেবারে সহজ। এরই ফাঁকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও গড়লেন মোসাদ্দেক।

এর আগে ওপেনার সৌম্য সরকারের ব্যাটে জয়ের স্বপ্নটা চওড়া হচ্ছিল খুব। ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে সেটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ৪১ বলে ৬৬ রান করার পর সৌম্য বিদায় নিতেই জয়ের কাজটা ধীরে ধীরে কঠিন হতে শুরু করে।

মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুনরাও চেষ্টা করেন রানের চাকা সমানতালে এগিয়ে নিতে। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় সেটা হয়েছে আরো কঠিন। দলীয় ১০৯ রানের মাথায় রেমন রেইফারের স্পিন ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে লং অনে সেলডন কটরেলের হাতে ধরা পড়েন সৌম্য। মুশফিকুর রহিম করেন ২২ বলে ৩৬ রান। মিঠুনের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ১৭ রান।

এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথমে ব্যাট করে ২৪ ওভারে করে ১৫২ রান। আর ফাইনাল জিততে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রান। জয়ের জন্য ২১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনাই করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকারের উড়ন্ত সূচনার পর ৫.৩ ওভারেই তারা গড়ে ফেলে ৫৯ রানের জুটি। এরপর ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল।

তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমান। কিন্তু যে কারণে তাকে আগে নামানো হলো, সেটা মোটেও কাজে লাগলো না। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কোনো রান না করেই ফিরে গেলেন সাব্বির রহমান। সাকিব আল হাসান না থাকার অভাবটা ভালোই টের পাওয়া গেলো। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু মুশফিককে বিদায় করে দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন রেইফার। মুশফিক বিদায় নেন ২২ বলে ৩৬ রান করে। সেই বিপদ আরও বেড়ে যায় মোহাম্মদ মিঠুন দারুণ কিছু শট খেলে ১৭ রানে ফিরলে। তাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ফাবিয়ান অ্যালেন। এরপর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সৌম্যর গড়ে দেয়া মঞ্চে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবার কোনও টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে মাঠ ছাড়েন মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ।

মোসাদ্দেকের হাতে সমাপ্তি, কিন্তু শুরুটা করেছিলেন সৌম্য সরকার। বাঁহাতি ওপেনারের ৪১ বলে ৬৬ রানের দুর্দান্ত ওই ইনিংসটা গড়ে দিয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের ভিত্তি। বৃষ্টিবাধায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসায় কঠিন লক্ষ্য, আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন—সব বাধা উতরে বাংলাদেশ দূর করেছে অতীতের ৬টি ফাইনাল হারের দুঃখ। লিখেছে নতুন ইতিহাস।