রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি::

এইটা হলো গুড়ের গাছ (আখের রস বের করার মেশিন)। কয়েক বছর আগে গরু বা মহিষ দিয়ে আখের রস বের করা হতো। গরু বা মহিষ দিয়ে ঘুরে ঘুরে এক কড়াই রস বের করতে সময় লাগতো প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘন্টা। আর বর্তমানে যান্ত্রিকতার যুগে গরু বা মহিষের পরিবর্তে শ্যালো মেশিন দিয়ে সময় লাগে মাত্র ৩০ মিনিটের মতো।

আর অপর ছবিটি হলো আখের রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরির। এই রস হতে গুড় তৈরির জন্য জ্বালাতে হয় প্রায় ৫ হতে ৬ ঘন্টা। বর্তমানে খাঁটি গুড় বাজারে পাওয়া কঠিন। চিনির চেয়ে গুড়ের দাম বেশি হওয়ায় চিনি দিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করা হচ্ছে। ফলে গুড়ের আসল স্বাদ ও গুণাগুণ পাওয়া যায় না। গুড়ের ঔষধি গুণও অনেক। গুড় ছাড়া এই শীতের অনেক পিঠার স্বাদ অপূর্ণ থেকে যায়।

আর সরিগুড়ের স্বাদ, তা বলাই লাগে না। ছোট বেলায় গুড় তৈরির শেষ সময়ে বাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে সরিগুড়ের অপেক্ষায় থাকা কি-যে আনন্দের, মনে হতো উৎসব। এই শিল্পটি আজ বিলুপ্তির পথে। আজ গ্রামে গ্রামে গুড় তৈরির দৃশ্য বিলীন। একদিকে আখের আবাদ কমে যাওয়া অপরদিকে সুগারমিল কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা। আর আমরা সাধারণ জনগণ বঞ্চিত হচ্ছি খাঁটি গুড় আর গুড়ের গুণাগুণ ও স্বাদ হতে।