নবাবগঞ্জ-দোহার(ঢাকা) প্রতিনিধি::

অবশেষে ঢাকার দোহারের বহুল আলোচিত প্রায় ৫৪ হাজার ভোটার অধ্যুষিত “দোহার পৌরসভার” নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: রেজাউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পৌরসভা নিয়ে দায়েরকৃত মামলাগুলো বাদীগণ তুলে নেওয়ায়, ৯০ দিনের মধ্যে পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করে উচ্চ আদালত। বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর গঠিত বেঞ্চ এ নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশের কপি গত ৫ আগস্ট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে পৌছায়। আদালতের নির্দেশনা অনুসারে নির্বাচন কমিশন আগামী ১৪ অক্টোবর ২০১৯ দোহার পৌরসভার ভোটের দিনক্ষণ করেছে। নির্বাচনে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো রেজাউল ইসলাম সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের তফসিল অনুসারে ১২ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, ১৫ সেপ্টেম্বর যাচাই বাছাই, প্রত্যাহার ২০ সেপ্টেম্বর ও প্রতিক বরাদ্দ ২১ সেপ্টেম্বর।

উল্লেখ্য যে, দোহার উপজেলার জয়পাড়া, রাইপাড়া, সুতারপাড়া ও মাহমুদপুর ইউনিয়নের আংশিক অংশ নিয়ে, ২০০০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সীমানা জটিলতা ও ভোটার তালিকা নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হওয়ায়, ১৯ বছর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এ দিকে দোহার পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ায়, কে হবেন মেয়র ও কে হবেন কাউন্সিলর এ নিয়ে শুরু হয়েছে পৌর নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে আলোচনার ঝড়।

পৌরসভার বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়া নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করবেন কি জানতে চাইলে বলেন, আর কত অনেক বয়স হয়েছে এখন আর ভালো লাগেনা। তাই নির্বাচন করবো না। দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধীক নেতাকর্মী বলেন, দোহারের পৌর নাগরিকগন দীর্ঘ দিনের হারানো ভোটের অধিকার ফিরে পাচ্ছে। পৌরসভার উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে এই নির্বাচন একটি মাইল ফলক হিসেবে কাজ করবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার উপজেলা বিএনপির বেশ কয়েক জন নেতা বলেন, দলীয় মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহনের বিষয় সিদ্ধান্ত হবে।

দোহার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো রেজাউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ জটিলতা অবসান ঘটিয়ে ১৯ বছর পর দোহার পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনের রেখে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। দোহারবাসীর সার্বিক সহযোগীতা থাকলে নির্বাচন কমিশন পৌরবাসীকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিবে