জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥

চার দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বেড়ে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই ৬ হাজার পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ৪৩ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এলাকায় ৪৩ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত চার দিনের ভারি বৃষ্টি। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। কিছু পরিবার মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) দুপুর থেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি যত বাড়ছে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা দিন দিন ততই বেড়েই চলেছে।

উজানের হালকা ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট ও মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার(১১ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৪৩টি পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেন জেলা প্রশাসক আবু জাফর। তবে এ বন্যা ও জলাবদ্ধতায় সব থেকে বেশি পানিবন্দি হাতীবান্ধা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত কোন প্রকার ত্রান সামগ্রী পৌছেনি। তবে হাতীবান্ধা উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার ফেরদৌস আলম জানান, তার উপজেলার এক হাজার ৩শত পরিবারকে জরুরী ভাবে শুকনো খাবার দিতে তালিকা তৈরী করে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার দফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে খুব শিঘ্রই তাদের মধ্যে বিতরন করা হবে বলেও জানান তিনি।

আদিতমারী উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মফিজুল হক জানান, তার উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামে বুধবার সন্ধ্যায় দুই প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরনের মধ্য দিয়ে ত্রাণ বিতরনের উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা থেকে বরাদ্ধ পেলে বিতরন করা হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার আলী হায়দার জানান, জেলা অফিসের তথ্যানুযায়ী জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি সদর উপজেলার খুনিয়াগাছে মাত্র ৪৩ পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে। জেলা ত্রান তহবিলে এক হাজার ৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ১৫০ মেঃ টন জিআর চাউল ও আড়াই লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। উপজেলা থেকে তালিকা পেলে বরাদ্ধ দেয়া হবে। তবে পানিবন্দির সংখ্যা কতো তার কোন খবর তার কাছে নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ৯ টায় এ পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২.৬০ সেঃমিঃ) বিপদ সীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচে। উজানের হালকা ঢল প্রবাহিত হওয়ায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। গত কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টি অব্যহত থাকায় পানিবন্দি এলাকা স্বাভাবিক হতে পারেনি।