রবিবার, ২৩ Jul ২০১৭ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

সারাদেশ - খুলনা বিভাগ

যশোরে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আসামী নিহত

ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ জনের মৃত্যু

বেনাপোল কাস্টমসে ঈদের ছুটি বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

যশোরকে বিভাগ ও সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবি কাজী নাবিলের

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্রেতাদের পদচারনায় জমে উঠেছে যশোরের ঈদ বাজার

যশোরে কৌশলে মাদক চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় ব্যর্থ এসআই মাহবুবুর রহমান ক্লোজড

ছাত্রলীগ নেতার মোটর সাইকেল জব্দ করার প্রতিবাদে যশোর সদর ট্রাফিক অফিসে ছাত্রলীগের হঠাৎ হামলা, তিন পুলিশ সদস্য আহত

যশোরের মনিরামপুর বাজারে ফরমালিন যুক্ত ইফতারী সামগ্রী ও বিভিন্ন ফলে সয়লাব

সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

ঝিনাইদহে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের নগরতোলা এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মাইদুল ইসলাম রানা ও তার সহযোগী আলিম উদ্দীন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাবের ৩ সদস্য আহত হয়েছে। র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে ২টি বিদেশী বন্দুক ১টি নাইন এম.এম. পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ১ টি হাসুয়া উদ্ধার করেছে। ঝিনাইদহ র‌্যাব-৬ এর কমান্ডার মনির আহমেদ জানান, জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার নাগরতোলা গ্রামের বান্দাবলি নামক স্থানে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে র‌্যাব অভিযান চালায়। র‌্যাব ঘটনাস্থলে পৌছানের পর চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর চরমপন্থীরা পালিয়ে গেলে পূর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মাইদুল ইসলাম রানা ও তার সহযোগী আলিম উদ্দীনকে গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় র‌্যাব উদ্ধার করে স্থানীয় কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার রাত পৌনে ১টার দিকে তাদেরকে মৃত বলে ঘোষণা করে। নিহতদের বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। নিহত মাইদুল ইসলাম রানা কোটচাঁদপুর উপজেলার বকশিপুর গ্রামের মৃত ফকির চাঁদের ছেলে ও তার সহযোগী আলিম উদ্দিন একই উপজেলার বলরামপুর গ্রামের সলেমান মন্ডলের ছেলে।

ঝিনাইদহে নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করলেন কৃষক দুদু মিয়া

নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহে নতুন এক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন দুদু মিয়া নামের এক কৃষক। ইতিমধ্যে ওই জাতের ধানটি এলাকায় দুদু লতা বলে পরিচিতি লাভ করেছে। উচ্চ ফলনশীল ও রোগবালাই প্রতিরোধক এই জাতের ধানটি এখন রবি মৌসুমে চাষ করছেন কৃষক দুদু মিয়া। জানা যায়, ২০১২ সালে সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক দুদু মিয়া সুবললতা ধানের মধ্যে নতুন জাতের ধানের ৩টি গোছা আবিষ্কার করে। পর পর দুই বছর সেই ধান পরিচর্যা করে বীজ তৈরী করে নিজের জমিতে আবাদ শুরু করে। রোগ-বালাই সহিঞ্চু এই ধানের জাতটি উচ্চতায় খাটো হওয়ার কারণে ঝড় বা বাতাসে হেলে পড়ে না। পোকা-মাকড়ের আক্রমন হয় কম। গত বছর কৃষক দুদু মিয়া ৩ বিঘা জমিতে ১’শ মন ধান উৎপাদন করেন। এ বছরও ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। ৩ বিঘা জমির ধান কাটতে শুরু করেছেন তিনি। কিছুদিনের মধ্যেই নতুন ধান তিনি ঘরে তুলবেন। কৃষক দুদু মিয়া জানান, নতুন জাতের এই ধান শীস প্রতি সাড়ে ৩’শ থেকে ৪’শ পর্যন্ত পুষ্ট ধান হচ্ছে। যা অন্যান্যে ধানের শীসে ধানের পরিমান থাকে ১’শ ৮০ থেকে ২’শ। ধানের গাছ আকারে ছোট হওয়ার কারণে ঝড়ো বাতাসে হেলে পড়ে না। এছাড়াও রোগ-বালাই এই ধানে নেই বললেই চলে। ধান গাছটির আকার ছোট হওয়ার কারণে পরিচর্যা করতে তার সুবিধা হচ্ছে। প্রতিটি ধানের শীসে ৩’শ থেকে ৪’শ পুষ্ট ধান হচ্ছে। এর মধ্যে কোন চিটা হয় না যে কারণে ফলন ভালো হচ্ছে। ধান থেকে যে চাল পাওয়া যাচ্ছে তা দেখতে অনেকটা বেগুন বিচির মত। চালের স্বাদও ভালো। দামও ভালো পাওয়া যায়। কৃষক দুদু মিয়ার দাবি ব্রি-বিজ্ঞানীদের সহযোগীতায় প্রক্রিয়া করণের মাধ্যমে দুদুলতা নামে জাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার। স্থানীয় কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, দুদু মিয়া গত কয়েক বছর নতুন ধানের আবাদ করছেন। অন্যদের জমিতে কোন কারণে ধানের ফলন কম হলেও গত কয়েক বছর দেখে আসছি তার নতুন জাতের ধানে ফলন ভালো হচ্ছে। ধানটি দেখতেও ভালো আবার চালও খেতে ভালো। দুদু মিয়ার স্ত্রী রেবেকা খাতুন বলেন, অন্যান্য ধানের চেয়ে এ চাল রান্না করতে সময় কম লাগে। এছাড়াও ভাতে বৃদ্ধি পায়। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামে নতুন জাতের ধানের খবর পেয়ে আমি আমার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত সেখানে পাঠিয়েছি। আমি নিজেও কয়েকবার গিয়েছি। গত ২ বছর যাবত কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষক দুদু মিয়াকে প্রশিক্ষণসহ সকল প্রকার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ধানটি দেখে আমার মনে হচ্ছে এই জাতের ধানটি দেশব্যাপী উৎপাদন করলে ধান উৎপাদনের দেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ব্রি-বিজ্ঞানীরা মাঠ পরিদর্শণ করে ধান সংগ্রহ করেছেন। আশা করছি দ্রুত একটি ভালো খবর পাওয়া যাবে।

ঝিনাইদহের জঙ্গী আস্তানায় অভিযান শেষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামের ২ বাড়ির জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ ঘোষনা করেছে র‌্যাব। আজ বুধবার বেলা ১২ টার দিকে ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পে প্রেস ব্রিফিং করে এ ঘোষনা দেন র‌্যাবের মিডিয়া উইং প্রধান মুফতি মাহমুদ খান। বুধবার সকাল পৌনে ৯টা থেকে ২য় দিনের মত র‌্যাব এ অভিযান শুরু র‌্যাব। ঘটনাস্থল থেকে ২শ’ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিল। র‌্যাবের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আসার পর জঙ্গী আস্তানা থেকে উদ্ধার ২টি সুইসাইডাল ভেস্ট ও ১টি এন্টি মাইন বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এর পরপরই অভিযান শেষ করা হয় বলে মৌখিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে জানানো হয়। মুফতি মাহমুদ খান জানান, সোমবার রাতে বিশেষ অভিযানে সেলিম ও প্রান্ত নামের দুজনকে আটক করে র‌্যাব। পরে তারা তথ্য দেয় কয়েকজন জঙ্গি বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসহ চুয়াডাঙ্গা গ্রামে আত্মগোপন করে আছে। এরই ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই এলাকায় অভিযানে যায় তারা। এসময় ঝিনাইদহের মহেশপুরে জঙ্গি আস্তানার অভিযানে নিহত তুহিনের ভাই সেলিম এবং চাচাতো ভাই প্রান্তের দুটি বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে খুলনা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই একটি বাড়ির বাঁশ বাগানে মাটির নিচ থেকে ২টি সুইসাইডাল ভেস্ট ও পিভিসি সার্কিট বোর্ড ১’শ ৮৬ টি, নিওজেল ১৮ টি, এন্টি মাইন ১ ও বোমা তৈরীর রাসায়নিক কেমিকেল ৪ ড্রাম। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলো স্বল্পতার কারণে ওই দিনের মত অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে বুধবার সকাল পৌনে ৯ টার দিকে ঢাকা থেকে আসা র‌্যাবের বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট, কমান্ডো বাহিনী আবারো অভিযান শুরু করে। আড়াই ঘন্টাব্যাপী চলা এ অভিযানে বিস্ফোরনের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয় উদ্ধার হওয়া ২ টি সুইসাইডাল ভেস্ট ও এন্টি মাইন। পরে অভিযানের সমাপ্তি টানা হয়। বেলা ১২ টার দিকে ঝিনাইদহ র‌্যাব ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন মুফতি মাহমুদ খান। অভিযান ও সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের পরিচালক অপারেশন লে. কর্নেল মাহমুদ, র‌্যাব ৬ এর কমান্ডিং অফিসার এডিশনাল ডিআইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম, ঝিনাইদহ র‌্যাবের অধিনায়ক মেজর মনির আহমেদসহ র‌্যাব কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, গত ৭ মে মহেশপুর উপজেলার এসবিকে ইউনিয়নের বজরাপুর গ্রামে জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি সারারাত ঘিরে রাখার পর ভোরে অভিযানে গেলে আব্দুল্লাহ নামের এক জঙ্গী আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরনে নিহত হয় এবং পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে তুহিন নামের এক জঙ্গী নিহত হয়। এ সময় সিটিটিসি এর এডিসি নাজমুল হাসান, এসআই মুজিবুর রহমান ও এস আই মহাসিন জঙ্গীদের গুলিতে আহত হয়। এ সময় পুলিশ জঙ্গী আস্তানার বাড়ির মালিক নব্য জেএমবির সদস্য জহুরুল ও তার ছেলে জসিমকে আটক করে। এর পর বিকালে ওই বাড়ি থেকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সদস্য বাড়ি থেকে বিস্ফোরক, পিস্তল, গুলি উদ্ধার করে। ঐ অভিযানের নাম দেওয়া হয় “সাটল স্পীল্ট” একই দিন সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামে মৃত শরাফত হোসেনের বাড়িতে জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ সময় তার শরাফত হোসেনের ছেলে নব্য জেএমবির সমন্বয়ক শামিমকে আটক করে। পুলিশ ঐ বাড়ি থেকে ৮টি বোমা, ১টি পিস্তল, ৬টি গ্রেনেড উদ্ধার করে। এর আগে গত ২২ এপ্রিল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনেপাড়ায় জাঙ্গী আস্তানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে একটি নব্য জেএমবির নেতা আব্দুল্লাহর বাড়ি ঘিরে রাখে। এর পর অভিযান শেষে রাসায়নিক ভর্তি ২০টি কন্টেনার, ১টি পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন, ৭ রাউন্ড গুলি, বিপুল পরিমানের বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে। ঐ অভিযানের নাম দেওয়া হয় “সাউথ প”। অপারেশন শেষে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন ওই বাড়িটি জঙ্গীদের বোমা তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

ঝিনাইদহের লেবুতলার জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ

নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের লেবুতলা গ্রামের জঙ্গি আস্তানা শরাফত হোসেন মন্ডলের বাড়ীতে অভিযান “সাটল স্পিøট” শেষ হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে খুলনা রেঞ্জের ডি আই জি দিদার আহম্মেদ আনুষ্ঠানিক ভাবে এ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। তিনি বলেন, এ জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক বাড়ির মালিকের ছোট ছেলে শামীম অঞ্চলের নব্য জেএমবির সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করত। তিনি আরো বলেন, জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত ৭ টি গ্রেনেড ও একটি বোমার বিস্ফরণ ঘটানো হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে একটি নাইন এম এম পিস্তল ৩ রাউন্ড গুলি ও বেশ কিছু ডিভাইজ। এর আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ, এডিশনাল ডিআইজি হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নেতৃত্ব দেন। অভিযানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও জেলা পুলিশ অংশ নেয়। এ ছাড়া কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি আব্দুল মান্নান, এডিসি সাইফুল ইসলাম ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান আবুল বাশার উপস্থিত ছিলেন। খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি দিদার আহমেদ গতরাত ৯ টার দিকে জানিয়েছিলেন, রাতে মহেশপুরের বজরাপুরের হটাৎপাড়ায় অপারেশন “সাটল স্পিøট” শেষ করা হয়েছে। সোমবার সকালে সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় আবারো শুরু করা হবে। তারই অংশ হিসাবে অভিযান চালানো হলো। গ্রামটিতে এখনও পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা অবস্থান করছেন। তবে স্থানীয় লোকজন বাসাবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

গরমে কালীগঞ্জের পাখা পল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়ছে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ গ্রীষ্মের গরমে শরীরে শান্তির পরশ বুলিয়ে দিতে তাল পাখার জুড়ি নেই। আর এই তালপাখা তৈরির জন্য দেশের বেশ কিছু এলাকা বিশেষভাবে সুপরিচিত। তারই একটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা। এখানে গরমের শুরুতেই পাখাপল্লীর কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। পাখা ব্যবসায়ীদের হাঁক-ডাক আর ঘরে ঘরে কারিগরদের কাজে এই উপজেলার দুই গ্রামের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবারে এখন ভীষণ গরম হাওয়া বইছে। সরেজমিন কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পারিয়াট ও রায়গ্রাম ইউনিয়নের দুলালমুন্দিয়া গ্রামে যেয়ে দেখা যায়, কেউ পাতা কেটে সাইজ করছে, কেউ সেলাই করছে, কেউ সুতা ও বাঁশের শলাতে রং করছে। কেউ পাখার বোঝা বাধছে। আবার কেউ পাইকারী ক্রেতাদের সাথে বকেয়া হিসেব ও আপ্যায়নে ব্যস্ত। কাজের ব্যস্ততায় শরীর ঘেমে মাটিতে পড়লেও নিজেদের তৈরি তাল পাখার বাতাস নেওয়ার সময় তাদের নেই। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পাখা পল্লী খ্যাত দুলালমুন্দিয়া ও পারিয়াট গ্রামে বর্তমান এ অবস্থা বিরাজ করছে। দুলালমুন্দিয়া গ্রামের মজনু, ফজলু, রহমত, বিল্লাল, গফুর, মান্নান, জিন্নাত, চাঁন মিয়া, নুর আলী, আব্দুল বারিক, মোস্তফা ও আব্দুর রহিম সাথে। তারা জানায়, তাদের পূর্ব পুরুষেরা এই পাখা তৈরীর কাজ করতেন। পূর্ব পুরুষদের পেশাটাকে ধরে রাখার জন্য এখনো তারা পাখা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। কালীগঞ্জের দুলালমুন্দিয়ার ৫০টি পরিবার ও পারিয়াট গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার তাল পাখা তৈর করে জীবন জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। জন্মগতভাবে এ পেশাটাকে পেয়ে থাকে বলেই তাদের ছেলেমেয়েরাও বিভিন্ন নকশার পাখা তৈরীতে পারদর্শী। পাখা কারিগর জানায়, হাত পাখার তৈরীর প্রধান উপকরণ তাল পাতা এই এলাকাতে পাওয়া যায় না। শীত মৌসূমে নড়াইল, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চারা গাছের পাতা কিনে আনেন তারা। তারপর পাতা রোদে শুকিয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। পরে পানি থেকে উঠিয়ে নরম ভেজা পাতা গোলাকার করে কেটে মাঝখান থেকে দু-খন্ড করেন। এরপর বোঝা বেধে পাতা ঘরে রেখে দেন। পরে আবার তা পানিতে ভিজিয়ে ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখেন এবং সেখান থেকে নিয়ে সারাবছর বাড়ীতে বসে তালপাখা তৈরী করেন। একটি তাল পাতা থেকে দুটি তালপাখা তৈরী হয়। তিনি আরও জানান, পুঁজি না থাকায় এবং অনেক দূর থেকে পাতা কেনার কারণে পরিবহনে অনেক বেশি খরচ পড়ে যায়। কারিগর মজনু মিয়া জানান, বছরে ২/৩ মাস তাল পাখার বেশী চাহিদা থাকে। চৈত্র থেকে শুরু করে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যস্ত বিক্রির মৌসূম হলেও চৈত্র ও বৈশাখ মাসই পাখা বিক্রির উপযুক্ত সময়। প্রচন্ড তাপদাহ ও বিদ্যুতের লোডশেডিং এ সময়টাতে বেশী হওয়ার কারণে এসময়টাতে তাল পাখার কাটতি বেশী হয়ে থাকে। ফলে এ সময় তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের অন্যান্য মাসে তালপাখার তৈরীর কাজ ও বিক্রি চললেও শীত আসলে বিক্রি বন্ধ। তাই তারা শীতের আগমনকে ভয় পায়। তিনি জানান, পরিবারের ছোটরাও বাবা মায়েদের ব্যস্ততা দেখে বসে থাকতে পারে না। পড়াশুনার পাশাপাশি পাখা তৈরীর বিভিন্ন কাজ করে তারা বড়দের সাহায্য করে। নুর আলী নামের একজন কারিগর জানান, গত বছরগুলোর চেয়ে এবছর একটি পাখাতে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ টাকা। কিন্তু লাভ হচ্ছে কম। কারণ প্রতিটি জিনিসেরই দাম বেশী। তিনি জানান, প্রতিটি পাখায় তৈরি পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা খরচ হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ টাকা টাকা। অবশ্য পাইকার ব্যবসায়ীরা উপরোক্ত দামে পাখাগুলি তাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। তারা একটি পাখা ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে। অবশ্য খুব গরমের মধ্যে হাত পাখার চাহিদা বেশি হওয়ায় সে সময় একটি পাখা তারা ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করে। পারিয়াট গ্রামের সলেমত মালিথার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের পরিবার ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে পাখা তৈরির কাজ করছেন। এছাড়া তাদের গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার পাখা তৈরির সাথে জড়িত। ওইসব বাড়ির স্ত্রী, কন্যা ও পুত্র সন্তানরা লেখাপড়ার পাশাপাশি পাখা তৈরি কাজ করেন। তার পরিবারে তিন জন (স্ত্রী, পিতা ও নিজে) পাখা তৈরির কাজ করেন। তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, পাখা তৈরি করতে রং, সুতা, বাঁশ, কুঞ্চি, তালের পাতার প্রয়োজন হয়। একটি তালের পাতা ৫ টাকা দরে তারা ক্রয় করে থাকেন। আর যারা পাখা সেলাইয়ের কাজ করেন তারা পাখা প্রতি ১ টাকা করে পান। যারা ১০০ জাড়াসোলার কাজ করে তারা ১০ টাকা পান। সব মিলিয়ে একটি পাখা তৈরি করতে ৮ টাকা বেশি খরচ হয়। বিক্রি করেন ১০ থেকে ১২ টাকায়। একজন কারিগর প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ টি তালপাখা তৈরী করতে পারেন। ফলে প্রতিটি কারিগর বিক্রির মৌসূমে দিনে যাবতীয় খরচবাদে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে পারেন। পাইকাররা এখন বাড়ী থেকেই পাখা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে পরিবহন খরচ থেকে রেহাই পাচ্ছেন। বর্তমানে তাদের তৈরি করা পাখা ঝিনাইদহ জেলা ছাড়াও এখন চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা, আলমডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তাদের গ্রামে আইনাল, মিন্টু, আমজাদ, ঝন্টু, সাহেব আলী, বাদশা, আব্বাস, আইজলী, মাসুদ, ইব্রাহিম বিশ্বাসের পরিবার ছাড়া প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার পাখা তৈরির সাথে জড়িত। আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের পুঁজি কম। তাই অল্প পুঁজি নিয়ে এ পেশা এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার যদি পাখা কারিগরদের বিনামূল্যে ঋণের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে এ শিল্পকে ধরা রাখা যেত। জোছনা নামের এক গৃহবধু জানান, তালপাতা দিয়ে পাখা তৈরী করে, শরীর ঘেমে মাটিতে পড়লেও বাতাস নেওয়ার সময় তাদের হয় না। কারণ রান্নবান্না ও গৃহস্থলীর কাজের পাশাপাশি তাদেরকে পাখা তৈরীর কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ছাদেকুর রহমান জানান, পাখা পল্লীতে আমরা একটি প্রোগ্রাম করবো। আমাদের সরকারি যেসব ডিপারমেন্ট আছে সেই সব কর্মকর্তাদের সাথে নিয়েই আগামী সপ্তাহে একটি প্রোগ্রাম করা হবে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং যারা এ পেশার সাথে জড়িত তাদের পরিবারের উন্নয়ন করার জন্য সাধ্য মত চেষ্টা করা হবে।

কালীগঞ্জে নিজের বাল্যবিয়ে নিজেই প্রতিরোধ করলো রত্না!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ‘স্যার, আমি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। আমার বিয়ের বয়স হয়নি। আমি আরো পড়াশুনা করতে চাই। কিন্তু আমার পরিবারের লোকজন জোর করে আমাকে বাল্যবিয়ে দিচ্ছে। আমি বিয়ে করতে চাই না আমার বাল্য বিয়েটি আপনি বন্ধ করুন এমন কথা জানিয়ে বুধবার রাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমানের কাছে ফোন করে রত্না খাতুন (১৬) নামে এক কিশোরী। রত্না আড়পাড়ার বাক্কু মিয়ার মেয়ে। এরপর রাতে ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বাল্য বিবাহ বন্ধ করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছাদেকুর রহমান বলেন, মেয়েটি বিকেলে বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য আমাকে ফোন করে। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমি মেয়েটির বাড়িতে যাই। পরিবারের লোকজনকে বুঝিয়ে তার বিবাহ বন্ধ করি। মেয়েটি লেখাপাড়া করতে চায়। সমাজের অন্য মেয়েরা যদি এভাবে বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাহলে একদিন এ উপজেলা বাল্য বিবাহ মুক্ত হবে। সে সময় কালীগঞ্জ থানার এসআই নিরব হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

আরো একটি বাড়ি নির্মাণ করছিল জঙ্গী আব্দুল্লাহ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহে ধর্মান্তরিত হওয়া জঙ্গী আব্দুল্লাহ আরো একটি বাড়ী নির্মাণ করছিল। শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে কংশী গ্রামে ১০ শতক জমির উপর বাড়িটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল সে। কংশী পূর্ব পাড়ার ফারুক হোসেনের কাছ থেকে দেড় মাস আগে সে ১০ শতক জমি ক্রয় করে। আলমসাধু (স্যালো ইঞ্জিন চালিত যান) চালিয়ে সাধারণভাবে জীবন যাপনের অধিকারী আব্দুল্লাহ একের পর এক জমি কিনে বাড়ি করার ঘটনায় তার আয়ের উৎস নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। জঙ্গী না হলে এত টাকা কোথায় পাচ্ছে তা নিয়ে ওই এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। কংশী পূর্বপাড়ার ফারুক হোসেন জানান, তিনি শহরের একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। গত দেড় মাস আগে আব্দুল্লাহ ১০ হাজার টাকা শতক দরে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ১০ শতক জমি কিনেন। এর কিছুদিন পর আব্দুল্লাহ তার নামে জমিটি রেজিস্ট্রে করে নেয়। কংশী গ্রামের কাশেম মণ্ডল জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে হঠাৎ করে তার বাড়ির সামনে ইট, বালি, বাঁশ ফেলতে থাকে এক ব্যক্তি। পরে দেখেন, তার বাড়ির সামনের জমিতে অপরিচিত এক ব্যক্তি পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু যারা বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন তারা এলাকার পরিচিত রাজমিস্ত্রি ছিল না। ওই মিস্ত্রিদের এলাকার কেউ চিনেও না। মিস্ত্রিদের মধ্যে একজনের বাড়ি কুষ্টিয়ায় ও অপরজনের বাড়ি ঝিনাইদহ বাইপাসে বলে পরিচয় দিত। তবে কুষ্টিয়ায় কোথায় বাড়ি তা সে বলতো না। অপরদিকে যার বাড়ি বাইপাসে সে আবার এলাকাবাসীর কাছে জানতে চাইতো ঝিনাইদহ বাইপাসে কিভাবে যাবো? ওই দুই মিস্ত্রিদের এসব কথা শুনে তাদের প্রতি সন্দেহ পোষন করে এলাকাবাসী। যদি তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া বা বাইপাসে হবে তাহলে তারা ঝিনাইদহ বাইপাস চিনবে না কেন? বয়স্ক কাশেম মণ্ডল আরো জানান, মানুষ গ্রাম থেকে শহরে যেয়ে বাড়ি করে আর শহরের লোক গ্রামে এসে বাড়ি করছে দেখে তিনি আশ্চর্য হন। তিনি আরো জানান, যে মিস্ত্রিরা বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিল তারা সেখানে টিনের ছাপড়ি (ঘর) করে থাকতো। কখনো তারা বাইরে বের হতো না। রাস্তায়ও আসতো না। এমনকি পাশের চা’র দোকানেও চা খেতে যেত না। এটা দেখে তাদের সন্দেহ হয় যে এরা কেমন মানুষ। সকালে ও সন্ধ্যায় এসে ওই বাড়ির মালিক (আব্দুল্লাহ) মটরসাইকেলে করে মিস্ত্রিদের ভাত দিয়ে যেত। একই গ্রামের আব্দুর রহমান বলেন, আমি ওই মিস্ত্রিদের সাথে ডে লেবারের কাজ করতাম। সেখানে ৪টি রুম ও দুইটি বাথরুম বিশিষ্ট বাড়িটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। মিস্ত্রিরা কারো সাথে বেশি কথা বলতো না। কোথাও যেত না। রাতে ওই টিনের ছাপড়ার মধ্যে থাকতো। তারা অনেকটা আজম মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, শুক্রবার বিকেলে পোড়াহাটির ঠনঠনে পাড়ার জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পূর্বে ওইদিন দুপুরে দুই মিস্ত্রি কাজ ফেলে দ্রুত গ্রাম ছেড়ে চলে যান। এর কয়েক ঘন্টা পর তিনি জানতে পারেন পোড়াহাটি আব্দুল্লাহ বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তিনি ধারণা করেন, জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার সাথে মিস্ত্রিরাও জড়িত। তা না হলে তারা দ্রুত পালিয়ে যাবে কেন? অপরদিকে আব্দুল্লাহর মা সন্ধ্যা রানী জানান, তার তিন ছেলে। এদের মধ্যে প্রভাত (আব্দুল্লাহ) সবার ছোট। প্রায় ১৫ বছর আগে সে পোড়াহাটির শরিফুলের তেল পাম্পে কাজ করতো। সে সময় তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হয় পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল লতিফের সাথে। ৯ বছর আগে জানতে পারেন তার ছেলে মুসলমান হয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞাসা করলে বাড়িতে সে তা প্রকাশ করতো না। তার কয়েক বছর পর জানতে পারেন ছেলে আব্দুল্লাহ ওই বন্ধুর মেয়ে ফাতেমা ওরফে রুবিনাকে বিয়ে করেছে। ধর্মান্তরিত হবার পর আব্দুল্লাহর আচার আচরণে অনেক পরিবর্তন লক্ষ করে তারা। কথায় কথায় রাগসহ সকল কে মারপিট করতে উদ্যত্ত হতো। এক পর্যায়ে ধানহাড়িয়া গ্রামের বাড়ি থেকে আব্দুল্লাহ জোরপূর্বক ৪টি গরু, ৩টি ছাগল নিয়ে যায়। এছাড়া ঘর-বাড়ি, জায়গা-জমি বিক্রি করার জন্য তার মা কে মারপিট করতো। জোর করে বাড়ির জমির দলিল নিয়ে নিত। সেই সময় তার সাথে চুয়াডাঙ্গা গ্রামের আতার ছেলে তুহিন বডিগার্ড হিসেবে থাকতো। একই কথা বলেন, আব্দুল্লাহর ভাই বিপুল বিশ্বাস। তারা অভিযোগ করেন প্রভাত কে ধর্মান্তরিত করে জঙ্গী বানানোর পিছনে চুয়াডাঙ্গা গ্রামের লতিফই দায়ি। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে লতিফ তার মেয়েকে আব্দুল্লাহর সাথে বিয়ে দিয়েছে। অপরদিকে চুয়াঙ্গায়া গ্রামের আব্দুল লতিফের বাড়িতে গিয়ে দেখে গেছে, সেখানে কেউ নেই। চারিদিকে ধান ক্ষেত আর ফাঁকা মাঠের মধ্যে লতিফের একটি ছাপড়ির বাড়ি রয়েছে। তার বাড়ির পাশে অন্য কারো বাড়ি-ঘর নেই। সেখানে যাওয়ার কোন রাস্তাও নেই। মাঠের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। বর্ষার সময় সেখানে পানি জমে। এলাকাবাসী জানায়, লতিফ রিক্সা ও ভ্যান চালাতো। এলাকায় কারো সাথে সে মিশতো না। কোন ঝামেলায়ও জড়াতো না। তবে জঙ্গী আস্তানায় অভিযানের খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। আর তার স্ত্রী মাজেদা খাতুনকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। এদিকে পোড়াহাটির ঠনঠনে পাড়ার জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর ঝিনাইদহ সদর থানায় শনিবার একটি মামলা হয়েছে। আস্তানার মালিক আব্দুল্লাহ ও তার স্ত্রী ফাতেমা ওরফে রুবিনার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮জনসহ ১০ জনের নামে মামলাটি হয়েছে। যার মামলা নং ৪৯। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার বিশ্বাসকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত গত শুক্রবার (২২ এপ্রিল ২০১৭) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে পোড়াহাটি গ্রামের আব্দুল্লাহর বাড়িটি ঘিরে রাখে। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহম্মেদ ভোর ৬ টা পর্যন্ত অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন। পরদিন অর্থাৎ গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ৯ টা থেকে অপারেশন সাউথ প শুরু করেন। অপারেশন চলাকালে ওই বাড়ি থেকে থেকে ২০ ড্রাম হাইড্রেজেন পার অক্সাইড, ১৫ টি জিহাদী বই উদ্ধার করে। এ সময় ৫ দফায় ৫ টি শক্তিশালী বোমা নিস্ক্রিয় করে বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্য। অপারেশনে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম, র‌্যাব, পুলিশ, পিবিআই, এলআইসি, বোমা ডিসপোজাল ইউনিট, খুলনা রেঞ্জ পুলিশসহ ৪ শতাধিক আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অভিযান শেষে সেখান থেকে ২০ ড্রাম হাইড্রজেন পার অক্সাসাইড, ১০০ টি প্যাকেট লোহার বল, ৩টি সুইসাইডাল ভেষ্ট, ৯টি সুইসাইডাল বেল্ট, বিপুল পরিমান ইলেকট্রিক সার্কিট, ১৫ টি জিহাদী বই, ১ টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগজিন, ৭ রাউন্ড গুলি, ১টি মোটরসাইকেল, ১টি চাপাতি, বিপুল পরিমান বিস্ফোরক, ৬টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি সুইসাইডাল ভেষ্ট ও ২ টি বোম নিস্ক্রিয় করা হয় বলে ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি শেখ দিদার আহম্মেদ জানান। সংবাদ সম্মেলনের সময় খুলনা রেঞ্জের এডিশনাল ডিআইজি হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুর রউফ মন্ডল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা, বোম ডিস্পোজাল ইউনিটের প্রধানসহ গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সকল জেলা রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা হবে-রেলমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ বাংলাদেশের সকল জেলা রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা হবে বলে জানিয়েছে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। আজ মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাবদারপুরে নবনির্মিত প্লাট ফরম এবং হাই লেভেল প্লাটফর্মের উদ্বোধন কালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, খুলনা থেকে দর্শনা পর্যন্ত রেল লাইন ডবল লাইনে উন্নিত করা হবে। এতে রেল ভ্রমনে সময় কম লাগবে ও আরামদায়কও হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে বিএনপি জামায়াতের আমলে রেলের কোন উন্নয়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশে উন্নয়ন হয়। রেলওয়েতে আগে ৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট ছিল। কিন্তু বর্তমানে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা রেলের উন্নয়নে বরাদ্দ করা হয়েছে। রেলের এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন রেল লাইন নির্মাণ করা হবে। রেলওয়ের সচিব ফিরোজ সালাহ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মহেশপুর-কোটচাঁদপুর আসনের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ, কালীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার, রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার। অনুষ্ঠানের সভাপতি রেল সচিব বলেন, যমুনা সেতু হয়ে আরও একটি রেল সেতু নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। অনুষ্ঠানের শেষে নবনির্মিত প্লাট ফরম এবং হাই লেভেল প্লাটফর্মের উদ্বোধন করে প্রধান অতিথি।

বাড়িটি ছিল জেএমবির বোমা তৈরির কারখানা

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রেপাট:: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনে পাড়ায় যে বাড়িতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়েছে সেটিকে জঙ্গিদের বোমা তৈরির কারখানা বলে মনে করছে পুলিশ। ওই বাড়িতে অপারেশন ‘সাউথ প’ (দক্ষিণে থাবা) সমাপ্ত ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। আজ শনিবার (২২ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি জানান, ‘ঠনঠনে পাড়ার ওই আস্তানায় কোনও জঙ্গি পাওয়া যায়নি। তবে আমাদের কাছে খবর আছে এখানে তিন-চার জন জঙ্গি ছিল। তারা আগেই পালিয়ে গেছে। তবে এই জঙ্গিদের সবাই জেএমবি ও নব্য জেএমবির সদস্য। আর এই বাড়িতে যে পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া গেছে তাতে বাড়িটিকে বোমা তৈরির কারখানা বলা যেতে পারে। এই বাড়িতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিভাগীয় পর্যায়ের লোকজন আসা যাওয়া করতো। এই বাড়িতে অভিযান সম্পন্ন হলেও আমাদের জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা চলবে।’ ডিআইজি জানান, শুক্রবার বিকাল ৫টা থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। শনিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে অপারেশন ‘সাউথ প’ শুরু হয়। অভিযান শেষ হয় বেলা ২টায়। প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের অভিযানে ঝিনাইদহের সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনে পাড়ায় জঙ্গি আস্তানা থেকে বিস্ফোরক তৈরি রাসায়নিক ভর্তি ২০টি ড্রাম, একটি সেভেন পয়েন্ট সিক্স বোরের পিস্তল, একটা ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচটি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ৩০ জন এবং খুলনা রেঞ্জের পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৪০০ সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন। অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ বাড়ির ভেতর থেকে ১৫টি জিহাদি বইও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিআইজি দিদার আহম্মদ বলেন, “শুক্রবার বিকাল ৬টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি গ্রামের আব্দুল্লাহর বাড়িকে ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ঘিরে রাখে পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সে জেএমবির সদস্য। আব্দুল্লাহ পাঁচ বছর আগে সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।” উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের পোড়াহাটি গ্রামের ঠনঠনে পাড়ার আব্দুল্লাহর টিনসেট বাড়ি ঘিরে ফেলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর ঢাকা থেকে সিটিটিসি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

প্রধান সংবাদ

যশোরে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আসামী নিহত

ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৩ জনের মৃত্যু

বেনাপোল কাস্টমসে ঈদের ছুটি বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

যশোরকে বিভাগ ও সিটি করপোরেশন ঘোষণার দাবি কাজী নাবিলের

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্রেতাদের পদচারনায় জমে উঠেছে যশোরের ঈদ বাজার

যশোরে কৌশলে মাদক চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় ব্যর্থ এসআই মাহবুবুর রহমান ক্লোজড

ছাত্রলীগ নেতার মোটর সাইকেল জব্দ করার প্রতিবাদে যশোর সদর ট্রাফিক অফিসে ছাত্রলীগের হঠাৎ হামলা, তিন পুলিশ সদস্য আহত

যশোরের মনিরামপুর বাজারে ফরমালিন যুক্ত ইফতারী সামগ্রী ও বিভিন্ন ফলে সয়লাব

সাতক্ষীরায় স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা


সর্বশেষ সংবাদ

যশোরে দুই মাদক ব্যবসায়ীর ‘গোলাগুলিতে’ নিহত ২

ঝিনাইদহে ছেলের হাতে বাবা খুন!

মোরেলগঞ্জে ট্রলারডুবি: ৪ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ অর্ধশত

কুষ্টিয়ায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসি

সাতক্ষীরায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ২ ডাকাত নিহত

যশোরে সফটওয়্যার পার্কের কাজ সম্পন্ন, মে মাসে উদ্বোধন

চুয়াডাঙ্গায় বাস-ভটভটি মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

ভালবাসা দিবসে ‘অরণ্যের’ প্রতি পুলিশের ভালবাসা

অস্বাভাবিক সরকার গঠনই খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্য: ইনু


আজকের সব সংবাদ

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com