রবিবার, ২৩ Jul ২০১৭ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

সারাদেশ - রংপুর বিভাগ

শ্বশুর বাড়ি থেকে জামাইয়ের মরদেহ উদ্ধার

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ শ্বশুর বাড়ির পাশ থেকে ফারুক হোসেন (২৬) নামে এক জামাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত জামাই ফারুক হোসেন উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের বৈরাতী হাজিরহাট এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে। আজ শনিবার দুপুরে কালীগঞ্জ উপজেলার সরিষাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের একটি আম গাছ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩ বছর আগে ফারুকের সাথে বিয়ে হয় একই এলাকার আমিনগঞ্জ গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে আফরোজার। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে উভয় পরিবারের মাঝে সম্পর্কের দুরত্ব তৈরী হয়। এরই জের ধরে গত ৯ দিন আগে নিহতের স্ত্রী অভিমান করে আমিনগঞ্জে বাবার বাড়ি চলে যান। স্ত্রীর অভিমান ভাঙ্গিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসতে গতকাল শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শ্বশুর বাড়ি যান ফারুক। শনিবার সকালে শ্বশুর বাড়ির পাশে সরিষাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের আমগাছে ঝুলে থাকা তার নগ্ন মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে স্থানীয়দের খবরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নগ্ন মরদেহ গাছে ঝুললেও পা দুটি মাটিতে থাকায় স্থানীয়দের ধারনা কেউ তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে গাছে ঝুলে রেখেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) রাজু আহম্মেদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এদিকে, এটিকে হত্যাকান্ড দাবি করে নিহতের পরিবার কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কালীগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মকবুল হোসেন জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মর্গের ময়না তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি-বি সার্কেল) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানান, মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মর্গের ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে।

লালমনিরহাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছেন তদন্ত টিম। আজ মঙ্গলবার দিনভর ৪ সদস্যের ওই তদন্ত টিমের নেতৃত্ব দেন জেলা নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুর রহমান। এ সময় তদন্ত টিমের কাছে নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। পরে তদন্ত টিম নিহত খোরশেদ আলমের মোবাইল ফোনটি জব্দ করে নিয়ে যায়। তদন্ত টিমকে ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মজিবর রহমান মজি বলেন, ঘটনার আগের রাতে হাতীবান্ধা বিদ্যুতের আবাসিক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম আমার গুদাম ঘরের কাছে নিহত বিদ্যুৎ শ্রমিক খোরশেদ আলমকে ডেকে রাতেই ছিড়ে পড়া বিদ্যুৎতের তারটি মেরামত করতে চাপ দেয়। পরে খোরশেদ আলম পরের দিন সকালে মেরামত করে দিতে চাইলে তাকে বিদ্যুতের তার দিয়ে প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম চলে যায়। ঘটনার দিন সকালে আমার সামনেই খোরশেদ আলম হাতীবান্ধা বিদ্যুতের আবাসিক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলামকে ফোন দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ করে বিদ্যুতের খুটিতে উঠেন। তারপর হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু হলে সেখানেই ৪ জনের মৃত্যু ঘটে। নিহত খোরশেদ আলমের ভাই আসাদুজ্জামান আসাদ তদন্ত টিমকে বলেন, মোবাইল কললিস্ট দেখলেই এটি যে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড তা বের হয়ে আসবে। এ হত্যাকান্ডের সাথে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হওয়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার সঞ্চালন চালু হয়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিদ্যুতের বিল বিতরণকারী লিফটন ও রবিউল পালিয়ে যায়। নিহত মিল্টনের ভাই হাসান রাজীব তদন্ত টিমকে বলেন, হাতীবান্ধা বিদ্যুতের আবাসিক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, বিল বিতরণকারী লিফটন ও রবিউলসহ বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। আমরা তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার দাবী করছি। তিনি বলেন, তদন্ত টিম নিহত ৪ পরিবারের ৪ জন, প্রত্যক্ষদর্শী ৩ জন ও স্থানীয় ৫ জন নিরপেক্ষ লোকজনের লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন। এসময় তদন্ত টিমের সাথে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত টিমের প্রধান লালমনিরহাট জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আমিনুর রহমান তদন্ত শেষে উপস্থিত নিহত ৪ পরিবারের সদস্যদের বলেন, আমরা নিহত ৪ জনের জীবনের মুল্য দিতে পারব না। আপনাদের বক্তব্য নিলাম। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের বক্তব্য নিবো। যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেই উর্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের কাশিম বাজার এলাকায় বিদ্যুতের তার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলায় ৪ বিদ্যুৎ জনের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবী করে ওইদির থেকেই স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যুৎ শ্রমিকরা আন্দোলন করে আসছে।

ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় (৫৬) এক ব্যক্তির মৃত্যুু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রেলরুটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম বেজগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। লালমনিরহাট রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ওসি মনিরুজ্জামান জানান, সকালে পশ্চিম বেজগ্রাম এলাকায় রেললাইনে ওই ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। হাতীবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নূরন্নবী মিয়া জানান, ধারণা করা হচ্ছে বুধবার রাতে লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারীগামী লোকাল ৪৫৬ নম্বর ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মাত্র সাতশ টাকার জন্য প্রাণ হারালো ৪ জন

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট থেকে॥ মাত্র সাতশ টাকার জন্য ৪টি তাজা প্রাণ অকালেই ঝড়ে গেল। ঝড়ে ছিড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তার মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি এলাকার শামছুদ্দিনের ছেলে স্থানীয় বিদ্যুত ইলেক্ট্রেশিয়ান খোরশেদ আলম (৪৫), একই এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে স্থানীয় বিদ্যুত ইলেক্ট্রেশিয়ান ফেরদৌস আলম (২৮), গোলাপ মিয়ার ছেলে উকিল (২৫) ও ওই এলাকার জোনাব আলীর ছেলে উত্তর বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মিলটন মিয়া (২৪)। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ঝড়ে ছিড়ে যায় ওই উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের কাছিম বাজার এলাকার ৩৩ হাজার ভোল্টেজের লাইন। এতে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকার। ছিড়ে পড়া বিদ্যুতের তার মেরামত করতে নিজেরা না এসে মোবাইল ফোনে স্থানীয় ইলেক্ট্রোশিয়ানদের সাথে চুক্তি করে বিদ্যুত বিভাগ। এতে ইলেক্ট্রেশিয়ানরা এক হাজার দুইশত টাকা দাবি করলে প্রথম দিকে বিদ্যুত বিভাগ তাদেরকে সাতশ টাকা দিতে রাজি হয়। কাজের টাকা নিয়ে ইলেক্ট্রেশিয়ানদের সাথে কথা কাটাকাটিও হয় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের কথামত আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে কাজ শুরুর আগে মেইন লাইনে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন করা হলে উকিল মিয়া নামে এক ইলেক্ট্রেশিয়ান পিলারে উঠেন। বাকী ৩জন ছিড়ে পড়া তার উপড়ে তুলে দিচ্ছিলেন। এমন সময় বিদ্যুৎ বিভাগের অসাবধানতা বশত হঠাৎ লাইন চালু হলে বিদ্যুতস্পৃষ্ট হয় ৪জন। পিলারে থাকা উকিল ছিটকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন এবং নিচে থাকা খোরশেদ আলম, ফেরদৌস ও মিলটন হোসেন তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত উকিলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকেও মৃত্যু ঘোষনা করেন। একই সঙ্গে ৪টি মরদেহ কখনই দেখেননি স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ভেলাগুড়ি কাছিম বাজার এলাকায় বইছে শোকের মাতম। বন্ধ হয়ে পড়েছে বাজারের বিকিকিনী। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ এলাকায় বিদ্যুতের কোন সমস্যা হলে বিদ্যুত বিভাগকে ডেকেও পাওয়া যায় না। তারা নিজেরা না এসে স্থানীয় ইলেক্ট্রেশিয়ানদের দিয়ে সমাধান করেন। নিহতেদের বন্ধু কাছিম বাজার এলাকার মুকুল মিয়া অভিযোগ তুলে বলেন, মঙ্গলবার রাতে ওই লাইনের তার তুলে দেয়ার পারিশ্রমিক নিয়ে বিদ্যুত বিভাগের লোকজনের সাথে মোবাইল ফোনে বিতর্ক বাঁধে ইলেক্ট্রেশিয়ানদের। এ বিতর্কেও জের ধরে বিদ্যুত বিভাগের লোকজন এ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তারা এর সুষ্ঠ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। খবর পেয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) সৈয়দ এনামুল কবির, ওসি রেজাউল করিম, সীমান্তবর্তি এলাকা হওয়ায় বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১৫ ব্যাটালিয়নের জাওরানী ক্যাম্পের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাট বিদ্যুত বিতরন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসনাত জামান এ প্রতিনিধিকে জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। বিদ্যুত বিভাগের কারও গাফলাতির প্রমান পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খান জানান, প্রাথমিক তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন চেয়ে হাতীবান্ধা ইউএনও সৈয়দ এনামুল কবিরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দিনাজপুরে পীর ও নারী মুরিদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় ঘরে ঢুকে কথিত এক পীর ও তাঁর নারী মুরিদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের দৌলাগ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে সে বিষয়েও কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেনি তারা। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই পীরের নাম ফরহাদ হোসেন চৌধুরী (৬০)। তিনি সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। দিনাজপুর পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি থেকে একবার নির্বাচনও করেছিলেন। দিনাজপুর বাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতিও ছিলেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে তাঁর। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পীর পরিচয়ই বেশি দিতেন তিনি। লোকজনও তাঁকে সে ভাবেই চিনত। নিহত নারীর নাম রুপালি বেগম (২২)। তাঁর বাড়িও একই গ্রামে। ফরহাদ হোসেনের মুরিদের পাশাপাশি ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজও করতেন। প্রতিবেশীরা জানায়, ফরহাদ হোসেন বাড়িতে পীরের আখড়া গড়ে তুলেছিলেন। বাড়িটি ‘দৌলা দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত। আট-দশ বছর ধরে এ আস্তানা চলছে। সপ্তাহে এক দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে মুরিদরা জিকির-আজকার করতেন। এ ছাড়াও প্রায়ই তাঁরা জিকিরের জন্য আস্তানায় জমায়েত হতেন। গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিকিরের সময় দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে হামলা চালায়। তারা প্রথমে ফরহাদ হোসেন ও ওই নারীকে এলোপাতাড়ি কোপায়, পরে গুলি করে হত্যা করে। দৌলা দরবার শরিফের খাদেম সায়েদুল বলেন, ‘প্রতিদিন রাতে দরবারের জিকির ও মিলাদ হতো। জিকিরে অংশ নিতে সুমি (৫২) নামের এক মুরিদ রাতে দরবারে আসেন। দীর্ঘক্ষণ হুজুরকে (ফরহাদ) ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তিনি আমাকে ডাক দেন। আমি এসে দেখি হুজুরের রক্ত মাখা লাশ। পরে পরিবারের অন্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে পাশের একটি কক্ষে গৃহকর্মী রুপালিকেও মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।’ খবর পেয়ে রাতে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বোচাগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম প্রধান জানা যায়, রাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলামত সংগ্রহ করে লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাত্ক্ষণিক জানা যায়নি। ধরন দেখে মনে হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্লগার, বিদেশি নাগরিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পুরান ঢাকার গোপীবাগে কথিত পীর লুত্ফর রহমান ফারুকসহ ছয়জনকে জবাই করে হত্যা করে জঙ্গিরা। পরের বছর আগস্টে রাজধানীর পান্থপথে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী এবং ২০১৫ সালের অক্টোবরে বাড্ডা এলাকায় পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খিজির খানকেও জঙ্গিরাই হত্যা করে। ২০১৬ সালে উত্তরাঞ্চলে কথিত পীরসহ ভিন্নমতাবলম্বী লোকজনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৫টি জেলায় ১৪ জনকে হত্যা, ৪ জনকে হত্যাচেষ্টা এবং ছয়টি হামলা হয়েছে ধর্মীয় উৎসাব ও স্থাপনায়। হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন হিন্দু পুরোহিত, সাধু, খ্রিস্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষু, বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা, পীরের অনুসারী, মাজারের খাদেম, শিয়া অনুসারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি, ব্লগার এবং সমকামীদের অধিকারকর্মী। ২০১৫ সালের নভেম্বরে দিনাজপুর সদরে পেশায় চিকিৎসাক এক ইতালীয় নাগরিককে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। আহত পিয়েরো পারোলারি (৭৮) সেখানে সুইহারি ক্যাথলিক চার্চের ফাদার ছিলেন।

লালমনিরহাটে ট্রাক থেকে ফেলে যুবককে হত্যা

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ লালমনিরহাট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট এলাকায় ট্রাক থেকে ফেলে দিয়ে নাজমুল হোসেন (১৭) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নাজমুল হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের নওটা শৈলাবাড়ি গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। নিহতের বাবা নুরুল হক জানান, লালমনিরহাটের ধরলার ডান তীর রক্ষা বাঁধের নির্মান কাজে ড্রোলরেজার মেশিনের সহকারী চালক নাজমুল কয়েক দিনের ছুটিতে তার বাড়ি সিরাজগঞ্জে যায়। ছুটি শেষে সোমবার বিকেলে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে বের হয়। সে ট্রাকে করে লালমনিরহাট আসছিলেন বলে তার সহকর্মী এনামুল জানান। পথি মধ্যে ট্রাকে তাকে মেরে জেলার এয়ারপোর্ট এলাকায় ফেলে দেয়। লালমনিরহাট পুলিশ লাইনের এসআই শৈলেন জানান, লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কের এয়ারপোর্ট এলাকায় নাজমুলকে মুমূর্ষ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে টহল পুলিশ তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এসময় নাজমুল পুলিশকে জানায় তাকে চলন্ত ট্রাক থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে। লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আজমল হক জানান, মাথায় প্রচন্ড আঘাত নিয়ে রাত প্রায় ২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয় নাজমুল। প্রচন্ড রক্তক্ষরনে সকাল ৬টায় তার মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তার মরদেহ সদর হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) প্রদীপ কুমার রায় জানান, নিহত নাজমুলের বাবার সাথে কথা বলা হচ্ছে। তাদের ও উদ্ধারকারীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পীরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩, আহত ২০

বখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ (রংপুর) থেকে॥ রংপুর–বগুড়া মহাসড়কের পীরগঞ্জের ফায়র সার্ভিস ষ্টেশনের সামনে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত আরো ২০ জন। আজ বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঠাকুরগাওগামী কোচ রুপসী পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-০৬৭৩) বর্ণিত সময়ে উক্ত স্থানে পৌছিলে কোচটির চালক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে এবং কোচটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কোচ যাত্রী ২ মহিলা মারা যায় ও ২০ জন আহত হয়। পরে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধিন অবস্থায় আরও একজন পুরুষ মারা যায়। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ ও পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের ১ জন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোলাদী গ্রামের মৃত্যু তরিকুলের স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৪৫)। অপর ২ জনের পরিচয় জানা যায়নি। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে এবং কোচটি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

অলিম্পিকে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছেন লালমনিরহাটের দুই কৃতি ছাত্রী

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠছে লালমনিরহাটের দুই কৃতি ছাত্রী। এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিকে অংশ গ্রহন করার জন্য জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী বুধবার ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৫ দিন ব্যাপী ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এশিয়ান অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ও উপজেলার আবুল কাশেমের মেধাবী কন্যা উম্মে হাবিবা লিমা (পাবলিক স্পীচ বিষয়ে) এবং একই উপজেলার আব্দুল কাইয়ুম আজাদের কন্যা আফিয়া জাহীন রোদসি, (নিউজ কাষ্টিং বিষয়ে) প্রতিযোগীতায় অংশ নিবেন। ওই দুই ছাত্রীর সাথে অবজারভার হিসেবে থাকবেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বদরুল আলম জাদু। জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মো. আলা উদ্দিন খান এবং লালমনিরহাট জেলাবাসী ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় এশিয়ান অলিম্পিকে অংশ গ্রহন করার জন্য ওই দুই ছাত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের সাফল্য কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, লালমনিরহাট জেলার একমাত্র কালীগঞ্জ উপজেলার করিম উদ্দিন পাবলিক পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই প্রায় প্রতি বছরেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরেও ওই বিদ্যালয় থেকে দুই কৃতি ছাত্রী উম্মে হাবিবা লিমা ও আফিয়া জাহীন রোদসি এশিয়ান ইংলিশ অলিম্পিকে অংশ গ্রহন করার জন্য আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারী বুধবার ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন।

পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও শিশু নিহত

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন শীতেন্দ্রনাথ রায় (৩৮)। দুর্ঘটনায় স্ত্রী মারা গেছেন। দেড় বছরের শিশুপুত্রও বেঁচে নেই। আর শীতেন্দ্র গুরুতর আহত। সোমবার রাত ১০টার দিকে কীভাবে এ দুর্ঘটনা ঘটে, তা অবশ্য প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাস্থল পঞ্চগড় সদর উপজেলার আমরখানা এলাকার তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় মহাসড়ক। শীতেন্দ্রনাথের বাড়ি বোদা উপজেলার বেংহারী-বনগ্রাম ইউনিয়নের পুটিমারী এলাকায়। শীতেন্দ্রনাথের স্ত্রীর নাম জয়ন্তী রানী (২৮)। ছেলে নারায়ণ। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম জানান, স্ত্রী ও শিশুপুত্রকে নিয়ে শীতেন্দ্রনাথ মোটরসাইকেলে করে তেঁতুলিয়া থেকে পঞ্চগড়ে যাচ্ছিলেন। আমরখানা এলাকায় মোটরসাইকেলটি রাস্তার একপাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানেই তিনজন পড়েছিলেন। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা জানা যায়নি। ওসি জানান, ঘটনাস্থলেই জয়ন্তী ও তাঁর ছেলে মৃত অবস্থায় পড়েছিলেন। গুরুতর আহত শীতেন্দ্রনাথ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মা ও শিশুর লাশ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।

প্রধান সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

লালমনিরহাটে তীব্র শীতে ৩ জনের মৃত্যু, অগ্নিদগ্ধ ১ শিশু

শীতে কাঁপছে হরিপুরের ছিন্নমূল মানুষ

রানীশংকৈলে জেঁকে বসেছে শীত

সেতাবগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু

সুন্দরগঞ্জে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে

হুমকীর মুখে তিস্তা ব্যারেজ

আ.লীগই গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

লালমনিরহাটে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু


আজকের সব সংবাদ

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com