রবিবার, ২৩ Jul ২০১৭ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

সারাদেশ - ঢাকা বিভাগ - মাদারীপুর

কাওড়াকান্দি ঘাটে তীব্র যানজট

মাদারীপুর প্রতিনিধি॥ আজ রোববার সকাল থেকেই মাদারীপুর জেলার শিবচরের কাওড়াকান্দি ঘাটে লেগে রয়েছে তীব্র যানজট। লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটের সড়কে যত্রতত্রভাবে রাখা হয়েছে ইজিবাইক, মাহিদ্রা, সবুজবাংলা গাড়ি। ফলে লঞ্চ, স্পিডবোট থেকে যাত্রীরা নেমে মহাসড়কে উঠতে দূর্ভোগে পরতে হচ্ছে। তাছাড়া এই স্থানে ছোট গাড়িগুলো রাখা এবং যাত্রী উঠানোয় সড়কজুড়ে লেগে রয়েছে তীব্র যানজট। এদিকে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে বাখরেরকান্দি পর্যন্ত দূরপাল্লার পরিবহনে আটকে রয়েছে রাস্তার একপাশ। অপর পাশ দিয়ে যাত্রীবাহী পরিবহনের মাঝে ছোট ছোট গাড়িগুলো প্রবেশ করায় দুই কিলোমিটার পথ পার হতে ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে কখনো কখনো। তাছাড়া যানজটের কারণে ঘাট থেকে নেমে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে যাত্রীদের পৌছাতে হচ্ছে গন্তব্যের পরিবহনের নিকট। ফলে সকাল থেকেই দূর্ভোগ নেমে এসেছে যাত্রীদের উপর। তারপর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে দুর্ভোগের পরিমান একটু বাড়িয়ে দিয়েছে বলে যাত্রীরা জানান। খুলনাগামী যাত্রী উর্মি আক্তার বলেন, ‘লঞ্চ থেকে নেমে মহাসড়কে উঠতেই লেগে গেছে বিশ মিনিট। যেখানে পাঁচ মিনিটের পথ। বৃষ্টিতে কাঁদা হওয়ায় এবং অপ্রশস্ত রাস্তার পুরোটা জুড়েই ছোট ছোট গাড়িতে আটকা থাকায় ঘাট থেকে নেমে বিপাকে পরতে হয়েছে।’ অপর এক যাত্রী জানান, ঘাট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তারপর গাড়িতে উঠতে হয়েছে। রাস্তায় ব্যপক গাড়ির জট লেগে আছে। আজ রোববার সকাল পৌনে দশটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাওড়াকান্দি ঘাটে যাত্রীদের প্রচন্ড ভীড় দেখা গেছে। এবং ঘাট এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার পথে তীব্র যানজট লেগে রয়েছে। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ বলেন, ‘যানজট নিরসনে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। লঞ্চঘাটের রাস্তার ছোট ছোট গাড়ি যানজট সৃষ্টি করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ গত ঈদ মৌসুমে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটের রাস্তায় কোন ছোট গাড়ি ছিল না। পুরো রাস্তাটাই ছিল যাত্রীদের পায়ে হেটে মহাসড়কে উঠার জন্য। তবে এ বছর কেন রাখা হয়েছে-জানতে চাইলে বিষয়টা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মাদারীপুরে শিক্ষক হত্যাচেষ্টার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ গ্রেপ্তার

ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষক হত্যাচেষ্টার ‘মূল পরিকল্পনাকারীকে’ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) মাসুদুর রহমান বলছেন, গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির নাম খালিদ সাইফুল্লাহ। বৃহস্পতিবার রাতে ডেমরা এলাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট খালেদকে গ্রেপ্তার করে। “সে কলেজ শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যাচেষ্টার মূল পরিকল্পনাকারী।” মাদারীপুরে সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের গণিতের প্রভাষক রিপনকে গত ১৫ জুন কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ওই সময় জনতার হাতে আটক গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম তিন দিন পর পুলিশ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। ফাহিমের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলার ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। তিনি বলেন, পরে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে, আহত ২০

মাদারীপুর প্রতিনিধি॥ মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ নিহত হয়নি বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ। তিনি বলেন, দুপুর ১ টার দিকে মাদারীপুর সদর উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ঘটকচর নামক এলাকায় মাদারীপুর থেকে টেকেরহাটগামী একটি লোকাল বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে যায়। তবে খালে পানি কম থাকায় বড় ধরনের কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ওসি বলেন, এই ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন তাদেরকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রিমান্ডে থাকা ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত

মাদারীপুর প্রতিনিধি॥ মাদারীপুরে শিক্ষকের উপর হামলার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হিযবুত তাহরীর ‘জঙ্গি’ গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকালে ফাহিমের লাশ মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছেন, আজ সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচরে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। হাসপাতালে পড়ে থাকা মৃতদেহের হাতে হাতকড়া পড়ানো ছিল। তার বুকের বাম পাশে গুলির দাগের মতো রক্তাক্ত জখম রয়েছে। নিহত ফাহিম ঢাকার উত্তরার একটি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে সে দাবি করেছিল বলে জানিয়েছে। গত বুধবার মাদারীপুরে সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের গণিতের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলার পর জনতা ফাহিমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছিল। ফাহিমের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ওই হামলার ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার সারোয়ার হোসেন বলেন, মিয়ারচরে তার সহযোগীরা আছে বলে ফাহিম জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল। তখন তাকে নিয়ে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ। তিনি বলেন, “সকালে সেখানে যাওয়ার পর ফাহিমকে ছিনিয়ে নিতে হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে ফাহিম মারা যায়। এসময় পুলিশের গাড়িতে গুলি লাগলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।” ফাহিমের ‘সহযোগীদের গুলিতে’ পুলিশের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত এবং এক কনস্টেবলও আহত হন বলে পুলিশ সুপার জানান। ফাহিম উত্তরার দক্ষিণখানে তার পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তারা বাবা একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা, মা গৃহিনী। ফাহিম গত ১১ জুন সকালের পর থেকে নিখোঁজ বলে দক্ষিণখান থানায় তার বাবা গোলাম ফারুক একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। ফাহিম তার বাবার মোবাইল ফোনে সর্বশেষ এসএমএসে বলেছিলেন, ‘বিদেশ চলে গেলাম, এছাড়া কোনো উপায় ছিল না। বেঁচে থাকলে আবারও দেখা হবে।’ এরপর বুধবার মাদারীপুরে ধরা পড়ার পর সন্তানের খবর পান ফারুক। তবে ফাহিমের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি তিনি। ফাহিম উত্তরার যে কলেজে পড়তেন, সেই কলেজে তার শ্রেণিশিক্ষক আফরিন আক্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ফাহিমের আচরণ দেখে তাকে কখনও জঙ্গি বলে তাদের সন্দেহ হয়নি। “ছেলেটা খুব মেধাবী ছিল। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পাবে বলে মনে হচ্ছিল। পত্রিকায় ওর ছবি দেখে প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি, ফাহিম এত খারাপ কিছু করতে পারে।” দক্ষিণখানে ফাহিমের প্রতিবেশীরা জানায়, অন্তর্মুখী ফাহিমকে মসজিদে গিয়ে নিয়মিত নামাজ পড়তে দেখতেন তারা। কোনো বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কখনও দেখেননি। তবে ফাহিমকে গ্রেপ্তারের পর এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “কলেজের এক বড় ভাই তাকে এই পথে এনেছে। ঢাকার ওই কলেজের সামনে এক লাইব্রেরিতে প্রায়ই তারা বৈঠক করত।” গত দেড় বছরজুড়ে লেখক, প্রকাশক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, অধ্যাপক, বিদেশি, হিন্দু পুরোহিত, খ্রিষ্টান যাজক, বৌদ্ধ ভিক্ষুর মতো একই কায়দায় ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা হয়েছিল মাদারীপুরের শিক্ষক রিপনের উপর। কারও সঙ্গে রিপনের শত্রুতা না থাকা এবং হামলার ধরন দেখে এতে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর ঢাকায় গিয়ে ফাহিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ জানান, ফাহিম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাচেষ্টায় জড়িত আরও পাঁচজনের নাম বলেন। ফাহিমসহ ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা করে পুলিশ। বাকি পাঁচ আসামি হলেন- সালমান তাসকিন, শাহরিয়ার হাসান, জাহিন, রায়হান ও মেজবাহ। পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলে জঙ্গি কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়ে মাদারীপুরে প্রথম হামলা চালায় তারা। ঘটনার দিনই ফাহিম মাদারীপুরে আসে এবং শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীকে অনুসরণ শুরু করে।” ‘গভীরভাবে তদন্ত চলছে’ জানিয়ে ‘খুব শিগগিরই ফলাফল’ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছিলেন মাদারীপুরের গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক কামরুল হাসান; তার একদিনের মধ্যে পুলিশের হাতে থাকা একমাত্র সূত্র ফাহিম মারা গেলেন কথিত বন্দুকযুদ্ধে।

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪

মাদারীপুর প্রতিনিধি ॥ আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সাধুর ব্রীজ নামক এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৪ জন। আহতদেরকে উদ্ধার করে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর থেকে একটি মাছ বোঝাই ট্রাক মাদারীপুরের মস্তফাপুর যাওয়ার সময় (ঢাকা মেট্রো ট-১১-৫৯৮১) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাধুরব্রীজ নামক এলাকায় এক পাটখড়ি ব্যবসায়ীকে চাপা দিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এ সময় রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের সোহরাব মাতুব্বর(৩৫) নামে এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং ট্রাকের মধ্যে আটকা পড়া রাজৈর পৌর এলাকার বেপারীপাড়া গ্রামের মজিদ বেপারীর ছেলে মাছ ব্যবসায়ী রাসেল বেপারী মারা যান। এ সময় আহত হয়েছে আরো ৪ জন। আহতদেরকে রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূইয়া সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কালকিনিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা

ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: মাদারীপুরের কালকিনিতে এক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করেছে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা। এ ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে কালকিনি থানা পুলিশ। আজ বুধবার ভোরে উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি। এই ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার গভীর রাতে সাহেবরামপুর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুল হাসান সেলিমের সমর্থকরা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান জামাল মোল্লার সমর্থক আবুল কালাম শিকদারকে (৪৫) বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এ সময় আবুল কালামের চিৎকারে বাড়ির অন্যরা এগিয়ে আসলে গুরুতর আহত অবস্থায় মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে ভোররাতে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত আবুল কালাম আন্ডারচর এলাকার সলেমান শিকদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত আন্ডারচর এলাকার মুদি দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তার স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। নিহতের স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুজ্জামান জামাল মোল্লার কর্মী-সমর্থক ছিলেন। এই কারণেই তাকে জোরপূর্বক কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কালকিনি থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

মাদারীপুরে ভাতিজার হাতুড়ির আঘাতে চাচা নিহত

ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: মাদারীপুরের শিবচরের নিলখী ইউনিয়নের চরকামার কান্দি গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাতিজার হাতুড়ির আঘাতে চাচা বোরহান আকন (৫০) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৭ জন। আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। শিবচর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম পাটুয়ারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বোরহান আকনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবৎ একই বাড়ির মোহাম্মদ আকনের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই বুধবার বেলা ১১টার দিকে একটি শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর আগেই সকাল ১০টার সময় নিহত বোরহান আকনের সঙ্গে চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আকনের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। মোহাম্মদ আকনের ছেলে ইব্রাহিম আকন, রিজু আকনসহ ৪/৫ জন বোরহান আকনের উপর হামলা চালায়। এ সময় ভাতিজা ইব্রাহিম আকনের হাতড়ির আঘাতে ঘটনাস্থলেই বোরহান আকন নিহত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছে। আহতদের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় আহত ২ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিবচর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন মোল্লা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মাদারীপুরে আ.লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্লাব ভাংচুর, নৌকা প্রতিকে আগুন: আহত ৮

মাদারীপুর প্রতিনিধি॥ মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তৌফিকুজ্জামান আকনের নির্বাচনী ক্লাব ও নৌকা প্রতিক ভাংচুর করেছে প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থী সাইদুর রহমান বাবুলের সমর্থকরা। রোববার রাতে ও সোমবার সকালে দফায় দফায় সংঘর্ষে দুই গ্রুপেরই ৮ জন আহত হয়। স্থানীয় ও পুলিশ জানান, প্রচারণার শেষ মুহুর্তে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। রোববার রাতে সদর উপজেলার ছিলারচর ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী তৌফিকুজ্জামান আকনের তিনটি ক্লাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাবুল সর্দারের বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এলোমেলো কুপিয়ে ভাংচুর করে। এসময় সন্ত্রাসীরা নৌকা প্রতিক পুড়িয়ে ফেলে। এতে সন্ত্রাসীদের সাথে সংর্ঘষে প্রায় ৮ জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয় ও সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া সোমবার সকালেও সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মী আহত হয়। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ জানান, পুলিশ বহিরাগতদের আটকের চেষ্টা চলছে। র‌্যাব, পুলিশসহ সমন্বিত প্রশাসন তৎপর রয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

শিবচরে ১৬ ইউপিতে আ.লীগের ১৬ চেয়ারম্যান বিজয়ী: স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জন

মাদারীপুর প্রতিনিধি ॥ প্রথম দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১৬ ইউপিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১০ ও ভোটের মাধ্যমে ৬ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে ভোট কারচুপি ও এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে উপজেলার বাশঁকান্দি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্কাস মোল্লা ভোট বর্জণ করেছে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মিয়া জানান, ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ১০ ও মঙ্গলবার ভোটের মাধ্যমে ৬ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ৬ ইউপিতে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলো- বাশঁকান্দিতে আবুল বাশার মিয়া, দ্বিতীয়খন্ডে মাহফুজুল করিম মাসুম তালুকদার, শিবচরে রাজন মাদবর, চরজানাজাতে বজলুর রহমান সরকার, পাঁচ্চরে দেলোয়ার হাওলাদার ও কাঠালবাড়ীতে মোহসিন উদ্দিন সোহেল বেপারী। এছাড়া এসব ইউপিতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মেম্বার পদে ৪৮ জন ও সাধারণ মেম্বার পদে ১৪৪ জন বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত ১০ ইউপিতে চেয়ারম্যানরা হলো- বহেরাতলা উত্তরে জাকির হোসেন হায়দার, শিরুয়াইলে আতিকুর রহমান মুরাদ, ভান্ডারীকান্দিতে শওকত হোসেন নান্নু, কাদিরপুরে বিএম জাহাঙ্গীর হোসেন, মাদবরেরচরে চৌধুরী সুলতান মাহমুদ, দত্তপাড়ায় মুরাদ মিয়া, বন্দরখোলায় নিজাম উদ্দিন বেপারী, বহেরাতলা দক্ষিণে অলিউল্লাহ খালাসী, কুতুবপুরে আতিকুর রহমান ও নিলখীতে ওয়াসিম হোসেন। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্কাস মোল্লা অভিযোগ করে জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ হলেও সাড়ে ১০টার পর থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল বাশারের নেতা-কর্মীরা জোরপূর্বক তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। পরে তার কর্মীরা ব্যাপক ভোট কারচুপি করে। ৯নং ওয়ার্ডের চরশেখপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এজেন্টদের পিটিয়ে বের করে দেয়। এ সময় পৌনে আধা ঘন্টা ভোটগ্রহণ স্থগিত থাকে। এই সময় তার ৪ কর্মী আহত হয়। উল্লেখ্য, ১৬ ইউনিয়নে ভোটার ছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে ১৩৫ জন সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার ও ৪৮০ জন সাধারন মেম্বার পদে লড়েছেন। ১৪৪টি কেন্দ্রে ৫৪৩টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে ভোটাররা।

প্রধান সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

মাদারীপুরে ১৬ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ শুরু

মাদারীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-৫,আহত-৪

নির্বাচনী মাঠ সরগরম: তফশিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাদারীপুরে ৩ পৌরসভার নির্বাচনী আমেজ শুরু

মাদারীপুরে জোড়া খুনের মামলায় চারজনের ফাঁসি

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাসের সাথে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-৫, আহত-১০

মাদারীপুরে প্রতিপক্ষের গুলিতে দুইজন নিহত

মাদারীপুরে মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকি পালিত

কালকিনিতে সরকারি খাল দখল নিয়ে উত্তেজনা

কালকিনিতে জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন


আজকের সব সংবাদ

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com