রবিবার, ২৩ Jul ২০১৭ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

সারাদেশ - চট্টগ্রাম বিভাগ - বান্দরবান

লামা-আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়, অবৈধভাবে গড়ে উঠছে ইটভাটা

বশির আহাম্মদ, বান্দরবান থেকে:: লামা-আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ পার্বত্য বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত অর্ধশত ইটভাটার সবগুলোই অবৈধ। এসব ইটভাটায় ইট তৈরি ও পোড়ানোসহ কোন কাজেরই অনুমোদন মিলেনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তর থেকে। বছরের পর বছর স্থানীয় প্রশাসনকে মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে সরকারী সংরক্ষিত বন ধ্বংস ও পাহাড় কেটে সম্পূর্ণ বেআইনী ভাবে ইটভাটায় ইট তৈরি এবং ইটপোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহার করেছে একটি সিন্ডিকেট। অবৈধভাবে পরিচালিত এসব ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বান্দরবান জেলা পরিবেশ উন্নয়ন কমিটিকে পত্র দিয়ে তাগিদ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাসুদ করিম আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রায় অর্ধশত ইটভাটা চালু রয়েছে। সরকারী সংরক্ষিত বন, লোকালয়, ফসলী জমি, বিদ্যালয় ও পাহাড়ের পাদদেশে ইটভাটা স্থাপন দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্বেও কিছু রানৈতিক নেতার প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মহেশখালী উপজেলার কিছু ব্যবসায়ী ইটভাটা স্থাপন করে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেকটা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। অভিযোগ সচেতন মহলের। লামা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লামার ফাইতংয়ে একটি ইউনিয়নেই সরকারী সংরক্ষিত বন ও পাহাড়ের পাদদেশে ২৩টি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ইটভাটার মালিক যারা সবাই পাশ্ববর্তি কক্সবাজারের চকরিয়া, লোগাগাড়া ও পেকুয়া উপজেলার। একই ভাবে এরা লামার ফাঁসিয়াখালীতে তিনটি, লামা পৌরসভায় ১টি, গজালিয়া ইউনিয়নে ১টি, সরই ইউনিয়নে ৩টি ইটভাটা স্থাপন করেছে। আলীকদম ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আলীকদমে ৩টি ইটভাটা স্থাপন করে প্রায় এক যুগ ব্যবসা পরিচালনা করছে অপর একটি সিন্ডিকেট। তার মধ্যে আল আমিন ব্রিকস নামে ১টি ফাতেমা ম্যানুফ্যাকচারিং ব্রিকস্ নামে অপর ১টি এইচ.বি.এম নামে একটি। ফাইতংয়ের স্থানীয়রা জানান, ইটভাটা সংলগ্ন পাহাড়ি গ্রাম রাইম্যাখোলা, শিবাতলী পাড়া, মংব্রাচিং কারবারী পাড়া, ফাদু বাগান পাড়া, হেডম্যান পাড়া ও বাঙ্গালি পাড়ার অধিবাসীরা পরিবেশের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন। ইটপরিবহনে ট্রাকের চাকায় গ্রাশীণ ওই জনপদের কাঁচা সড়কগুলো বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে বলে তারা লিখিত আবেদনে তুলে ধরেন। এদিকে, জনসাধারনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এমন স্থানে স্থাপিত ইটভাটা বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে থেকে সরিয়ে নিতে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান জেলা পরিবেশ উন্নয়ন কমিটিকে পত্র দিয়ে তাগিদ দিয়েছে। লামা, আলীকদম ওনাইক্ষ্যংছড়ির ইটভাটা এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বছরের পর বছর এক নাগারে ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ ব্যবহারের কারণে সরকারি সংরক্ষিত ও ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে সৃজিত কোন বনেই গাছ নেই। প্রতিটি ইটভাটা এলাকা এখন অনেকটা মরুভূমির মত গাছ শূণ্য। সচেতন মহলের অভিযোগ, বন বিভাগের দায়সাড়া তদারকি ও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের নিরবতায় এসব ইটভাটায় দেদারছে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দিষ্ট অংকের মাসোহারা গুণছে ইটভাটা মালিকরা। বান্দরবান জেলা পরিবেশ রক্ষা পরিষদের সভাপতি জামালুদ্দিন হাওলাদার জানান, অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন, পাহাড় কেটে ভাটার মাটি সংগ্রহ ও জ্বালানি হিসেবে বনজ সম্পদ উজাড়ের কারণে লামার ফাইতং এলাকাটি বর্তমানে প্রায় মরুভূমির মতো হয়ে গেছে। ওই এলাকায় গাছ-গাছালি না থাকায় পানির স্তর অনেক নীচে নেমে গেছে। পুরো এলাকায় পানির জন্য হাহাকার চলছে। একইভাবে ফাঁসিয়াখালী, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদমে ইটভাটা এলাকার কয়েক কিলোমিটারে মধ্যে সরকারীভাবে সংরক্ষিত বনে কোন গাছ নেই। পাহাড়ি গ্রামগুলোতে জীব বৈচিত্র ও জনবসতি হুমকির মুখে। কাঠচোর সিন্ডিকেট ও ইটভাটা মালিকরা কাঠ কেটে সাবার করেছে বলে তিনি দাবী করেন। লোকালয়ে ইটভাটা স্থাপন ও বন উজাড়ে পরিবেশের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ শফিউর রহমান মজুমদার বলেন, যে এলাকায় বনজ সম্পদ ধ্বংস করে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হয়, ওই এলাকার নারী ও শিশুরা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভূগবে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধি পায়। তিনি আরো জানান, পরিবেশের এই বিরূপ প্রভাব রোধ করা না হলে মাতৃগর্ভে ভ্রুন নষ্ট, গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য হাণি, গর্ভের সন্তান বিকলঙ্গা হয়। এছাড়া দিন দিন আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। যা এক পর্যায়ে ক্যানসারে আকার ধারণ করে। ফাইতংয়ের একটি ইউনিয়নে অবৈধ ২৩ ইটভাটা স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু বলেন, এই বিষয়ে খবর নিচ্ছি! এছাড়া লামার শিবাতলী মারমা পাড়া থেকে স্থানীয়রা একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খিন ওয়ান নু।বান্দরবানের লামার-আলীকদম-নাইক্ষ্যংছড়িতে অবৈধ ইটভাটা সম্পর্কে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মাসুদ করিম বলেন, বান্দরবান জেলায় সরকারের অনুমোদন প্রাপ্ত কোন ইটভাটা নাই। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ইটভাটা স্থাপনের জন্য কেউই ছাড়পত্র গ্রহণ করেননি বা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়নি। জনসাধারণের ক্ষতি হয় এবং সরকারী সংরক্ষিত বন, বিদ্যালয় ও জনবসতি এলাকা থেকে ইটভাটা সরিয়ে নেওয়ার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসককে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পত্র দেয়া হয়েছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হারুনুর-অর-রশিদ বলেন, খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে অবৈধ ইট ভাটার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বান্দরবানে পাহাড় কেটে চলছে ইটভাটা নির্মাণের প্রস্তুতি, নির্বিকার প্রশাসন!

বশির আহাম্মেদ, বান্দরবান থেকে:: বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বড়শি পাড়া ঘেঁসে বনের ভিতরে পাহাড় কেটে চলছে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তোলার প্রস্তুতি। প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে দিবালোকে পরিবেশ ধংস করে আইনের তোয়াক্কা না করে ইটভাটার প্রস্তুতিমুলক কাজের জন্যে প্রকাশ্যেই কেটে সাবাড় করা হচ্ছে পাহাড়। উক্ত এলাকায় ইটভাটা তৈরির জন্য অবাধে পাহাড় কাটা হলেও প্রশাসন কিংবা পুলিশ এসব অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে গ্রহণ করছেনা কোন আইনি ব্যবস্থা। আর এই ইটভাটা তৈরীর জন্য নেই কোন প্রশাসনের অনুমতি কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। জেলা শহরের ঠিকাদার আনিসুর রহমান সুজন স্থানীয় আ’লীগ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এই অবৈধ ইটভাটা গড়ে তুলতে পাহাড় কাটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রুমা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বগালেকে যাবার পথে বড়শি পাড়ার নিকটে স্থাপিত হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা। তিনটি বুলড্রোজার ও একটি স্কেভেটর (পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্র) দিয়ে পাহাড় কেটে চলছে ইটভাটা তৈরীর প্রস্তুতি। সরকারি কোন মহলেরই কোন প্রকার অনুমতি গ্রহণ ছাড়াই গত ২/৩ মাস ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে পাহাড় কর্তনযজ্ঞ চললেও পুলিশ ও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। ইটভাটায় পাহাড় কাটা ও ভাটা প্রস্তুতি কাজের দায়িত্বে থাকা প্রকৃতি বড়–য়া জানান, ইটভাটার মালিক আনিসুর রহমান সুজন। ইটভাটা স্থাপনে বৈধ কাগজপত্র বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে এবিষয়ে কিছুই বলতে রাজি হননি। তবে ইট ভাটায় (পরিবেশের ক্ষতিকারক) ড্রাম দিয়ে অস্থায়ী চিমনী ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মওজুদ করা হচ্ছে ইটভাটা তৈরীর পর ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানী কাঠও। রুমা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শৈহ্লাচিং মারমা জানান, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারাই বড়শি পাড়া ঘেঁসে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করেছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়্য়া বড়শি পাড়ার বাসিন্দারাসহ অনেক শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। অস্থায়ী ড্রাম চিমনী ব্যবহার করতে যাচ্ছে ভাটায়। জ্বালানী কাঠ পোড়ানোর জন্যও প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এটি বন্ধের জন্য প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না করলে পূরো বড়শি পাড়ার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তিনি আরো জানান, গত উপজেলা মাসিক সভায় অবৈধভাবে স্থাপিত এই ইটভাটা দ্রুত বন্ধের কার্যকরি ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এব্যপারে ইটভাটার মালিক আনিসুর রহমান সুজন ইটভাটায় বুলড্রোজার দিয়ে অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও ভাটায় জ্বালানী কাঠ পোড়ানোর প্রস্তুতির বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। রুমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শরিফুল হক জানান,ইটভাটায় সরেজমিন পরিদর্শন করে বৈধ কাগজ পত্র কিংবা কর্তৃপক্ষের অনুমতি আছে কিনা এবং পরিবেশের ক্ষতি সাধিত হচ্ছে কিনা দেখে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেবো। এব্যপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক মাসুদ করিম জানান, সরেজমিনে গিয়ে রুমার এই অবৈধভাবে স্থাপিত ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রযোজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বান্দরবানে গণপিটুনিতে ২ অপহরণকারী নিহত

বশির আহমেদ,বান্দরবান প্রতিনিধি:: বান্দরবানের লামায় অপহরণকারী সন্দেহে দুই যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা এলাকায় মঙ্গলবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে স্থানীয় চারজনকে অপহরণের জের ধরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই অপহরণকারীকে আটক করে। পরে তাদের পিটিয়ে ও ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ার দুলহাজারা বাজার থেকে হারগাজা যাওয়ার পথে একদল সন্ত্রাসী গাড়ির গতিরোধ করে জাকির আলম (৩৫), জাবের আহম্মদ (৫০), মনহর আলী (৬০) ও কালু পুতুকে (৩৮) অপহরণ করে। পরে স্থানীয়রা অভিযান চালিয়ে বগাইবিল এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা এলাকা ঘেরাও করে সন্দেহভাজন দুই অপহরণকারীকে আটকের পর পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। দু’জনের লাশ আজ বুধবার সকালে হারগাজা প্রাথমিক স্কুল মাঠে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকের হোসেন মজুমদার জানান, সম্প্রতি ফাসিয়াখালী, পার্শ্ববর্তী বাইশারী, দুলহাজারা, মালুমঘাট এলাকায় অপহরণ, চাঁদাবাজি বেড়ে গেছে। স্থানীয়রা সন্ত্রাসীদের তৎপরতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে চারজনকে অপহরণের পর বিক্ষুব্ধ জনতা দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে তাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এলাকাটি দুর্গম ও পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় অইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

হাইকোর্টের নির্দেশে নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত

বশির আহমেদ, বান্দরবান থেকে:: ভোট গ্রহণের মাত্র ১১ ঘণ্টা আগে বান্দরবানের দুর্গম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অরুন উদয় ত্রিপুরা এ ঘোষণা দেন। হাইকোটের একটি বেঞ্চ রোববার দুপুরে জনৈক মো. আলী হোসেনের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৬ মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকা থেকে মায়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের কেন বাদ দেওয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে রুল জারি করা হয়েছে। এদিকে, আজ সোমবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার আগে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার ঘোষণায় প্রশাসন বিপাকে পড়েছে। বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম, সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন স্থগিত ঘোষণার পর তাদের সেখান থেকে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাও হতাশ হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত তসলিম ইকবাল চৌধুরী ও বিএনপি সমর্থিত নুরুল আলম কোম্পানি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থী ছিলেন। হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা অরুন উদয় ত্রিপুরা টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন স্থগিতের হাইকোটের একটি নির্দেশনা রাতে আমরা ফ্যাক্সে পেয়েছি। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রাতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তবে নির্বাচনের সব প্রস্ততি সম্পন্ন ছিল বলে জানান তিনি। হাইকোটের রিট পিটিশনকারী মো. আলী হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: আবু সায়েন জানান, দুই সপ্তাহ আগে নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা মো. আলী হোসেন বর্তমান ভোটার তালিকায় মায়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক রয়েছে উল্লেখ করে সেই সব নাগরিকের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া না পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করার অবেদন জানান। আদালত শুনানী শেষে নির্বাচন ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে রায় ঘোষণা করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ মারা যাওয়ায় এ ইউনিয়নে আজ সোমবার (৩১) অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

অজগরের মাংস খেতেই জেগে উঠলো বগালেক!

বশির আহাম্মদ, বান্দরবান প্রতিনিধি॥ বগালেক, রুমা ঘুরে: আদিকালের কথা। এই পাহাড়ে বসবাস করতো ৬০টি পরিবার। তারা একদিন বড় আকারের একটি অজগর সাপ পেলো। সবাই সিদ্ধান্ত নিলো, সাপটি কেটে সব পরিবার ভাগ করে মাংস খাবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অজগরটি কেটে সবাই মাংস ভাগ করে নিলো। এক বিধবার ভাগে পড়লো সাপের মাথাটি। বিধবার বাড়ি লাল মার্ক করা স্থানে ছিলো বলেই দাবি স্থানীয়দের বিধবা বললেন, আমাকে যেটি রান্না করে দেবে তাতে মরিচ বেশি দেবে না। বেশি দিলে চোখ জ্বলবে। সাপের মাথাটি রাখা হলো একটি মুরগির ঘরে। তখন মাথাটি কথা বলে উঠলো! একটি সময়ও বলে দিলো। বললো সবাই এখান থেকে চলে যাও। এই পাড়া ডুবে যাবে। যারা মাংস খেয়েছো সবাই ডুবে মরবে। কিন্তু সবাই গেলো না। ডুবে গেলো পাড়া। শুধু ডুবলো না সেই বিধবা নারীর ঘর। যিনি শেষ পর্যন্ত মাংস খাননি। যে বাড়িটির চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে লেকের পাড়ে। বগালেক নিয়ে যে কিংবদন্তি, জনশ্রুতি রয়েছে পাহাড়িদের কাছে তার অন্যতম এটি। এমনটি জানাচ্ছিলেন বগালেকে আসা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় নাম সিয়াম দিদি। তাদের বিশ্বাস, এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে বগালেক। গল্পটি আরও অনেক বড়। সংক্ষেপে এমন। যে বিধবা নারীর ঘর সেদিন ডোবেনি সেই ঘরের জায়গাটি নিজে দেখালেনও তিনি। আমাদের অলটিমিটারের রিডিং অনুযায়ী প্রায় ১২শ’ ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের কোলে অপূর্ব এক স্বাদু পানির উৎস বগালেক। যদিও উচ্চতা কোথাও লেখা ১৭শ’ ফুট, আবার কোথাও ২৪শ’। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের পরিমাপ অনুযায়ী, লেকের উচ্চতা ১ হাজার ৭৩ ফুট। আর গভীরতা ১১৫ ফুট। লেক এলাকায় বসবাসকারীরা জানালেন, এই শিক্ষকই প্রথম উচ্চতা ও গভীরতা মাপেন। লেকের পাশে তাই একটি গোলঘর আছে তার নামে। সেখানেই লেখা এ তথ্য। পর্যটক ও ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত, গুরুত্বপূর্ণ স্থান বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ চূড়া কেওক্রাডংয়ের পাদদেশের পাহাড়ের এ অনিন্দ্য সুন্দর লেক। পর্যটকদের কাছে যখন এটি গন্তব্য, ট্রেকারদের কাছে তখন এটি বেসক্যাম্প। এখানে থেমেই ট্রেক করে যেতে হয় কেওক্রাডং। রুমা বাজার থেকে বকশিবাজার পর্যন্ত হেঁটে এসে ভয়াবহরকম খারাপ, কর্দমাক্ত, উঁচু-নিচু ঢিবির এক সড়কে ল্যান্ডক্রুজারে যখন ১০ কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে ১১ মাইলে নামলো তখন বিকেল সাড়ে ৩টা। পাহাড়ি পথে কিলোমিটার হিসাব করা কঠিন। ‘পাহাড় ডিঙানোর প্রচণ্ড স্পর্ধা’ গানের চরণগুলি মনে পড়লো যখন প্রথম খাড়া ঢাল বেয়ে স্বৈরাতন পাড়ায় নামি। মেঘ গুমরিয়ে উঠে এখান থেকে আরও ঘণ্টা দুয়ের হাঁটাপথ মাড়িয়ে তবেই বগালেক। স্বৈরাতন পাড়ায় একটু জিরিয়ে জুস, পানি পান করে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কমলাপাড়া পৌঁছুতেই নিস্তেজ সূর্যদেব। নেমেছে আঁধার। নিস্তব্ধতা ভেঙে কানে ভেসে আসছে পাহাড়ি পোকার গান। মুরং কন্যা টুমসিংয়ের দোকানে পাহাড়ের মিষ্টি পেয়ারা আর কলা খেয়ে ট্রেকার সানভীর কাছে জানা গেলো, কেওক্রাডং এর চেয়ে ঢের কঠিন খাড়াই মাড়াতে হবে এখন। তাও আবার বৃষ্টিভেজা রাতে। ২৫ মিনিটে টর্চের আলোয় রুদ্ধশ্বাস সেই খাড়াই অতিক্রম করে রাত সোয়া ৭টায় পৌঁছুলাম বহুকাঙ্ক্ষিত বগালেক। স্বস্তির নিশ্বাস পড়লো সবার। লেকের ওপরের পাহাড়ে অলটিমিটারে রিডিং উঠলো ১২২৩ ফুট। আবার ঢাল বেয়ে আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করে নিলাম সিয়াম দিদির আতিথেয়তা। রাত ৮টা পর্যন্ত অনুমতি আছে এখানে ঢোকার। লেকের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা কটেজের বারান্দায় বসে প্রথম দেখলাম চাঁদনি রাতে বগালেকের সৌন্দর্য। এরই মধ্যে লেকের স্বচ্ছজলে সবাই মিলে গোসল সেরে ঝেড়ে নিলাম দিনের সব ক্লান্তি। পরে সিয়াম দিদির খাবার ঘরের সামনে আড্ডা। এখানে বসে জানা গেলো বগালেক নিয়ে আরও এক কিংবদন্তি। বম আদিবাসী অধ্যুষিত বগালেকের কয়েকজন শোনালেন, ১৫ একর জায়গার বগালেক সৃষ্টি হয়েছে অনেক আগে। একসময় এখানে একটি চোঙা আকৃতির পাহাড় ছিলো। সেখানে বসবাস করতো বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর আদিবাসী। ঘন বনঘেরা সেই পাহাড়ে প্রায়ই হারিয়ে যেত পোষা গবাদি পশু। একদিন একদল যুবক কারণ অনুসন্ধানে গিয়ে দেখলো ভয়ংকর দেখতে এক ড্রাগন। তাকে মেরে ফেললো সেই যুবকরা। সঙ্গে সঙ্গে গর্জন করে গর্ত থেকে বেরিয়ে এলো আগুন। পুড়িয়ে দিলো আশপাশের সব। সৃষ্টি হলো লেক। ড্রাগনকে বম ভাষায় বলে বগা। সেই থেকে বগালেক। পাহাড়িতে কাছে এমন জনশ্রুতি আর বিশ্বাস থাকলেও ভূ-তাত্ত্বিকদের কাছে এটা মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ। ভোরে উঠে পাওয়া গেলো বগালেকের অন্যরূপ। লেকের পাশের পাহাড়গুলোতে বেড়াতে নেমেছে মেঘদল। স্বচ্ছ পানিতে পড়েছে নীলাকাশের ছায়া। পানিও ধারণ করেছে সে বর্ণ। লেকপাড়ের সবুজ গাছ ছায়া ফেলেছে লেকে। পানির ধারে মাছেরা সৃষ্টি করেছে আরেক জগৎ। পা পাতলেই ঘিরে ধরে ঠুকরে খায়। দেয় ফিশ স্পার অনুভূতি! অন্যরকম এক স্নিগ্ধতা এনে দেয় ভোরের বগার মায়াবি রূপ। সে রূপ দর্শন করে সিয়াম দিদির কাছে এসে ডাল, আলুভর্তা আর ডিম দিয়ে পেটপুরে খেয়ে রওয়ানা পরবর্তী গন্তব্য কেওক্রাডং। অনেকের কাছে অভিশপ্ত সেই বগাই এখন জীবন-জীবিকা কেওক্রাডং, রুমা, বগালেক এলাকার কয়েক হাজার মানুষের। পাহাড়কোলের আশ্চর্য এ লেক

বাইশারীতে তিন বাগান প্রহরীকে অপহরন, মুক্তিপন দাবি

বশির আহমেদ, বান্দরবান প্রতিনিধি:: বান্দরবানের দুর্গম নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন থেকে ৩জন বাগান প্রহরীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে বাইশারীর পিএইচপি গ্রুপের ৮নং রাবার বাগানে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, পিএইচপি গ্রুপের ৮নং রাবার বাগানের প্রহরী আজিজুল হক পিতা সুলতান আহমেদ, নুরুল ইসলাম ও আবদুল শুক্কুর বাগানের ফ্যাক্টরির ভেতরে শুয়ে থাকা অবস্থায় কিছু উপজাতীয় দুবৃর্ত্ত তাদেরকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে আজিজুল হকের বড় ভাই আবদুল হামিদ জানান, অপহরনের পর অপহৃতদের মোবাইল থেকে ফোন করে প্রতিজনের জন্য ৩লক্ষ টাকা করে মোট ৯লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করেছে অপহরণকারীরা। এ বিষয়ে বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মুছা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি শুনার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলতে পারব।

পাহাড়ে জুমের ফসল তোলার মহোৎসব চলছে

বান্দরবান প্রতিনিধি:: পাহাড়ে শুরু হয়েছে জুমের পাকা ধান ও অন্যান্য ফসল ঘরে তোলার মহোৎসব। পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ে পাহাড়ে এখন জুম কাটার ভরা মৌসুম। পাহাড়ি জুমের সোনালি ফসল তুলতে এখন ব্যস্ত স্থানীয় জুমিয়ারা। একইসাথে পাকা ধানসহ অন্যান্য ফসল তোলার ধুম লেগেছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জুমের সোনালি ফসল উঠছে বলে জুমচাষীদের মুখে ফুটেছে নির্মল হাসি। এ আনন্দে ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে জুমচাষীরা। তাছাড়া পাহাড়িদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘প্রবারণা পূর্নিমা’ কে ঘিরেও চলছে নানান প্রস্তুতি। ফসল ঘরে তোলার আনন্দ ও প্রবারণা উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এই তিন পার্বত্য জেলাতেই একমাত্র জুমচাষ হয়ে থাকে। পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবিকার আদিম ও প্রধান উৎস জুম চাষ। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ধানসহ জুমের বাম্পার ফলন জুমচাষীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় জুমের পাকা ধান ছাড়াও মারফা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়শ, কাকরোল, কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল ঘরে উঠছে। জুমে মিশ্র প্রজাতির শস্যবীজ বপন করে প্রায় পাঁচ মাস পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের পর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে ফসল ঘরে তোলে চাষীরা। এদিকে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুম চাষের লক্ষ্যে জুমচাষীদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেছে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে ২০১৩ সালে সর্বপ্রথম তিন পার্বত্য জেলায় সাস্টেইনেবল ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কম্পোনেন্ট-২ নামে একটি প্রকল্প শুরু করে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন। তারই ধারাবাহিকতায় আনুষ্ঠানিকভাবে বান্দরবানে ২শ একর জমিতে ৫শ কৃষককে নিয়ে গবেষণা শুরু হয় ২০১৬ সালের শুরুতে। এরপর জেলার রামারি পাড়া, ম্রংলংপাড়া ও পর্যটন চাকমাপাড়া এলাকায় কৃষি-কার্যক্রম শুরু করা হয়। এতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিমিত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে একই জমিতে শুরু করা হয় আধুনিক জুম চাষ প্রক্রিয়া। এর ফলে তারা লাভবান হচ্ছেন বলে জানালেন স্থানীয় জুমিয়ারা। এ পদ্ধতিতে প্রথমে বান্দরবান জেলায় জুম চাষ করা হলেও পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়িতে শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। রামারিপাড়ার জুম চাষী পাই হ্লা ম্রো জানান, পুরাতন পদ্ধতিতে জুম চাষে অধিক সময়ের প্রয়োজন। এতে জুমের ফসল ঘরে তুলতে অনেক সময় ব্যয় হয়। তবে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে প্রশিক্ষণ গ্রহনের পর জুমচাষীরা লাভবান হয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরমিত মাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে একই জমিতে বিভিন্ন ফসলের চাষ করা যাচ্ছে। এতে খরচ কম হয়। ফলে সহজে লাভবান হচ্ছে স্থানীয় জুমিয়ারা। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বান্দরবানের সাতটি উপজেলায় ৫ হাজার ২০১ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে জুমচাষ হয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবান সদর উপজেলায় ৪৮৭ হেক্টর, রোয়াংছড়িতে ৫৩০ হেক্টর, রুমায় ১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর, লামায় ১ হাজার ৩২১ হেক্টর, আলীকদমে ৯১৫ হেক্টর ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ৭১৫ হেক্টর জমিতে জুমচাষ করা হয়। এতে প্রায় ৭ হাজার ৪৮৫ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া গেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার জুমচাষীরা জানান, এ মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে জুমের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। ইঁদুরের উৎপাতও কমেছে অনেকাংশে। তাই স্বস্তির নিঃশ্বাস জুমচাষীদের মনে। জুম চাষীরা পৌষ-মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল কাটার পর ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে আগুনে পুড়িয়ে টিলা-পাহাড়কে জুম চাষের উপযোগী করে তোলেন। এরপর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ে ধান, কাউন, ভুট্টা, ফুটি, তুলা, আলু, কচু, হলদি, সুগন্ধি সাবারং পাতা, তিল, চীনার যব ইত্যাদি ফসলের বীজ বপন করে। এ ফসল পেতে অপেক্ষা করতে হয় আষাঢ়-শ্রাবণ মাস পর্যন্ত। প্রথম দিকে মারফা, মরিচ, চিনার, ভুট্টা তোলা হয়। এরপর ভাদ্র-আশ্বিন ও কার্তিক মাসে পাকতে শুরু করে ধান। শেষের দিকে তুলা, তিল, যব ঘরে তোলা হয় কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসজুড়ে। বান্দরবানের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সর্বদা কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সম্প্রতি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জুমচাষ পদ্ধতি শুরু হওয়ায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ পদ্ধতিতে জুম চাষ করা গেলে ফলন বাড়ার সাথে সাথে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তিন পার্বত্য জেলায় বাঙ্গালী সংগঠনের হরতাল পালিত

বান্দরবান প্রতিনিধি:: জাতীয় সংসদে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধন আইন পাসের এবং বান্দরবান পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায় ২৪ ঘণ্টার হরতাল পালন করছে বাঙালি ৫টি সংগঠন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় শুরু হওয়া এ হরতাল চলবে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত। হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা খাগড়াছড়ির, রাঙ্গামাটি বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তায় টায়ায়ে আগুন, খন্ড খন্ড মিছিল ও পিকেটিং করেছে। তবে বান্দরবানে সকাল থেকে হরতালে সমর্থনে রাজপথে বাঙালি ৫টি সংগঠনগুলো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। হরতালের কারণে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দোকাপাট ও বন্ধ রয়েছে। তবে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে এমন কী শহরে রিকশা ও টমটম চলাচলও বন্ধ রয়েছে। হরতালের কারণে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে আটকা পড়েছে বেড়াতে আসা শতাধিক পর্যটক। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন বাতিল ও বান্দরবান পার্বত্য নাগরিক পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমানের মুক্তির দাবিতে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলন, পার্বত্য গণপরিষদ, পার্বত্য বাঙালি ছাত্রপরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্য পরিষদ যৌথভাবে তিন পার্বত্য জেলায় বৃহস্পতি ও রোববারে ৪৮ ঘণ্টা হরতালের ডাক দেয়। এ ছাড়া ৪ সেপ্টেম্বরও হরতাল পালন করবে সংগঠনগুলো। এর আগে এ তিন জেলায় ১০ ও ১১ আগস্ট হরতাল পালিত হয়। উল্লেখ্য, গত ১ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভেটিং সাপেক্ষে ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। ৯ আগস্ট তা অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধিত) বিলটি ২০১৬ পাস হয়।

বান্দরবান প্রেসক্লাবের উদ্বোধন শুক্রবার

বান্দরবান প্রতিনিধি:: আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবের নতুন ভাবে সজ্জিত ও আধুনিকায়ন সভাকক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে এ আধুনিকায়ন সভাকক্ষের উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি। সেনা রিজিয়ন কমান্ডার,পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার, উপজেলার চেয়ারম্যানসহ সমাজ নেতারা বিশেষ অতিথি থাকবেন বলে কথা রয়েছে।

প্রধান সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

বান্দরবানে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, নিহত ২

বান্দরবানে চলছে মেঘ পাহাড়ের খেলা!

বান্দরবানে বুধবার থেকে জন্মাষ্টমী উৎসব শুরু

তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা চলছে

বান্দরবানে ১৫ হাজার ইয়াবা’সহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বুধবার তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

বান্দরবানের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবানে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

বান্দরবানে আ.লীগ নেতা অপহরণ, ১৬ দিনেও খোঁজ মেলেনি


আজকের সব সংবাদ

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com