রবিবার, ২৩ Jul ২০১৭ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

সারাদেশ - রংপুর বিভাগ - গাইবান্ধা

উপজেলা শহর সাদুল্যাপুর খানা-খন্দে ভরপুর

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ॥ গাইবান্ধা-মাদারগঞ্জ সড়কের সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের মধ্যে ১ কিলোমিটার মেইন রাস্তার পিচ-কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে খানা-খন্দে সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শহরে পরিবহন চলাচলে যানজট সৃষ্টিসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার সকালে সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের পূর্ব-পার্শ্বের তেতুল তলা ও চৌ-মাথা মোড় হইতে ইসমাইল হোসেন সুপার মার্কেটের সামন থেকে পশ্চিমপাড়ার অগ্রনী কিন্ডার গার্ডেন স্কুল পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং উঠে গিয়ে গহিন গর্তে পরিনত হয়েছে। এতে করে জনসাধারণসহ ও স্কুল-কলেজ গামী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচলে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রংপুর ও গাইবান্ধা জেলা শহরের সাথে একমাত্র যোগাযোগ রক্ষাকারী ব্যাস্ততম এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুরপাল্লার বাস-ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, সিএনজি ও অটোবাইক সহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি সরু হওয়ায় ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি মরণ ফাঁদে উপনীত হলেও সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোন ভূমিকা নেই।

গাইবান্ধায় গরু ছাগল-শিশু নারীর একসাথে বসবাস

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ॥ পাহাড়ী ঢল আর টানা বর্ষণে গাইবান্ধার নদ-নদীর পানি বেড়ে চলছে। গাইবান্ধার তিস্তা, ঘাঘট, যমুনা-ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া নদীসহ সবগুলো নদীর পানি প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে এতে জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়েছে লক্ষাধীক পরিবারের ঘরবাড়ি। পানির কারনে বাড়িতে ও ঘরে থাকা যাচ্ছেনা তাই ফুলছড়ি উপজেলার পূর্ব কঞ্চিপাড়ার খলাইহারা বালাসীঘাট এলাকায় রেলপথে আর কোন জায়গা নেই। পানির তোড়ে ধ্বসে গেছে বালাসীঘাটের রেলপথের মাটি। আশেপাশের গ্রামের মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রেলপথে এসে মাথার উপরে প্লাষ্টিক দিয়ে চালা তুলে শিশু বাচ্চার পাশে গরু ছাগল আর নিজেরা সংসার পেতেছেন। ঘরে থাকা যায়না তাই শিশু বাচ্চাদের নিয়ে সারাদিন বাধে বসে থাকেন ভেসে যাওয়া মানুষেরা। বন্যায় ঘর বাড়ি ভেসে যাওয়ায় মানুষেরা চরম বিপাকে পরেছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, ঘাঘট, তিস্তার পানি বাড়লেও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার এবং করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ জানান, এ পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধীক পরিবার পানি বন্দি। বন্যার্তদের মাঝে ৯০ মেঃ টন চাল এবং নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় হয়েছে। জেলার বন্যা দূর্গত এলাকার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ৩৪টি স্কুল বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে স্থানীয় ভাবে।

সাদুল্যাপুর থানা চত্বরে আহত মুসার খোঁজ রাখেনি কেউ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি॥ গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার চাঁদ করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া মুছা মিয়া (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্র সাদুল্যাপুর থানা চত্বরে আহত হওয়ার ঘটনায় ১০ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি খোঁজ রাখেনি কেউ। বর্তমানে হাড়ভাঙ্গা হাতের যন্ত্রণায় বাসগৃহে ছটফট করছে মুসা মিয়া। এদিকে রহস্যজনক কারণে নিরব দর্শকে ভূমিকা পালন করছে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। উল্লেখ্য, উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালীদহ গ্রামের দিনমজুর রশিদুল ইসলামের পুত্র ও চাঁদ করিম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র মুছা মিয়া গত ১৭ আগষ্ট সাদুল্যাপুর বহুমুখী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে আসে। ওইদিন দুপুরে মুছা মিয়া তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে থানা চত্বরের পার্কে ঘুরতে গেলে হাত ভেঙ্গে আহত হয় মুসা মিয়া। কিভাবে হাত ভেঙ্গে গেল মুসা মিয়ার? এ প্রশ্ন এখনো সবার মাঝে বিরাজ করছে। কেউ বলছে পুলিশের পিটুনীতে, আবার কেউ বলছে পা পিচলে পড়ে মুসা মিয়া হাত ভেঙ্গে আহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মুখ খুলছে না কেউই। ঘটনাটি জজমিয়া নাটকে পরিনত হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। আহত মুসা মিয়া আবেগ প্লাবুত ভাবে জানায়, আমি উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে বাবা মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চেয়েছিলাম কিন্ত সে স্বপ্ন আমার চুরমার হয়ে যাচ্ছে। গত ১০ দিন যাবত স্কুলে যাওয়া হয়েছে। সুস্থ্য হয়ে আবার ¯ু‹লে যেতে চায় মুসা মিয়া। সরজমিনে মুছা মিয়ার মা মঞ্জুরী বেগম জানান, আর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা সেবা না নিতে পারায় স্থানীয় কবিরাজ আনিছুর রহমানের নিকট ভাঙ্গা হাতে ব্যন্ডেজ দিয়ে কোনমতে ঝারফুক দেয়া হচ্ছে। এদিকে মুছা মিয়ার বাবা দিনমজুর রশিদুল ইসলাম কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিককে বলেন, আমার ছেলেকে দ্রুত সুস্থ্য করা প্রয়োজন কিন্তু অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে না পারার ফলে ভাঙ্গা হাতের যন্ত্রণায় রাত জেগে ছটফট করছে মুসা মিয়া। তিনি আরও জানান, ছেলেক দ্রুত সুস্থ্য করতে না পারলে আগামী জেএসসি পরীক্ষা হতে বঞ্চিত হতে পারে।

গাইবান্ধায় টানা বর্ষনে নদী ভাঙ্গন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ॥ বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট এবং তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে এখানকার নদী বিপদসীমার নিচে রয়েছে। অপরদিকে, পাহাড়ী ঢলের কারণে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন ৩টি গ্রামে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। এর ফলে জনজীবন চরম বিপাকে। এদিকে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে গাইবান্ধা জেলা সদরসহ, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা এবং ফুলছড়ি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ জানান, দুপুর পর্যন্ত তার ইউনিয়নের উত্তর উড়িয়া, রতনপুর ও কালাসোনা গ্রামের বেশ কয়েকটি স্থানে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন শুরু হয়। এর কারণে ৩৫টি পরিবার বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ভাঙন ঠেকাতে আহবান করা হয়েছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ ফুলছড়ির উপজেলার তিনটি গ্রামে ভাঙনের পয়েন্টগুলো চিহ্নিত ও পর্যবেক্ষণ করতে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে।

গাইবান্ধা বাস চাপায় আহত তিন পথচারীর মৃত্যু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি॥ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বাস চাপায় আহত স্বামী-স্ত্রীসহ তিন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ভোরে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের মাস্তা গ্রামের মৃত কাজেম উদ্দিনের ছেলে আলিম মিয়া (৪০), একই গ্রামের খোকা মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন (৪০) ও ইসমাইলের স্ত্রী তারা বেগম (২৮)। স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ফাঁসিতলা-মাস্তা এলাকা সংলগ্ন রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন আলিম, ইসমাইল ও তার স্ত্রী তারা বেগম। এসময়, হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একই পরিবহনের অন্য একটি বাসকে ওভারটেক করতে গিয়ে উল্টে যায়। এসময় উল্টে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়ে পথচারী ওই তিনজন ও বাসের ১৫ যাত্রী আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তিনজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে মৃত্যু হয় ওই তিন পথচারীর। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক প্রধান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুন্দরগঞ্জে বিধবা নারীকে পিটিয়ে হত্যা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি॥ গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পারিবারিক কলহের জের ধরে অমিছা বেগম (৪৪) নামে এক বিধবা নারীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার স্বজনরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মধ্য বেলকার সোনারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত অমিছা ওই গ্রামের মৃত একাব্বর আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- নিহতের ননদ আয়শা বেগম (৬২), জাও জুলেখা বেগম (৪০) ও ভাগিনা বউ মিনা বেগম (৩০)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করছিলেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অমিছার অনেক দিন যাবত বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার রাতে কলহের এক পর্যায়ে জাও-ননদ’রা মিলে অমিছাকে মারপিট করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অমিছা। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ওসি আর্ও জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।

কিউ সিক্সটিন’ আখ চাষে বিপর্যায়ে গোবিন্দগঞ্জের চাষীরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি॥ বিগত কয়েক বছর ধরে গোবিন্দগঞ্জের চাষীরা কিউ সিক্সটিন’ আখ চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হলেও বর্তমানে কিউ সিক্সটিন’ আখ চাষে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে আখ চাষীরা। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা, কামারদহ, রসুলপুর, বকচর, চেরাগালি, বার্নাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার প্রচুর ‘কিউ সিক্সটিন’ আখের আবাদ হয়েছে। অন্যান্য আখের চেয়ে ‘কিউ সিক্সটিন’ জাতের আখ নরম ও সুস্বাদু হলেও যথাসময়ে বাজারে আনতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। আখচাষীরা ব্যাপারীদের কাছ থেকে সঠিক দাম পাচ্ছে না, ফলে বিপাকে স্থানীয় আখ চাষীরা। এই ধরনের আখ সাধারনত রসের জন্য হয়ে থাকে। এই আখ থেকে কোন প্রকার চিনি হয় না বলে কোন মিল কারখানায় এটি বিক্রি হয় না। স্থানীয় আখ চাষীরা জানান, গতবছর বৈশাখের শুরুতে পাইকাররা এক বিঘা জমির আখ কিনেছিলেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। এবার ওই একই আখ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ হাজার টাকায় মাত্র। এবার গরম কম থাকায় মানুষেরা এখন আখ খায় না উল্লেখ করেন বর্ষার কারণেও আখ বিক্রি কম হয়। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। আখ ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যাপ্ত পরিমানে আখের সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা যেখানে লাগবে তিন গাড়ি, সেখানে দেয়া হচ্ছে এক গাড়ি। ঢাকা শহরে গেলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাহারা বানু বলেন, এই জাতের আখ চাষ করতে হলে খুব বেশি কারিগরি জ্ঞানেরও দরকার হয় না। এখানে রোগ এবং পোকামাকড়ের আক্রমনও খুব কম। উষ্ণ আবহাওয়ায় আখের চাহিদা ও দাম দুটাই বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।

অবিক্রিত চিনি নিয়ে বিপাকে রংপুর চিনিকল

গাইবান্ধা প্রতিনিধি॥ দফায় দফায় চিনির দাম কমিয়েও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলের উৎপাদিত চিনি বাজার ধরতে পারছে না। বাজারে চিনি বিক্রি না করতে পারায় দীর্ঘ তিন মাস যাবৎ শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। ফলে এখানকার চিনিকলের শ্রমিকরা চরম বিপাকে পরছে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে। সূত্রে জানা যায়, উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় অর্থাভাবে এ পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারিদের প্রায় ২ কোটি টাকা বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। চিনি বিক্রি না হওয়ায় মহিমাগঞ্জ রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ গত দু’বছরে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রথমে ৫০, ৪৫ টাকা, এর পরে ৪৫ থেকে ৪০ টাকা এবং সর্বশেষে ৩৭ দামে নিয়ে আসলেও তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে না। মহিমাগঞ্জ রংপুর চিনিকল চিনির দাম কমানোর সাথে সাথে বেসরকারি চিনিকলগুলো ৪ থেকে ৫ টাকা করে দাম কমিয়ে দেয়। এই অবস্থা বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার আওতাধীন দেশের ১৫টি চিনিকলেই বিরাজ করছে। গত ২৫ মে পর্যন্ত ১৫টি চিনিকলে অবিক্রিত মজুদ চিনির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৫ মেট্রিক টন। এরমধ্যে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলেই অবিক্রিত চিনি ছিল ৬ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন। চিনি বিক্রি না হওয়ায় রংপুর চিনিকলসহ দেশের প্রায় ১৫টি চিনিকলেই কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ২-৩ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে আছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে গত ২৫ মে থেকে বিএসএফআইসি ১ ও ২ কেজি ওজনের পলিব্যাগে চিনি প্যাকেট করে খোলাবাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। এরপরও ১ জুলাই বুধবার পর্যন্ত মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকলেই অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে ছিল ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৬ হাজার ৮৬৭ মেট্রিক টন চিনি। এ ব্যাপারে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল খালেক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিসহ শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধের বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জনানো হয়েছে। এ ব্যপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুত এই বিষয়টি সমাধান করা হবে।

গাইবান্ধায় যমুনার ভাঙ্গনে গৃহহীন ৫ শতাধিক পরিবার

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :< গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলায় গত ২ দিন যাবত যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমতে থাকার ফলে নদীর প্রবল স্রোতে উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়নের গোবিন্দি থেকে হাসিলকান্দি গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। যমুনা ভয়াবহ ভাঙ্গনে নদী এলাকার লোকজনের মনে আতংকিত সৃষ্টি হয়েছে। গত ১সপ্তাহে যমুনা নদীর অব্যহত ভাঙ্গনে উপজেলার গোবিন্দি, উত্তর সাথালিয়া, বাশহাটা, হাসিলকান্দি, দক্ষিণ সাথালিয়া গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি সহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়াও ঘুড়িদহ ও হলদিয়া ইউনিয়নের চিনিরপটল, গোবিন্দপুর, হলদিয়া বাজার এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সাঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন সুইট জানান, নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে শত শত পরিবার এখন সর্বশান্ত হয়েছে । গাইবান্ধার পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী চন্দ্রশেখর বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আপদকালীন জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন ঠেকানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রধান সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

সাদুল্যাপুরে পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে হত্যা

সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ ॥ আহত ৮

ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত

গাইবান্ধায় ৩ জনকে ছুরিকাঘাত করে ৬৫লাখ টাকা ছিনতাই

দুই দিনেও খোঁজ মেলেনি নিখোঁজ কলেজ ছাত্র বিকাশের

গোবিন্দগঞ্জে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ

একটু বৃষ্টি হলেই জলবদ্ধতা !

গাইবান্ধায় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও

গাইবান্ধায় সাজিদ হত্যা মামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন


আজকের সব সংবাদ

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com