শনিবার, ২২ Jul ২০১৭ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

সারাদেশ - রংপুর বিভাগ - কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের সীমান্ত দিয়ে আসছে ভারতীয় গরু

অনলাইন ডেস্ক :> জল কিংবা স্থলপথ। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কুড়িগ্রামের সীমান্ত পথে প্রতিদিনই আসছে ভারতীয় গরু। আর এসব পশুর আগমনে, কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন দেশীয় খামারিরা। বছর জুড়ে লালন-পালন করা গরুর বাজার দর না ওঠায় এবারও, লোকসানের আশঙ্কা তাদের। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া। দুপাশে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়া নজরদারি। তারপরও চলছে গরু পাচারের রমরমা ব্যবসা। কিন্তু কিভাবে? সীমান্তের বেশিরভাগই কাঁটাতারে ঘেরা থাকলেও দু'দেশের মাঝে কিছু জায়গায় আছে নদী। আর এটিকেই গরু পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সূর্য ডোবার আগে থেকেই সীমান্তের নির্জন এলাকা দিয়ে গরু পাচারের জন্য আনা হয় কাঁটাতারের কাছে। রাত নেমে এলেই শুরু হয় পাচার। কাঁটাতারের বেড়ার ওপর বাঁশের মই বিছিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢোকে ভারতীয় গরু। গরু পাচারে দু'দেশের সীমান্তে ঘোরাফেরা করে একাধিক চক্র। রাতারাতি ধনী হবার নেশায় পাচারের কাজে মেতে ওঠে তারা। বিশেষ করে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে পড়ে কুড়িগ্রামের পাচারকারীরা। তবে, বিজিবি কমান্ডারের দাবি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না তিনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কুড়িগ্রামের ৯ টি উপজেলার মধ্যে রৌমারী, যাত্রাপুর, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ি হাটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ভারতীয় গরু। এসব গরুর দাম কম থাকায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে দেশীয় খামারিদের।

রৌমারীতে গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেন ফরিদা পারভীন

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি॥ সচরাচর টেলিভিশন স্টুডিও এবং দেশি-বিদেশি খ্যাতনামা বিভিন্ন স্থানে গাওয়া লালন শিল্পী ফরিদা পারভীন রৌমারী দূর্গম অঞ্চলে এক আসরে গান গেয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী সিজিজামান উচ্চ বিদ্যালয়ে রংধনুর মঞ্চের আসরে গান তিনি। এতে রংধনুর সাংস্কৃতিক সংগঠন এর সভাপতি আবু হোরায়রা বলেন, আমাদের ছোট একটি রংধনু সংগঠন যা ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে আমাদের পথচলা। তিনি আরো জানান, যে রংধনুর সংগঠনের মাঝে গান ও সাংস্কৃতিক চর্চায় গড়ে তুলতে পারি লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের মত আমাদের ছোট শিল্পীদের মাঝেও। রংধনু সাধারন সম্পাদক মিজানুর রহমান মিনু জানান, আমাদের এই সংগঠনটি পাঁচ বছরে পদার্পন করে এবং ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে গান গেয়ে চলে গেল প্রখ্যাত লালন শিল্পী ফরিদা পারভীন যা আমাদের মাঝে গেঁথে দিয়ে গেল লালন গানের আবেগ গুলো। রৌমারী রংধনু ৫ম বাার্ষিকী উপলক্ষে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। প্রখ্যাত লালন শিল্পী ফরিদা পারভীন তিনি রৌমারীর মাঠিতে যখন পা রেখেছে তখনই মনে পরে, এই রৌমারী চিত্র শুধু টেলিভিশনে ও পত্র-পত্রিকায় এবং অনলাইন পত্রিকায় এই রৌমারী বেহাল চিত্র দেখে ছিলেন। তিনি বলেন, আজ বাস্তব চিত্র দেখেছি যে এই অঞ্চলের মানুষের চিত্র ও আবেগের কথা। কয়েক কিলোমিটার কাচামাটির ভাঙা-চোরা রাস্তা পেরিয়ে ফরিদা পারভীন যন্ত্রসংঙ্গীতের দলসহ বিকাল ৩টায় পৌঁছান রৌমারীতে। সন্ধ্যার সাড়ে ৭টার দিকে মঞ্চে উঠে গান শুরু করেন লালন গীতির জনপ্রিয় এই গায়িকা। ‘এই পদ্মা, এই মেঘনা, এই যমুনা সুরমা নদী তটে আমার রাখাল মন গান গেয়ে যায় এ আমার দেশ, এ আমার প্রেম আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে কত আনন্দ বেদনায় মিলন বিরহ সংকটে’ দিয়ে প্রায় হাজার দশেক শ্রোতার সামনে শুরু হয় তার পরিবেশনা। প্রায় দেড় ঘণ্টা বাউল ও লালন সম্রাট লালনের নানা গান গেয়ে ‘মিলন হবে কতো দিনে আমার মনের মানুষেরও সনে’ দিয়ে আসর ভাঙেন তিনি। তার পরিবেশনার পুরোটা সময় গভীর মনোযোগের সঙ্গে গান উপভোগ করেন শ্রোতারা। গান শেষে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কথার ফাঁকে ওই এলাকার সড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে কথা বলেন শিল্পী। রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ফরিদা পারভিনের গানের আগে অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাকির হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য ২৮ কুড়িগ্রাম ৪ ও রৌমারী উপজেলা সভাপতি (বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ), বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রৌমারী উপজেলার শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়ার আহমেদ জ্যাপলিন, রৌমারী উপজেলা শাখার শ্রমিকলীগ সভাপতি শহিদুল ইসলাম শালু এবং সাহেদ হোসেন খোকা রৌমারী সদর ইউনিয়ন সভাপতি। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ রৌমারী উপজেলা শাখার সভাপতি হারুনর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক জাইদুল ইসলাম মিনু এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ উপজেলা শাখার সভাপতি সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক সালমান ফারসী তুষার সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্ধ এবং সাংবাদিক কুদ্দুস বিশ্বাস, সাখাওয়াত হোসেন সাখা, মোস্তাফিজুর রহমান তারা, সাদিক হোসেন ভোলা, সুজাউল ইসলাম সুজা, সৌকত মন্ডলসহ সকল সাংবাদিক বৃন্ধ। গ্রামবাংলার লোকগানের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে সাম্প্রদাায়িক সম্প্রীতি ও ভেদাভেদহীন সমাজের মন্ত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রৌমারীর অঞ্চলে বিলুপ্তির পথে ‘গরীবের এসি’ মাটির ঘর

রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি ॥ হারিয়ে যাচ্ছে বাবার মাটির ঘর। সবুজ-শ্যামল ছায়াঘেরা শান্তির নীড় মাটির ঘর। বেশিদিনের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়তো অনেক মাটির ঘর। যাকে গ্রামের মানুষ বলেন, গরীবের এসি ঘর। ঝড়, বৃষ্টি থেকে বাঁচার পাশাপাশি প্রচুর গরম ও খুবই শীতে বসবাস উপযোগী মাটির তৈরি এসব ঘর এখন আর তেমন একটা নজরে পড়ে না। আধুনিকতায় ছোঁয়া আর কালের আবর্তে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা শৌলমারী ইউনিয়নের চেংটাপাড়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। অতীতে মাটির ঘর গরীবের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর বলে পরিচিত ছিল। এ ঘর শীত ও গরম মওসুমে আরামদায়ক তাই আরামের জন্য গ্রামের দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি অনেক বিত্তবানও মাটির ঘর তৈরি করেছেন। জানা যায়, এখানে প্রাচীন কাল থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল। এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিনত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করাহত। ১০-১৫ ফুট উচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় থড় অথবা ডেউটিনের ছাউনি দেয়া হয়। মাটির ঘর অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো। সব ঘর বড় মাপের হয় না। গৃহিনীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা একে গরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মওসুমে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বলে ইট- সিমেন্টের ঘর নির্মানে এখন উৎসাহী হচ্ছে মানুষ। এক সময় উপজেলার চেংটাপাড়া গ্রামের ও অনেক পরিবার মাটির ঘরে বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। তবে প্রবল বর্ষণে মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বেশি। ভুমিকম্প বা বন্যা না হলে একটি মাটির ঘর শত বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়। কিন্তু কালের আবর্তে দালান-কোঠা আর অট্রালিকার কাছে হার মানছে মাটির ঘর। উপজেলার চেংটাপাড়া গ্রামের জুহেরা খাতুন বলেন, ১৯৮৮ সালে আমাগো এই মাটির ঘর বানাইছি। এহ্যানো এই ঘর ভাঙ্গে নাই। আর এই ঘর গুলোত থাকলে জীবনে অনেক কিছু পায়। আমরা আল্লাহর বান্দা, আর জীবন তৈরি হয়েছে মাটি দিয়ে তাই আমাগো জীবন এই মাটির ঘরের ভিতরে কাটতে হয়। রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে আধুনিকতার সময় অধিকাংশই মানুষ মাটির ঘর ভেঙ্গে অধিক নিরাপত্তা ও স্বল্প জায়গায় অনেক লোকের নিবাসকল্পে ইটের ঘর তৈরি মনোনিবেশ করেছেন মানুষ।

কুড়িগ্রামে এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার, আটক ৩

কুড়িগ্রামে ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মেয়েটির পরিবার। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বই কিনতে উলিপুর বাজারে যায় দুই কিশোরী। বই কিনে বাড়ি ফেরার জন্য বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাড়ির আসার অপেক্ষা করছিলেন তারা। এসময় কয়েকজন জোর করে তাদের পাশের তেলের গুদামে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে এবং অপর কিশোরীকেও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ঘটনার পরেই, নির্যাতনের শিকার কিশোরী বিষয়টি পরিবারে জানালে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর শুক্রবার রাতেই ওই তেলের গুদামের দারোয়ানসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। কুড়িগ্রাম বি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রামে বিএসএফের গুলিতে গরু ব্যবসায়ী নিহত

কুড়িগ্রামে বিএসএফের গুলিতে শ্যামল চন্দ্র নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়ি উপজেলার খালিশা কোটাল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবি জানায়, গতরাত ২টার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা গ্রামের শ্যামল খালিশা কোটাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে গরু আনতে যান। এসময় সীমান্ত পার হয়ে তিনি ভারতে ঢুকলে ১শ' ২৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের করলা ক্যাম্পের টহল দল তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় শ্যামল কোটালিতে পালিয়ে আসলেও সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয়রা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকালে বিজিবি ও বিএসএফ এর মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কুড়িগ্রামে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস

কুড়িগ্রামে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা শহরে অবস্থিত ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দফতরে মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। এসময় বিজিবির রংপুর সেক্টরের উপ-মহাপরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার আলী, কুড়িগ্রামের সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পনির উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি জানায়, গত ২ বছরে জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে ৪২৩টি ঘটনায় এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com