শনিবার, ২২ Jul ২০১৭ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

অর্থ ও বাণিজ্য

মোটরসাইকেল উৎপাদনে শুল্ক না বাড়ানোর পরামর্শ জাপানের

অর্থনৈতিক ডেস্ক:: বাংলাদেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন শিল্পে সম্পূরক শুল্ক না বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে। আজ রোববার (১৮ জুন) শিল্প মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে বৈঠককালে রাষ্ট্রদূত এ পরামর্শ দেন। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব বেগম পরাগসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাসাতো ওয়াতানাবে বলেন, গত অর্থবছর জারিকৃত এসআরওতে শিল্পবান্ধব শুল্ক কাঠামো নির্ধারণের ফলে বাংলদেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন শিল্প ক্রমেই বিকশিত হচ্ছে। তিনি বলেন, শতকরা ২০ ভাগ সম্পূরক শুল্ক থাকায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের প্রসার এবং এ খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এই খাত দ্রুত প্রগ্রেসিভ ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাত হিসেবে বিকশিত হবে। এ সময় রাষ্ট্রদূত শতকরা ৪৫ ভাগ সম্পূরক শুল্কারোপ করে গত ১ জুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের কথা তুলে ধরেন। এর ফলে বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচারিং মোটরসাইকেল শিল্প বিকাশ ব্যাহত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠককালে ওয়াতানাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের স্বার্থে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজন শিল্পে শতকরা ২০ ভাগ সম্পূরক শুল্ক অব্যাহত রাখতে শিল্পমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ ছাড়া বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের শিল্পখাতে জাপানের সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, জাপান সবসময় বাংলাদেশের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে গুণগত শিল্পায়নের ধারা জোরদারে জাপানের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শিল্পমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের টোকিও সফরের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে অর্থবহ দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সম্পর্কের সূচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণ এবং পদ্মা সেতুর প্রাক-সমীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়। এছাড়া তিনি উৎপাদনমুখী মোটরসাইকেল শিল্পের প্রসারে সহায়ক শুল্ক কাঠামো নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে রাষ্ট্রদূতকে জানান।

কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে বাজুস

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: শুল্ক গোয়েন্দা আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শো-রুম থেকে সোনা জব্দ করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) আগামীকাল রোববার থেকে যে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ শনিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই ও বাজুসের নেতারা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেন। বাজুসের সহ-সভাপতি এনামুল হক খান দোলন এ কথা জানিয়েছেন। এদিকে, শনিবার দুপুর দেড়টায় মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের কার্যালয়ে এফবিসিসিআই ও বাজুসের যে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি।

১১ জুন থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের ডাক

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: আপন জুয়েলার্সের জব্দ করা স্বর্ণ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়া না হলে আগামী ১১ জুন থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছেন। আজ বুধবার দুপুরে বায়তুল মোকাররমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) অফিসে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সমিতির সহ-সভাপতি এনামুল হক খান সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, আপন জুয়েলার্সের জব্দ করা স্বর্ণ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফেরত দেওয়া না হলে আগামী ১১ জুন থেকে সারাদেশে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট করবেন। এছাড়া ১২ জুন বাণিজ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। ১৫ জুন ঢাকায় সমাবেশ করা হবে। এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণ ব্যবসা সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরি করা জরুরি। বাজুসের এ নেতা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খানের অপসারণ দাবি করেন।

ঈদের আগে গরুর মাংসের কেজি ৭শ ছাড়াতে পারে

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: ঈদের আগে আবারও গরুর মাংসের দাম বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মোট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম। একই সঙ্গে সমিতিতে যে পদে রয়েছেন সে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রবিউল আলম বলেন, সরকার ২৬ রমজান পর্যন্ত গরু, খাসি, মহিষের মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করব। কিন্তু এরপর মাংসের দাম কত বাড়বে তা আমরা বলতে পারব না। কারণ, গাবতলী গরুর হাটের অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। তাই ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মাংসের দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাংস ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে সন্ত্রাসীরা তালা দিয়েছে- এমন অভিযোগ করে ৭ দিনের মধ্যে তা খুলে দেয়ার দাবি জানান রবিউল আলম। অন্যথায় এ সমিতি বিলুপ্ত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। গাবতলী হাটের অতিরিক্ত খাজনা আদায়ে ঢাকা উত্তর সিটির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে না পারায় সংগঠনের মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন রবিউল আলম। তিনি বলেন, ১৫ মাস আন্দোলন করার পর সাড়া না পেয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলাম। ৪০ বছর এ সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছি। এখন আর পারছি না। উত্তরের মেয়রের সাক্ষাৎ চেয়ে পাইনি। ১০ মিনিট সময় দেন তিনি। চাঁদাবাজরা তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। পদত্যাগের ঘোষণার আগে তিনি বলেন, গরুর মাংসের ব্যবসা নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশবাসীকে যেন অল্প দামে মাংস খাওয়ানো যায়। তার জন্য সিটি কর্পোরেশনের ইজারা নির্ধারণ করে দেয়া হয় ৫০ টাকা। এটা কেউ মানছে না। অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করছে।

তেল বেঁচে সরকারের মুনাফা ৭,৩৩৫ কোটি টাকা

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: জ্বালানি তেল বিক্রি করে ভালই ব্যবসা করছে সরকার; চলতি অর্থবছরের দশ মাসে নিট মুনাফা হয়েছে সাত হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম দামে তেল কিনে বেশি দামে বিক্রি করার কারণে তিন বছর ধরে মুনাফায় রয়েছে সরকার। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৭ অনুযায়ী, বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সরকারের ৪৫টি সংস্থার মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান লোকসান দিলেও তেল আমদানিকারক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ৭ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছরে (১২ মাসে) বিপিসির মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৪০ কোটি টাকা, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ১২৬ কোটি টাকা। গত তিন বছর বিপিসি লাভের মুখ দেখলেও তার আগের বছরগুলোতে সংস্থাটি লাগাতার লোকসানে ছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। তার আগের বছরে (২০১০-১১) লোকসানি ছিল ৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে লোকসানের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪ হাজার ৮৩২ কোটি ও ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

তিন বছরের জন্য ১৫ শতাংশ হারেই ভ্যাট

অর্থনৈতিক ডেস্ক:: হাজারের বেশি পণ্যে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা দিয়ে ১৫ শতাংশ হারেই কার্যকর হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক)ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২। যা আগামী তিন বছর অপরিবর্তিত থাকবে। আর নতুন এ আইন ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করে অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আমার কাছে শুরু থেকে একটি অতি উত্তম কর বলে মনে হয়। তবে করের আওতায় কোনো পণ্য উৎপাদনে বা সেবা প্রদানে বিভিন্ন পর্যায়ে যে হিসাব রাখতে হয় তা সংগ্রহকারী কতিপয় ব্যবসায়ীরা রাখতে চান না। তাই ভ্যাটকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য আমাকে বিভিন্ন উপায় উদ্ভাবন করতে হয়। তাই টার্নওভার কর ও ভ্যাটমুক্ত সীমা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট রাখার প্রস্তাব করছি। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে ছোট বড় সব ধরনের ব্যবসা ও সেবার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কথা বলা হয়েছে। তবে বার্ষিক টার্নওভার বছরে ৩৬ লাখ টাকার নিচে হলে ব্যবসায়ীকে ভ্যাট দিতে হবে না। মাসে ৩ লাখ টাকা পর্য্ন্ত টার্নওভারধারী প্রতিষ্ঠানের কোনো করই দিতে হবে না। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী টার্নওভার করের সীমা ৮০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। অর্থ্যাৎ যে সব প্রতিষ্ঠানের মাসিক টার্নওভারের পরিমাণ ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার নিচে তারা মাত্র ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর পরিশোধ করবেন। এতদিন ৩০ লাখ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারের ক্ষেত্রে তিন শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি অনন্য সুযোগ যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নেই। এছাড়া, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রস্তাব অনুসারে নতুন ভ্যাট আইন ও বিধিমালার পদ্ধতিগত সহজীকরণ সংক্রান্ত কতিপয় সংশোধন আনা হয়েছে।’ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা ছিল ৭২ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৬৮ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ৮৫ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৭১ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এছাড়া নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩০ হাজার ২৩ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৩৮ হাজার ৪০১ কোটি টাকা, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৪৪ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ১ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, আদায় সন্তোষজনক না হওয়ায় তা সংশোধন করে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সংশোধন করে তা ৩ লাখ ১৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা করা হয়েছে।

৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। আজ বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে তিনি এ বাজেট পেশ করেন। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের ও ‘৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এছাড়া এনবি আর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। কর বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩১ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ২১ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৬০ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৩২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের সভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়। এরপরই রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি হচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের চতুর্থ বাজেট। অপরদিকে এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ৪৬তম বাজেট এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৮তম। আর অর্থমন্ত্রী হিসাবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের একাদশতম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতই প্রথম অর্থমন্ত্রী যিনি ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত একনাগারে ৯টি বাজেট পেশ করছেন। অবশ্য তিনি ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে আরো দুটি বাজেট পেশ করেছিলেন। অর্থমন্ত্রী বিকেল ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাজেট বক্তৃতার শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, চার জাতীয় নেতা, মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, ‘৭৫-এর কালোরাত্রিতে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সাথে নিয়ে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।

টানা নবম বাজেট দিয়ে বিরল রেকর্ড গড়বেন মুহিত

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: আর মাত্র একদিন বাকি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। এর মধ্য দিয়ে টানা নবম বাজেট উপস্থাপনের নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তিনি। এই উপমহাদেশেতো অবশ্যই সম্ভবত বিশ্বের আর কোন দেশে এমন নজির নেই। আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে তার দেওয়া বাজেটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১টি। তবে সংখ্যার দিক থেকে এখন পর্যন্ত প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান তিন দফায় ১২টি বাজেট দিয়ে শীর্ষে রয়েছেন। অর্থমন্ত্রী মুহিত ২০১০-২০১১ অর্থবছরে একলাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন। আগামী অর্থবছর এর পরিমান চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ইতোমধ্যে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার অব্যহতি পরেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর দেশে নয়জন অর্থমন্ত্রী ৪৫টি বাজেট দিয়েছেন, এবার নিয়ে জাতি ৪৬তম বাজেট পেতে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে প্রথমটিসহ মোট তিনটি বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক সরকার এবং তাদের ছত্রছায়ায় বেশ কয়েকটি সরকার দেশ শাসন করেছে। এসময় দেশে জাতীয় সংসদ সচল ছিল না। সামরিক সরকারগুলো অধ্যাদেশ আকারে বাজেট পেশ করে। সরকারি তথ্য থেকে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে অবৈধভাবে নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর ১৯৭৫-১৯৭৬ অর্থবছর ড. আজিজুর রহমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণা করেন। এরপর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান দুটি বাজেট দেন। পরবর্তীতে তিনি প্রহসনের হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আরো একবারসহ মোট তিনটি বাজেট ঘোষণা করেন। পরে ড. এমএন হুদা একবার এবং এরপর ১৯৮০-১৯৮১ ও ১৯৮১-১৯৮২ অর্থবছরে পরপর দু’বার বাজেট ঘোষণা করেন সাইফুর রহমান। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এরশাদ ক্ষমতা গ্রহন করেন। তার শাসনামলে ১৯৮২ সালে আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯৮২-১৯৮৩ ও ১৯৮৩-১৯৮৪ দুই অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। ১৯৮৪-১৯৮৫ অর্থবছর থেকে ১৯৮৭-১৯৮৮ অর্থবছর পর্যন্ত পরপর চার অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন এম. সায়েদুজ্জামান। ১৯৮৮-১৯৮৯ এবং ১৯৯০-১৯৯১ অর্থবছরে মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম দু’বার বাজেট দেন। মাঝে ১৯৮৯-১৯৯০ অর্থবছরে ড. ওয়াহিদুল হক বাজেট পেশ করেন। ১৯৯০ সালে সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের পতন ঘটানোর পর তত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তন হয়। ওই সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে এম. সাইফুর রহমান আবার অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ১৯৯১-১৯৯২ অর্থবছর থেকে ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট পাঁচটি বাজেট পেশ করেন। ১৯৯৬ সালে আন্দোলনের মুখে বিএনপি সরকারের পতনের পর তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয় এবং এসএএমএস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। তিনি ১৯৯৬-১৯৯৭ অর্থবছর থেকে ২০০১-২০০২ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ছয়টি বাজেট পেশ করেন। ২০০১ এর নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার গঠন করে। এম. সাইফুর রহমান অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে ২০০১-২০০২ অর্থবছর থেকে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর পর্যন্ত ৫টি বাজেট পেশ করেন। বিরোধীদলের আন্দোলনের মুখে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। সামরিক বাহিনী সমর্থনপুষ্ট ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। অর্থউপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়ে ড.এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ২০০৭-২০০৮ ও ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা লাভ করলে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপান আবু মাল আবদুল মুহিত। তিনি ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে চলতি ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যন্ত টানা ৮টি বাজেট পেশ করেন। বৃহস্পতিবার ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের এবং দেশের ৪৬তম বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন। নিচে বিভিন্ন অর্থবছরের বাজেটের আকার ও প্রস্তাবকারী অর্থমন্ত্রীদের নাম তুলে ধরা হলো- ১৯৭২-১৯৭৩ তাজউদ্দীন আহমদ ৭৮৬ কোটি টাকা, ১৯৭৩-১৯৭৪ তাজউদ্দীন আহমদ ৯৯৫ কোটি টাকা, ১৯৭৪-১৯৭৫ তাজউদ্দীন আহমদ ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকা, ১৯৭৫-১৯৭৬ ড. আজিজুর রহমান ১৫৪৯.১৯ কোটি টাকা, ১৯৭৬-১৯৭৭ জিয়াউর রহমান ১৯৮৯.৮৭ কোটি টাকা, ১৯৭৭-১৯৭৮ জিয়াউর রহমান ২১৮৪ কোটি টাকা, ১৯৭৮-১৯৭৯ জিয়াউর রহমান ২৪৯৯ কোটি টাকা, ১৯৭৯-১৯৮০ ড. এম এন হুদা ৩৩১৭ কোটি টাকা, ১৯৮০-১৯৮১ এম সাইফুর রহমান ৪১০৮ কোটি টাকা, ১৯৮১-১৯৮২ এম সাইফুর রহমান ৪৬৭৭ কোটি টাকা, ১৯৮২-১৯৮৩ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৪৭৩৮ কোটি টাকা, ১৯৮৩-১৯৮৪ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৫৮৯৬ কোটি টাকা, ১৯৮৪-১৯৮৫ এম সায়েদুজ্জামান ৬৬৯৯ কোটি টাকা, ১৯৮৫-১৯৮৬ এম সায়েদুজ্জামান ৭১৩৮ কোটি টাকা, ১৯৮৬-১৯৮৭ এম সায়েদুজ্জামান ৮৫০৪ কোটি টাকা, ১৯৮৭-১৯৮৮ এম সায়েদুজ্জামান ৮৫২৭ কোটি টাকা, ১৯৮৮-১৯৮৯ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১০৫৬৫ কোটি টাকা, ১৯৮৯-১৯৯০ ড. ওয়াহিদুল হক ১২৭০৩ কোটি টাকা ১৯৯০-১৯৯১ মেজর জেনারেল (অব.) মুনিম ১২৯৬০ কোটি টাকা, ১৯৯১-১৯৯২ এম সাইফুর রহমান ১৫৫৮৪ কোটি টাকা, ১৯৯২-১৯৯৩ এম সাইফুর রহমান ১৭৬০৭ কোটি টাকা, ১৯৯৩-১৯৯৪ এম সাইফুর রহমান ১৯০৫০ কোটি টাকা, ১৯৯৪-১৯৯৫ এম সাইফুর রহমান ২০৯৪৮ কোটি টাকা, ১৯৯৫-১৯৯৬ এম সাইফুর রহমান ২৩১৭০ কোটি টাকা, ১৯৯৬-১৯৯৭ এসএএমএস কিবরিয়া ২৪৬০৩ কোটি টাকা, ১৯৯৭-১৯৯৮ এসএএমএস কিবরিয়া ২৭৭৮৬ কোটি টাকা, ১৯৯৮-১৯৯৯ এসএএমএস কিবরিয়া ২৯৫৩৭ কোটি টাকা, ১৯৯৯-২০০০ এসএএমএস কিবরিয়া ৩৪২৫২ কোটি টাকা, ২০০০-২০০১ এসএএমএস কিবরিয়া ৩৮৫২৪ কোটি টাকা, ২০০১-২০০২ এসএএমএস কিবরিয়া ৪২৩০৬ কোটি টাকা, ২০০২-২০০৩ এম সাইফুর রহমান ৪৪৮৫৪ কোটি টাকা, ২০০৩-২০০৪ এম সাইফুর রহমান ৫১৯৮০ কোটি টাকা, ২০০৪-২০০৫ এম সাইফুর রহমান ৫৭২৪৮ কোটি টাকা, ২০০৫-২০০৬ এম সাইফুর রহমান ৬১০৫৮ কোটি টাকা, ২০০৬-২০০৭ এম সাইফুর রহমান ৬৯৭৪০ কোটি টাকা, ২০০৭-২০০৮ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা, ২০০৮-২০০৯ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯৯৬২ কোটি টাকা, ২০০৯-২০১০ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১১৩,৮১৫ কোটি টাকা, ২০১০-২০১১ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৩২,১৭০ কোটি টাকা, ২০১১-২০১২ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৬৫,০০০ কোটি টাকা, ২০১২-২০১৩ আবুল মাল আবদুল মুহিত ১৯১,৭৩৮ কোটি টাকা, ২০১৩-২০১৪ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা, ২০১৪-২০১৫ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা, ২০১৫-২০১৬ আবুল মাল আবদুল মুহিত ২লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা, ২০১৬-২০১৭ আবুল মাল আবদুল মুহিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

গ্যাসের দাম বাড়বেই বাড়বে : অর্থমন্ত্রী

ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: বাজেটে গ্যাসের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রস্তাবনা জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুতের সংকট এবং ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর হলে উদ্যোক্তারা সক্ষমতা হরাবে। দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় উৎপাদন। আবার দফায় দফায় দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ অস্বস্তিতে পড়ছে। এবারের বাজেটেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির সংবাদ থাকছে না। বরং অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামীতে গ্যাসের দাম বাড়ছে। এ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়বেই বাড়বে। স্বল্প টাকায় গ্যাস দেয়ার কোন সুযোগ নেই’। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও তার সুফল পাচ্ছে না দেশের মানুষ। এতে শিল্প উৎপাদনে যেমন ব্যয় বাড়ছে, তেমন মূল্যস্ফীতিতেও উস্কে দেয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জন্য জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেয় হবে’। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকটের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য আতঙ্কের আরেক নাম ভ্যাট। ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট কার্যকর হলে ব্যাহত হবে দেশের শিল্প উৎপাদন। এ সম্পর্কে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ‘গ্যাসের, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। পোর্টে পণ্য খালাসের জন্য খরচ বাড়ছে। আবার অবকাঠামোর স্বল্পতার জন্যও খরচ বাড়ছে। এখন খরচ যদি বাড়তেই থাকে তাহলে উৎপাদিত পণ্যে যে দাম হবে তার থেকে অন্যান্য দেশের বৃহৎ উৎপাদনকৃত কোম্পনি তাদের পণ্যের দাম কমানো শুরু করলে দেশীয় শিল্প ক্ষতির মধ্যে পড়বে’। করের হার আসছে বাজেটে নতুন করে বিন্যাস হচ্ছে। তবে করপোরেট ট্যাক্স না কমাতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় ব্যাবসায়িক সমাজে অস্বস্তি আরো বেড়েছে। সূত্র : যমুনা টিভি

প্রধান সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

ব্যবসায়ী-অর্থনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া: নতুন ভ্যাট আইনে সংকট তৈরি হবে

এবারের বাজেটে সবার নজর ভ্যাট আইনে

ইসলামী ব্যাংকের আরও ৬ পরিচালকের পদত্যাগের হুমকি

সিএনজিতে গ্যাস সংযোগ না দেয়ার ঘোষণা আসছে

রমিট্যান্সে ভয়াবহ ধস, টেনশনে সরকার

উৎসবমুখর পরিবেশে এফবিসিসিআইয়ের ভোট গ্রহণ চলছে

আগামী বছরের বাজেট হবে ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা: অর্থমন্ত্রী

আপন জুয়েলার্সের অবৈধ ডায়মন্ড ব্যবসা

ভ্যাট হার স্বস্তির জায়গায় নিয়ে আসা হবে: অর্থমন্ত্রী


আজকের সব সংবাদ

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com