শনিবার, ২২ Jul ২০১৭ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

সারাদেশ - খুলনা বিভাগ - খুলনা

খুলনার ৪টি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে মানুষের চরম ভোগান্তি

খুলনা ব্যুরো॥ নিবন্ধন পরিদপ্তর ঢাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের কারনে খুলনার সাধারণ জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা বহির্ভূত ভাবে খুলনার দাকোপ, কয়রা, দৌলতপুর, পাইকগাছা এই ৪টি সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে পদ থাকা সত্বেও অন্য জেলা হতে সাব-রেজিষ্ট্রারদের অতিরিক্ত দয়িত্ব দিয়ে এ অফিস গুলোয় কাজ চালানো হয়। বিভিন্ন জেলা হতে দায়িত্ব প্রাপ্ত সাব-রেজিষ্ট্রার এ সব অফিসগুলো শুরু করে ৯টার স্থালে ৩টায়। রেজিষ্ট্রি কাজ শেষ হতে সময় লাগে রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত। যে কারনে দুর দুরান্ত থেকে আসা মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বর্তমানে এ অফিসাগুলোতে অতিরিক্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন সাব-রেজিষ্ট্রার রবিন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তার মূল অফিস ফিরোজপুর জেলার মট বাড়িয়া। তিনি অতিরিক্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন খুলনার পাইকগাছা। সাব-রেজিষ্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ তার মূল অফিস সদর নড়াইল। তিনি অতিরিক্ত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন খুলনা জেলার কয়রা ও দাকোপ অফিস। সাব-রেজিষ্ট্রার মনজুরুল ইসলাম তার মূল অফিস নড়াইল জেলার লক্ষীপাশা তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পলন করেন। খুলনার দৌলতপুর অফিস। বাহিরের জেলা হতে এই সব সাব-রেজিষ্ট্রিরা সঠিক সময় অফিসে পৌছাতে পারে না। যে কারনে জনগণের এই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। জানা যায়, এই সব সাব-রেজিষ্ট্রিরা মোটা অংকের উৎকোচের মাধ্যমে অতিরিক্ত এই দায়িত্ব গ্রহন করেন। লক্ষ লক্ষ টাকা কামানোর আশায়। বিষয়টি অইন মন্ত্রির নিকট হস্তক্ষেপ কামনা করছে খুলনাবাসী।

সুন্দরবনের নদ-নদী প্রভাবশালীদের দখলে

এস এম সাইদুর রহমান সোহেল॥ সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকার জীব বৈচিত্রসহ মৎস্য সম্পদ সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতাদের সিন্ডিকেটের দখলে। সুন্দরবনের ১৮৭৪ বর্গ কিলোমিটার জলভাগ, ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জেলেদের কাছে ইজারা দিয়ে অবৈধভাবে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের জেলেরা জানান, আগে বন বিভাগ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব দিয়ে পাশ-পারমিট নিয়ে ৩টি অভয়ারণ্যের জলভাগসহ ১৮টি খাল বাদে অন্যসব নদ-নদী ও খালে বছরে ১০ মাস ১৬ প্রকার জাল দিয়ে মাছ শিকার করতো। এখন তারা বন বিভাগ থেকে পাশ-পারমিট নিয়েও সুন্দরবনে আগের মতো স্বাধীনভাবে মাছ শিকার করতে পারছে না। শাসক দলের এক শ্রেণীর প্রভাবশালী নেতারা সিন্ডিকেট করে সুন্দরবনের নদী বা খালের কোন অংশে কে জাল ধরবে তা লাখ-লাখ টাকা নিয়ে নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এভাবে গোটা সুন্দরবনের নদ-নদী ও খালকে কয়েক হাজার খন্ডে ভাগ করে জেলেদের কাছে অবৈধভাবে ইজারা দেয়া হচ্ছে। শাসকদলের প্রভাবশালী এসব নেতারা সুন্দরবনের বিভিন্ন অফিস, ফাঁড়ি ও ক্যাম্পের এক শ্রেণীর বনকর্তাদের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসের জন্য চালু করেছে এ অবৈধ ইজারা প্রথা। এক শ্রেণীর মৎস্যজীবী নেতা, অসাধু বনকর্তা ও বনদস্যুদের সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে কথিত ইজারা না নিয়ে সুন্দরবনে এখন আর মাছ শিকার করা যাচ্ছে না। কোন জেলে এটা না মানলে তার জাল তুলে নিয়ে সুন্দরবন থেকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনকি নেতাদের সিন্ডিকেটের আদেশ অমান্য করলে জেলেদের পড়তে হয় বনদস্যুদের কবলে। পাশাপাশি ফাঁসানো হচ্ছে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক মামলায়। জেলেরা সুন্দরবনের নদী ও খালের এক একটি খন্ড এলাকা এ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে কথিত ইজারা নিতে তাদের দিতে হচ্ছে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা করে। জেলেরা বৈধভাবে সুন্দরবনে গিয়ে মাছের জন্য বলেশ্বর, যমুনা, কুংগা, পশুর, শিবসা, মালঞ্চ, রায়মঙ্গল, আড়পাঙ্গাশিয়া, শ্যালা, চুনকুড়ি, খোলপেটুয়া, কটকা, আড়য়াশিবসা, শাকবাড়িয়া, ঝাপা, বেতমোর, ভোলা, মরাভোলা, মরাপশুর, বল, হড্ডা, হংসরাজ, কাগা নদী ও খালে গিয়ে জাল ফেলতে পারছে না। সেখানে নেতাদের এ সিন্ডিকেটকে মোটা অংকের টাকা দিলে ৩টি অভয়ারণ্যের জলভাগসহ ১৮টি খালে মাছ শিকারের নিষিদ্ধ সুন্দরবন এলাকায় বিশেষ বিশেষ জেলেদের মাছ ধরতে দেয়া হচ্ছে। সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত কোন জেলেই নিজের জীবন রক্ষার্থে এসব প্রভাবশালী নেতাদের নাম-পরিচয় জানাতে রাজি হয়নি। এমনকি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপাই রেঞ্জের এক ষ্টেশন কর্মকর্তা বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন নাংলী, ধানসাগর ও কলমতেজী এলাকার তুলাতলা, পোড়ামহল, পচাকোরালিয়া এলাকার বিভিন্ন খালগুলো বনসংলগ্ন এলাকার জেলেদের মাঝে ইজারা দিয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে গেলে সঠিকভাবে সুন্দরবনে চাকুরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। একইভাবে এ বনকর্তা শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের নাম ও সিন্ডিকেটের পরিচয় জানাতে চাননি। সুন্দরবন বিভাগের হিসেব মতে, প্রতি মৎস্য আহরণ মৌসুমে ১৫ হাজার মেট্রিক টন ২১০ প্রজাতির মাছ, প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন ২৬ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া, ১ প্রজাতির লবস্টার ও ৭৫০ মেট্রিক টন রূপালী ইলিশ শিকারে জড়িত প্রায় দেড় লাখ জেলে। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) জানান, সুন্দরবন বিভাগের কোন বিষয় স্থানীয়দের দেখার কোন অধিকার নেই। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে জেলেদের স্বার্থে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনাঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবার করুণদশা, বছরজুড়ে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি বিকল

এস এম সাইদুর রহমান সোহেল :> স্বাস্থ্য সেবার সূতিকাগার খুলনার প্রত্যন্ত উপজেলাগুলোর স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। সাধারণ নাগরিকের সত্যিকারে চিকিৎসা সেবা যেন শুভংকরের ফাঁকি। চিকিৎসা বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষের করুণ আর্তনাদে কারো যেন মাথাব্যাথা নেই। খুলনার বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে প্রতিবছর শত কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড হলেও মাসের পর মাস বছরের পর বছর চিকিৎসার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে। ডাক্তার থাকলে নার্স থাকে না, নার্স থাকলে ডাক্তার থাকে না। এক্সেরে মেশিন থাকলেও নষ্ট। প্যাথলজিতে নেই সরঞ্জাম। এম্বুলেন্স থাকলেও মাসের পর মাস থাকে অচল। যেন দেখার কেউ নেই। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিয়মিত চিঠি লিখলেও উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বটিয়াঘাটা উপজেলার বুজবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো: সিরাজুল ইসলাম হঠাৎ করে পেটে ও পায়ে ব্যাথা নিয়ে কম খরচে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পেটে ব্যাথার জন্য আল্ট্রাসোনো এবং পায়ে ব্যাথার জন্য এক্সরে করার পরামর্শ দিলেন চিকিৎসক। কিন্তু হাসপাতালের প্যাথলজিতে গিয়ে দেখা গেল আল্ট্রাসোনো করার ব্যবস্থা নেই এবং এক্সরে মেশিন নষ্ট। স্বল্প খরচে চিকিৎসা নিতে পারলেও পরীক্ষাগুলো করতে পারলেন না সিরাজ। বাধ্য হয়ে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে পার্শ্ববর্তী একটি ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারে চড়া রেটে পরীক্ষাগুলো করলেন সে। জেলার দিঘলিয়া উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিন নষ্ট থাকায় উপজেলার আব্দুর রহমান নামের একজন রোগী নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এসেছেন এক্সরে করার জন্য। হত দরিদ্র মানুষ হওয়ায় খুলনায় এসে পরীক্ষা করতে আর্থিকভাবে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তার। খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত পড়ছেন এমন ভোগান্তিতে। খুবই প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতি অচল থাকায় স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ৯টি উপজেলা বাসিন্দারা। এদিকে মেশিনগুলো মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিমাসে সিভিল সার্জন তাগাদা দিলেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। খুলনার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল এবং ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে ৯টিই অচল হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র জেনারেল হাসপাতালের দু’টি, দাকোপে ২টি ও তেরখাদার ১টি মোট ৫টি এক্সরে মেশিন ভালো আছে। বাকী ডুমুরিয়ার ১টি এবং ফুলতলা ২টি মেশিন দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট। বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়ার, রূপসা, পাইকগাছার ও কয়রার মেশিনগুলো সব বর্তমান অচল হয়ে পড়েছে। জেলার ৯ উপজেলা ও খুলনায় জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে শুধুমাত্র জেনারেল হাসপাতাল এবং ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দু’টি ইসিজি মেশিন রয়েছে। অধিকাংশ সময়ই নষ্ট থাকে ফুলতলার মেশিনটি। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন একমাত্র খুলনা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ৩টি। এর মধ্যে ভাল রয়েছে ২টি। বাকী ১টি নষ্ট হয়ে রয়েছে। অটোক্লেভ জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে ৪টি, এরমধ্যে অচল ২টি, পাইকগাছা ২টির মধ্যে একটি অচল। বাকী অন্যান্য উপজেলার সবগুলো অচল বলে জানা গেছে। মাইক্রোসকোপ জেনারেল হাসপাতালে ২টি, ফুলতলায় ৩টি, দিঘলিয়ায় ২টি, রূপসায় ১টি, বটিয়াঘাটায় ১টি, দাকোপে ১টি, পাইকগাছায় ২টি অচল রয়েছে। এছাড়া তেরখাদায় ১টি, ডুমুরিয়ায় ৩টি কয়রায় ২টি ভালো রয়েছে। সাকার মেশিন উপজেলার ডুমুরিয়ায় ১টি, ফুলতলায় ১টি, দিঘলিয়ায় ১টি, বটিয়াঘাটায় ১টি, দাকোপে ১টি, পাইকগাছায় ৩টি এবং কয়রায় ১টি অচল রয়েছে। লেবুলাইজার ফুলতলায় ২টি রূপসায় ২টি, পাইকগাছায় ১টি এবং কয়রায় ১টি অচল রয়েছে। এ ব্যাপারে কয়েকজন রোগী জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় আমাদের পরিবহন খরচসহ সময় নষ্ট করে এবং খুলনা বিভিন্ন ক্লিনিকে ২/৩ গুণ অর্থ বেশি দিয়ে পরীক্ষাগুলো করাতে হচ্ছে। এতে আমরা সবদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। খুলনার সিভিল সার্জন জানান, মেশিনগুলো নষ্ট থাকায় প্রতি মাসে রিপোর্ট নেয়া হচ্ছে এবং অচল মেশিনগুলো মেরামতের জন্য ঢাকায় কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ইতিবাচক কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, অনেক অপ্রতুলতা থাকা স্বত্ত্বেও বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য সেবার মান আগের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে ঠিকই তবে খুব তাড়াতাড়ি তৃণমুল পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা আরো যুগোপযোগী হবে। সরকার জনগনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে বদ্ধ পরিকর। অপরদিকে, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান সন্তোষজনক নয়। এ অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য আমরা দীর্ঘ দিন আন্দোলন করে আসছি।

সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয়

এস এম সাইদুর রহমান সোহেল :> প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে বিলুপ্তির পথে বাঘ। প্রতি বছর অব্যাহতভাবে কমছে বাঘের সংখ্যা। শুধু বাংলাদেশে নয়, এ চিত্র অন্যান্য দেশেরও। এভাবে চলতে থাকলে প্রাণীটি অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০০৪ সালের বাঘশুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘ ছিল ৪শ ৪০টি। এর মধ্যে পুরুষ বাঘ ১শ ২১টি, বাঘিনী ২শ ৯৮টি ও শাবক ২১টি। গত এক যুগের কিছু বেশি সময়ে দেশে বাঘ কমে দাঁড়িয়েছে ১শ ৬টিতে। অথচ ২০১০ সালেও বন বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব বাংলাদেশের যৌথ জরিপে বাঘের সংখ্যা ৪শ থেকে ৪শ ৫০ উলে¬খ করা হয়। সে হিসেবে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা গত চার বছরে এক-চতুর্থাংশ কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও খাবারের ভিত্তিতে কমপক্ষে ২শ বাঘ থাকার কথা থাকলেও সেখানে বাঘ আছে মাত্র ১শ ৬টি। এভাবে কমতে থাকলে আগামী কয়েক বছর পর বাঘের অস্তিত্ব থাকবে কি-না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাঘের সংখ্যা কমে আসায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে বন বিভাগেরও। কিভাবে বাঘ সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধি করা যায় তা নিয়ে গবেষণা চলছে। গবেষকদের মতে, বাঘ বিলুপ্তির অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং শিকারিদের অপতৎপরতাসহ মনুষ্যসৃষ্ট নানা কারণ। খাদ্য সংকটের কারণে প্রতি বছরই সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশ থেকে বাঘ ভারতের অংশে চলে যাচ্ছে। বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ১৯৮১ সাল হতে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ৫৩টি বাঘ হত্যার শিকার হয়েছে। ১৯৮৩ সালে ৩টি, ১৯৮৬ সালে ২টি, ১৯৮৮ সালে ১টি, ১৯৯০ সালে ২টি, ১৯৯১ সালে ৪টি, ১৯৯২ সালে ১টি, ১৯৯৩ সালে ৪টি, ১৯৯৪ সালে ২টি, ১৯৯৬ সালে ৫টি, ১৯৯৭ সালে ৮টি, ১৯৯৮ সালে ২টি, ১৯৯৯ সালে ৪টি, ২০০০ সালে ৫টি, ২০০১ সালে ১টি, ২০০২ সালে ৩টি, ২০০৪ সালে ৪টি, ২০০৫ সালে ৬টি, ২০০৭ সালে ৪টি, ২০১১ সালে ৪টি এবং ২০১২ সালে ১টি বাঘ শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়। বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকে সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগে ২৪টি ও পূর্ব বিভাগে ১২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১৪টি বাঘ গণপিটুনিতে মারা যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০২ সাল পর্যন্ত বিভিন্নভাবে সুন্দরবনে ১২০টি বাঘ হত্যা করা হয়েছে। বনবিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ২৬ মার্চ শ্যামনগরের দাতনিখালী গ্রামে একটি বাঘ ঢুকে পড়লে এলাকাবাসী বাঘটিকে গুলি করে হত্যা করে। এর একদিন পর একই এলাকায় আরো একটি বাঘ গণপিটুনিতে মারা যায়। এরপর ২০০৮ সালের ২০ জুন সন্ধ্যায় শ্যামনগরের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামে একটি বাঘ প্রবেশ করে। এ সময় বাঘটির আক্রমণে এক গৃহবধূসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়, আহত হয় আরো ২ জন। এ ঘটনার পরদিন এলাকাবাসী বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। বাঘের সংখ্যা হ্রাস ও সংরক্ষণ নিয়ে কথা হয় প্রধান বন সংরক্ষকের। তিনি জানান, বাঘের সংখ্যা অনেক হ্রাস পেয়েছে একথা সত্য। তবে, বাঘ সংরক্ষণের জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে টাইগার অ্যাকশন প্ল্যান, অ্যাকশন টাইগার রিকভারি প্রোগ্রাম রয়েছে। তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনে যেসব কর্মচারী কাজ করেন তাদের আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। যারা বাইরে আছেন তাদের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হবে। এছাড়াও বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটা কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি প্রতি দুই মাসে একটি করে সভা করবে। আমাদের গর্ব, জাতীয় পশু বাঘকে বাঁচাতে আমাদেরকেই উদ্যোগ নিতে হবে। চোরা শিকারিদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

আজও পূর্নাতা পায়নি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

এস এম সাইদুর রহমান সোহেল :> দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বল্প খরচে চিকিৎসার একমাত্র ঠিকানা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিভিন্ন জেলা থেকে ছুটে আসে মানুষ চিকিৎসার জন্য। কিন্তু আজও সেইভাবে পরিপূর্নতা পায়নি এই হাসপাতাল। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এই হাসপাতাল। বেডের অভাবে রোগীদের ফ্লোরে অবস্থান করতে হয়, দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশ এবং নষ্ট লাইট ফ্যান। ডাক্তারদের ডাকতে ডাকতে হাপিয়ে যায় রোগীর লোকজন। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হলেও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র ঘোষণায়ই সীমাবদ্ধ রয়েছে। বর্তমান সরকার আমলের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ পর্যন্ত দু’দফায় খুলনা সফর করে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঘোষণা দিলেও সেটি বাস্তবায়ন নিয়ে তেমন কোন তোড়জোড় নেই। এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজে ছয়টি বিষয়ে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন কোর্স (এম.ডি, এম.এস এন্ড ডিপ্লোমা) অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনও রয়েছে অনুমোদনের অপেক্ষায়। খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, চলতি বছরে খুলনা মেডিকেলে ছয়টি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স চালু হতে পারে। বিষয়গুলো হচ্ছে, সার্জারী, অবস্ এন্ড গাইনী, শিশু, নাক-কান-গলা, প্যাথলজী এবং এ্যানেসথিওলজী। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় এ কোর্সগুলো চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেচলর বরাবর কলেজের পক্ষ থেকে আবেদনের পর বেশকিছু প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যার অংশ হিসেবে গত বছর ২০ মার্চ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারী অনুষদের ডীন অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল খুলনা সফর করে। খুব শীঘ্রই উক্ত বিষয়গুলোর ডিপ্লোমা কোর্স চালুর অনুমোদন পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা করছেন। খুমেক হাসপাতালের এ্যানেসথেসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কোর্সগুলো চালু হলে খুমেক হাসপাতালের রোগী সেবা আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ এ কোর্সগুলোর সাথে সম্পৃক্ত থাকা চিকিৎসকরা যেমন হাসপাতালে থাকবেন তেমনি একাডেমিক ও গবেষণা কাজেরও অগ্রগতি হবে। তবে কোর্স চালুর আগে হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগটি চালু করা দরকার। আইসিইউ ভবনের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেখানে অক্সিজেন পাইপ লাইনের সংযোগ দেয়া এবং জনবল নিয়োগ সম্পন্ন করা জরুরী বলেও তিনি মনে করেন। অবশ্য পদ্মার এপারে একমাত্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) এবং সিসিইউ (করোনারী কেয়ার ইউনিট) বিভাগে ভি.আই (ভ্যাকিউম ইনসুলেটর) ট্যাংকের মাধ্যমে লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটিও স্বাস্থ্যসেবার আর একটি অগ্রগতি। এখন আর সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহের যেমন প্রয়োজন হবে না, তেমনি পর্যায়ক্রমে লেবার, মেডিসিনসহ অন্যান্য ওয়ার্ডেও অক্সিজেন সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে। তবে ৫শ’ বেডের এ হাসপাতালটি এখনও অনেক জায়গায় অপূর্ণাঙ্গ রয়েছে উল্লেখ করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ১৬ দফা প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। বিভাগীয় কমিশনার হাসপাতাল পরিদর্শনে আসলে তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। তিনি তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। চাহিদাগুলোর মধ্যে এক হাজার বেডের ঘোষণা ও ৫শ’ বেডের জনবলের প্রশাসনিক অনুমোদন, ২০ বেডের বার্ণ ইউনিটের জনবল ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রেরণ, রেডিওলজি বিভাগের যন্ত্রপাতি ও জনবল সৃষ্টিসহ, আইসিইউ বিভাগে যন্ত্রপাতি ও জনবল সৃষ্টি প্রভৃতি রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে ১৫৯টি পদের অনুমোদনকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্গানোগ্রামের সাথে মিল নেই বলে মন্ত্রণালয়ে পত্র দেয়া হয়। গত বছর ২৩ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর দেয়া ওই পত্রে প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম মোতাবেক জনবল সৃষ্টির অনুরোধ জানানো হয়। অপরদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে এক হাজার বেডে উন্নীত করার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অবকাঠামো নির্মাণ ও আনুসঙ্গিক কাজের জন্য আরও ২০ একর জমি বরাদ্দ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের বরাবর আরও একটি পত্র দেয়া হয় কলেজের পক্ষ থেকে। যে জমি স্বাস্থ্য বিভাগের জন্যই ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ করে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ৩০ একর অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্য হতে ১০ একরে ইতোমধ্যে নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বাকী ২০ একর জমি কলেজের নামে বরাদ্দ দেয়া হলে খুমেক হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার বিষয়টি সহজ হবে বলেও কলেজের অধ্যক্ষ জানান। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন খুলনার সাধারণ সম্পাদক বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ আলাদা দু’টি প্রতিষ্ঠান। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের প্রতিশ্রুত এবং সব বিভাগীয় শহরে স্থাপনের একটি অংশ। তাছাড়া সেটি হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হচ্ছে সম্পূর্ণ সরকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারী সুযোগ-সুবিধা সাধারণ রোগীরা যাতে পায় সেজন্য সরকারী হাসপাতালকে আরও উন্নত করতে সব ধরনের সরকারী সহযোগিতা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজনীয় জনবল প্রদান ও আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতি প্রদান আবশ্যক বলেও তিনি মনে করেন।

দক্ষিণাঞ্চলে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু

ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স এবং সিলেটে একটি দুর্ঘটনায় গ্রিন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা ক্ষতিপূরণের দুটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। একই দাবিতে আজ সকাল ছয়টা থেকে বরিশাল বিভাগ ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ১১ জেলায় ৪৮ ঘণ্টা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে খুলনা বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলায় দূরপাল্লা ও আন্তজেলা পথে সব ধরনের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা জোটবদ্ধ হয়ে জেলার প্রবেশ পথগুলোতে পিকেটিং করছেন।

খুলনায় প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে বিমান বন্দর নির্মাণ প্রক্রিয়া আবার শুরু

এস এম সাইদুর রহমান সোহেল :> অবশেষে প্রাইভেট সেক্টরের মাধ্যমে স্বপ্নের খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মান হচ্ছে। তাই বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের মানুষের মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠছে। দীর্ঘদিনের দাবির মুখে খুলনায় খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়েছে। তবে সরকার কৌশলী হয়ে এ প্রকল্পটি প্রাইভেট সেক্টরে বাস্তবায়নের রোডম্যাপে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীও সম্মতি দিয়েছেন। বাস্তবায়ন এখন শুধু দিনক্ষণের অপেক্ষায়। সূত্রমতে, প্রস্তাবিত বিমান বন্দরটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর বাগেরহাট জেলার মংলার অতি কাছে। বিমান বন্দরটি স্থাপিত হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল হবে। দেশী ও বিদেশী ব্যবসায়ী মহল তুলনামূলক কম সময়ে ও নিরাপদে ইপিজেড ও মংলা বন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনসহ ইপিজেড ও বন্দরের কার্যকারিতা বাড়বে। অন্যদিকে বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের পর্যটন বিকাশে এই বিমান বন্দর বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এদেশের পর্যটন সেক্টরে সুন্দরবনের অপরূপ বৈচিত্র্য, হযরত খানজাহান আলী (রহ:) মাজার, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের মাজার ও স্মৃতিসৌধ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষের বাসস্থান পিঠাভোগ এবং দক্ষিণডিহির শ্বশুরালয় ইত্যাদির গুরুত্ব অপরিসীম। এসব স্থানসমূহে দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করতে, বিমান বন্দরটি নির্মাণ হলে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা হবে এবং পর্যটনখাতের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সূত্রটি জানায়, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপে’র (পিপিপি) আওতায় বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মানের প্রায় সকল প্রস্তুতি এখন সম্পন্ন। সরকার এ লক্ষ্যে একটি প্রাস্তবনাও চূড়ান্ত করেছে। পাশাপাশি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ পদ্ধতিতে খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মানের জন্য ইন্টেলিজিয়েন্ট ডিজাইন এন্ড ডায়নামিক্স লিমিটেড ও তা গ্রহন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি সহ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী খুলনাঞ্চলে বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠা। এ পর্যন্ত সরকারীভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও তহবিল সংকটের কারণে যথাসময়ে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় প্রকল্পটি খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিবকে বিমান বন্দর নির্মানের ক্ষেত্রে তহবিল সংগ্রহ এবং দেশী বিদেশী কোন কোন কোম্পানী কি কি শর্তে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে তা বিস্তারিত উল্লেখ করে অফিসিয়ালভাবে চিঠি দিয়েছে। প্রাইভেটাইজেশনে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ফয়লায় খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ প্রক্রিয়া নানা অবহেলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও যতটুকু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে এবং আরো কিছু টাকা খরচ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে ছোট যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা করা সম্ভব। প্রথম পর্যায়ে এই ব্যবস্থা করে খানজাহান আলী বিমান বন্দরের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করা যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মংলাকে কার্যকর ও সুন্দরবনের পর্যটন সুবিধার লক্ষ্যে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য একনেক অনুমোদন দেয়। এ বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে রূপান্তরের জন্য ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে বিএনপি সরকারের শেষ বছর ১৯৯৫ সালের মার্চে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রস্তাবিত খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে পুনরায় ‘খানজাহান আলী বিমানবন্দর প্রকল্প’ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় নেয়া হয়। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় প্রাক্কলিত ব্যয় ৩শ’ ২২ কোটি টাকার পরিবর্তে ৪শ’ ৫৪ কোটি টাকা নির্ধারণের জন্য প্রকল্পটি পুনরায় মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠানের জন্য বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়। সর্বশেষ খান জাহান আলী বিমান বন্দর প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারন করা হয়েছে ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এদিকে ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা-সাতক্ষীরা সফরকালে বিমানবন্দর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি দেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। সূত্রমতে, অতি সম্প্রতি প্রধান মন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়েছে, দেশি ও বিদেশী মালিকানায় গঠিত যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। ওরিসিস শীর্ষক বিদেশী কোম্পানী অর্থ সংস্থান করতে ইচ্ছুক। লার্সেন এন্ড ট্যারবো লি: কারিগরি বিষয়বলি ও নির্মানের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয়েছে। ৩০ বছর তারা বিমান বন্দর পরিচালনা করবে। প্রকল্পটি উন্নয়ন কর্মসূচীতে অন্তর্ভূক্ত আছে। পদ্মার এপারে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নির্মানের জন্য অধিক পরিমান জমি অধিগ্রহন করা হচ্ছে। তাই পিপিপিতে বিমান বন্দর নির্মান ও পরিচালনা করলে নির্ধারিত সময়ে অর্থ সরবরাহ ও চালু করা সম্ভব হবে। প্রকল্প থেকে সাশ্রয় প্রাপ্ত অর্থ সরকার অন্য প্রকল্পে ব্যয় করতে পারবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য চিংড়ির প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ সরাসরি খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে রপ্তানি হয়ে থাকে। বিমান বন্দর নির্মাণ হলে দেশের চিংড়ি রপ্তানি সহজতর হবে ও অধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সুন্দরবন সীমানা সংলগ্ন রুটগুলো চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত

এস এম সাইদুর রহমান সোহেল :> কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না নৌ সীমার স্মাগলিং। বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের উপকুলীয় জলসীমা এখন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ভারতীয় পণ্য ও মাদকদ্রব্য চোরাচালানের নিরাপদ রুট। বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সীমানা সংলগ্ন রুটগুলো মুলত স্মাগলররা তাদের ব্যবসার স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশী গ্যাস ও সার যাচ্ছে ভারতে। আর ভারতীয় থ্রিপিস, প্যান্টপিস, বোরকার কাপড় ও শাড়িসহ বিভিন্ন দামী পন্য আসছে বাংলাদেশে। প্রতিমাসে সুন্দরবন এলাকার ৩টি নদী দিয়ে এ সীমান্তপথে চোরাকারবারিরা এভাবে ভারত-বাংলাদেশের প্রায় শত কোটি টাকার মালপত্র চোরাইপথে পাচার করছে। সূত্রমতে, প্রতিনিয়ত কোষ্টগার্ড, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা পুলিশ কোটি কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি কাপড় আটক করছে। উপকুলীয় অঞ্চলে স্মাগলিং করা মালামাল, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও ট্রাক আটক হচ্ছে। ঢাকা ও খুলনা কেন্দ্রীক বিশাল এক স্মাগলিং সিন্ডিকেট বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকারকে বঞ্চিত করছে। টাস্কফোর্স ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে মাঝে মাঝে এদের কর্মকান্ডকে শ্লথ করলেও এরা এখনো রয়েছে অপ্রতিরোধ্য। সুন্দরবনের কৈখালী থেকে বরগুনা পাথরঘাটা পর্যন্ত বিশাল নেটওয়ার্ক সংযুক্ত রয়েছে ঢাকার সাথে। ঘাটে ঘাটে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থাকে মাসোহারা দিয়ে এই কর্মকান্ড অব্যাহত রয়েছে। বাগেরহাট, বরগুনা, পাথরঘাটা, খুলনা ও সাতক্ষীরা এলাকার বিশাল নৌপথ ডিঙ্গিয়ে দেশে ঢুকছে, অবৈধ অস্ত্র , মাদকদ্রব্য শাড়িকাপড় জাল টাকা ঔষধ ও সার। খুলনাঞ্চলের চরমপন্থীরা এই রুটের মাধ্যমে ভারত থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে থাকে। অনেক রাজনৈতিক ক্যাডাররাও এই চোরাচালান সিন্ডিকেট থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করত। সুন্দরবন ঘেষা খুলনা ও সাতক্ষীরার বিশাল নৌ পথের সাথে ৪ শতাধিক খালের সমন্বয় রয়েছে। যা বর্তমানেও সম্পূর্ন অরক্ষিত । মাত্র ২৮৫ জনের জনবল নিয়ে কর্মরত কোষ্টগার্ড বিশাল নৌ সীমাকে পাহারা দিতে পারছে না। শত শত কিলোমিটারের এই সমুদ্র জলসীমায় রয়েছে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর । এখানে বন বিভাগ থাকলেও তাদেরও জনবল খুব কম। আবার কোন কোন বন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ রুটে চোরাচালান হয়ে থাকে। সূত্রগুলো জানায় জলসীমার বাংলাদেশ অংশের নিরাপত্তা অরক্ষিত থাকার কারনে খুলনা ও সাতক্ষীরার নদী পথে আসছে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য শাড়ীকাপড়, গরম মসলা, ভেজাল সার প্রভৃতি। চোরাকারবারীচক্র বাংলাদেশ অংশে ট্রলারে করে অবৈধমাল ঢোকানোর সাথে সাথে সুন্দরবন কেন্দ্রীক ছোটবড় খাল পার করে নিরাপদে পৌছে দিচ্ছে। সম্প্রতি কোষ্টগার্ড সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এছাড়া ফেনসিডিল বিপুল টাকার শাড়িকাপড় উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। সূত্রমতে, বঙ্গোপসাগরে বলেশ্বর, বিষখালী, পায়রা ও তেতুলিয়া নদীকে চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করেছে চোরাকারবারিরা। সুন্দরবন রুট দিয়ে গত তিন মাসে পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দু’দফায় বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় চোরাকারবারী ও ট্রলারসহ ১১ কোটি টাকার চোরাই মালপত্র আটক করেছে। সূত্রমতে, দক্ষিন অঞ্চলের ৪ গডফাদার এ চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত। তারা হলে মঠবাড়িয়ার তুষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: শাহজাহান মিয়া, মতলবের আব্দুস সাত্তার, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার এনাম মোল্লা ও বিক্রমপুরের ইদ্রিস মিয়া। তাদের হয়ে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে ৫২ শ্রমিক। এদের সবার কাজ ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তুষখালী এলাকার রশিদ মিয়া জানান, মঠবাড়িয়ার শাহজাহান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৪ জনের সিন্ডিকেট নিরাপদ রুট হিসেবে নদীপথকেই ব্যবহার করছে। শাহজাহান মিয়া চোরাচালানির বাহন হিসেবে নদীপথে ৪টি ট্রলার ব্যবহার করছে। এ ট্রলারগুলো হচ্ছে এফবি ফরিদা, এফবি সিয়াম, এফবি রাইসা ও এফবি শাহ মদিনা। এসব ট্রলার প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেই গডফাদারদের সহযোগিতায় কাষ্টম থেকে ছাড়িয়ে এনে নাম পরিবর্তন করে আবারও চোরাচালানি কাজে ব্যবহার করা হয়।

খুলনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা

ই-কণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক:: খুলনায় মো. মহিববুল্লাহ নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খালিশপুর টিএন্ডটি অফিসের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কলেজ ছাত্র মহিববুল্লাহ এবার হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তার বাবা তজিবর রহমান প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক। খালিশপুরে প্লাটিনাম জুট মিল কলোনির উত্তর কাঁচা লাইনে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন মহিববুল্লাহ। খালিশপুর থানার এসআই জেল্লাল হোসেন জানান, রাতের আঁধারে কতিপয় যুবক মহিববুল্লাহকে ক্রিকেট ব্যাট ও স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে মহিববুল্লাহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমীর তৈমুর জানান, ঘটনাস্থল থেকে ক্রিকেট খেলার ব্যাট ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মাথার ডান পাশের পেছনে এবং মুখের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কারা, কি কারণে তাকে হত্যা করেছে- তাৎক্ষনিকভাবে জানা যায়নি।

প্রধান সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ

নাব্যতার দোহাই দিয়ে ঢাকা-খুলনা রুটের রকেট সার্ভিস লাল ফিতায় বন্দী

খুলনার ৫০টি খালের অধিকাংশই এখন প্রভাবশালীদের দখলে

খুলনাঞ্চলের বাজারে অবৈধ ও ভেজাল ওষুধে সয়লাব

উপকুলীয় অঞ্চলের আড়াই কোটি মানুষই সুপেয় পানির তীব্র সংকটে

প্রতিকূল পরিবেশে সুন্দরবনের অর্ধশত জীব প্রজাতি বিলুপ্তির পথে

এসআইয়ের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে বাক্স ভরার অভিযোগ

সুন্দরবনে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই বনদস্যু নিহত

ব্যাংকের কর্মকর্তা মেয়ে ও বাবা লাশ সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার

খুলনার ভৈরব ও রূপসা নদীতে চলছে দূষণ ও দখলদারিত্বের মহোৎসব


আজকের সব সংবাদ

সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com