শনিবার, ২২ Jul ২০১৭ | ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ English Version

খেলাধুলা

আধুনিক ক্রিকেটের ডন শচীন টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল বলবয় হিসেবে।

Published: 2015-01-24, 21:33:01 PM Updated: 2015-01-24, 21:33:01 PM

ঢাকা: আধুনিক ক্রিকেটের ডন শচীন টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল বলবয় হিসেবে। সুনিল গাভাস্কার-কপিল দেবরা যখন মহাতারকা তখন বাউন্ডারী লাইনে দাড়িয়ে বল কুড়ান টেন্ডুলকার। সেটা ১৯৮৭ বিশ্বকাপের কথা। ওই বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ছিল ভারত-পাকিস্তান। তারও আগে টেন্ডুলকার বিশ্বকাপের আবেগে কেঁপেছেন ১৯৮৩ সালে। তখন তার বয়স ছিল ১০। সেবার কপিল দেবের ভারত লর্ডসে গোটা ভারতবর্ষের মাথা উচুতে তুলে ধরলেন বিশ্বকাপ জিতিয়ে।

কিভাবে সেই বিশ্বকাপ উদযাপন করেছিলেন শচীন? সেটা এখনও ভোলেননি। বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২৫ জুন, ১৯৮৩। বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলটি গোটা জাতির জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে এলো। আমার বয়স তখন মাত্র ১০। বিজয়ের সেই স্মৃতিটা এখনও জ্বল জ্বল করে। আমার বাবা-মা সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত বিজয় উদযাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন। আমিও ওখান থেকেই খেলাটার প্রতি প্রেরণা পাই।’

১৯৮৭ বিশ্বকাপ বসে ভারত-পাকিস্তানে। ওই বিশ্বকাপে মাঠে বলবয় হিসেবে বল কুড়ানোর সুযোগ পান টেন্ডুলকার। তার ভাষায়, ‘১৯৮৭ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করে ভারত-পাকিস্তান। আমিও এই বিশ্বকাপে সরাসরি যুক্ত হই। মুম্বাইয়ের ম্যাচগুলোতে বলবয় হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। মাঠে দাঁড়িয়ে থেকে দেখেছি ভারতীয় কিংবদন্তিদদের খেলা। আর নিজেই নিজেকে বলেছি, আমাকেও এর অংশ হতে হবে।’

বিশ্বকাপ অভিষেকের কথা মনে করিয়ে শচীন বলেন, ‘১৯৯২, পার্থে আমার বিশ্বকাপ অভিষেক ঘটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই বিশ্বকাপটা ছিল আমার কাছে, আগের বিশ্বকাপগুলোর চেয়ে আলাদা ছিল। কারণ এই বিশ্বকাপেই প্রথম রঙিন পোশাক, সাদা বল এবং কালো সাইটস্ক্রিণ ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি ম্যাচ ফ্লাডলাইটেও অনুষ্ঠিত হয়। অভিষেক ম্যাচটি আমার জন্য স্মরণীয় কিছু ছিল না। ১০ ওভার বল করে উইকেটশুন্য থেকেছি। ব্যাট হাতে ৩৫ রান করার পাশাপাশি রবি শাস্ত্রির সঙ্গে ৬৩ রানের জুটিও গড়েছি। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও আমাদের ৯ রানে হারতে হয়েছে। ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলো। আমাদের একমাত্র সাত্বনা ছিল পাকিস্তানকে হারানো। ওই ম্যাচে আমি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরষ্কার পেয়েছিলাম।’

পরের বিশ্বকাপে (১৯৯৬) দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। এই বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ভারত-পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা। শচীন বলেন, ‘আমার জন্য বিশেষ বিশ্বকাপ ছিল ১৯৯৬। এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করেছিল ভারত-পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা। সেমিফাইনালে শ্রীলংকার বিপক্ষে আউটটি দীর্ঘদিন আমাকে অনুশোচনায় ভুগিয়েছে। কারণ এর পরপরই ভারতীয় ব্যাটিংয়ে ধস নামে। এই বিশ্বকাপেই আমি প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পাই।’

১৯৯৯ বিশ্বকাপের মাঝপথে প্রিয় বাবাকে হারান শচীন। তারপরও কেবল দেশের কথা চিন্তা করে আবার ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে যান তিনি। ‘১৯৯৯ বিশ্বকাপ ছিল আমার জন্য খুবই কঠিন। টুর্নামেন্টের মাঝপথে আমি আমার বাবাকে হারাই। তাই খেলার প্রতি মনোনিবেশ করা আমার জন্য ছিল খুবই কঠিন।’

২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ নিয়ে টেন্ডুলকারের মন্তব্য, ‘আমরা বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার কাছাকাছি গিয়েছিলাম ২০০৩ বিশ্বকাপে। গোটা দলই দুর্দান্ত খেলেছিল। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ফাইনাল খেলতে আমরা মুখিয়ে ছিলাম। কিন্তু বিশাল ব্যবধানে হেরে গেলাম। যদিও আমি এক বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৭৩ রান করে সান্ত¡নাস্বরূপ ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার জিতেছিলাম।’

 

 
সম্পাদক : মো. আলম হোসেন
প্রকাশনায় : এ. লতিফ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
সরদার নিকেতন
হাসনাবাদ, দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ, ঢাকা-১৩১১।

ফোন: ০২-৭৪৫১৯৬১
মুঠোফোন: ০১৭৭১৯৬২৩৯৬, ০১৭১৭০৩৪০৯৯
ইমেইল: ekantho24@gmail.com