সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

অক্টোবরে সব ব্যাংকে ট্রেজারি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক::

অক্টোবর থেকে সব ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রেজারি কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরফলে এখাতে গ্রাহকদের মূল্যবান সময় বাঁচবে পাশাপাশি ট্রেজারি সেবার ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমবে।

বর্তমানে নির্ধারিত ৬টি ব্যাংক থেকে ট্রেজারি সেবা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাংকগুলো হচ্ছে- সোনালী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক। যদি কোন এলাকায় এসব ব্যাংকের কোনো শাখা না থাকে তাহলে ট্রেজারি সেবা গ্রহণকারীকে ফি জমা দেওয়ার জন্য অন্য এলাকায় যেতে হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিস্ট সূত্র জানায়, সরকার ব্যাংকিং খাতের কিছু সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে ট্রেজারি কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ট্রেজারি চালান, সরকারি চালান, ব্যাংক ড্রাফট এবং যে কোনো ব্যাংকের যে কোনো শাখায় পে অর্ডারের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফি জমা দেওয়া যাবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রেজারি এবং অন্যান্য চালান সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে এতে গ্রাহক নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এ অবস্থায় সরকার দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ট্রেজারি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি লেনদেনগুলো সুচারুভাবে পরিচালিত হবে। পাশাপাশি চালান জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সময় ও ব্যয় কমবে এবং ব্যাংকের সেবার মান আরো উন্নত হবে।

এবিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশে অর্থ সচিব সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে টেজ্রারি ফি জমা নেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ট্রেজারি বিধি: ২ (খ) এবং ট্রেজারি বিধি: ৪ এর অধীনে আরও দুটি বিষয় অনুসারে সাবসিডিয়ারি বিধি সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই কাজটি শেষ করার জন্য অর্থ বিভাগের কারিগরি বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

এছাড়াও, এ বিষয়ে প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদাভাবে চুক্তি করবে, যাতে ব্যাংকগুলো সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

ট্রেজারি কার্যক্রমের জন্য ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ফি কম হারে নির্ধারণ করা হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠাবে।

এবিষয়ে অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে সোনালী ব্যাংকসহ ৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়া যায়। আমরা ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে ইতোমধ্যে সভা করেছি। প্রথমে ৬টি ব্যাংকের সঙ্গে এই কার্যক্রমের পাইলট কার্যক্রম শুরু করব। এরপর এটি অন্য ব্যাংকের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে।’

এই উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রাপ্ত সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি সরকার এবং জনগণের অনেক উপকার এনে দেবে।’

একটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকার কোন নাগরিক যদি পাসপোর্ট পেতে চান তবে তাকে ৬টি মনোনীত ব্যাংকের মাধ্যমে ফি জমা দিতে হবে। ওই ব্যক্তির এলাকায় যদি ওই টি ব্যাংকের কোনোও শাখা না থাকে, তবে তাকে ফি জমা দেওয়ার জন্য অন্য কোনো এলাকায় যেতে হবে। প্রকল্পটি চালু হলে তিনি তার বাড়ির কাছে যে কোনো ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন। ব্যাংকিং সেবা পেতে নগরবাসীদের চেয়ে গ্রামীণ এলাকায় জনগণের সমস্যা বেশি। উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে জনগণের সময় এবং ব্যয় কমার সঙ্গে সরকারি লেনদেনের ক্ষেত্রে গতিশীলতা আসবে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকও সরকারের ব্যাংক লেনদেন পরিচালনা করে। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক সারা দেশে ৬০৩ শাখায় ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগের চেয়ে সরকারি কার্যক্রম অনেকগুণে বেড়েছে। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক সরকারের ট্রেজারি কার্যক্রম সম্পাদন করছে। এতে ব্যাংকটির ওপর অত্যাধিক চাপ পড়ছে। ফলে ব্যাংকের নিজস্ব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া জনগণের ভোগান্তিও বেড়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ট্রেজারি চালান এবং অন্যান্য কাজ সহজে করতে পারেন সেজন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা অক্টোবর থেকে চালু হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Nazmul Hasan