বৃহস্পতিবার, ০৪ Jun ২০২০, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

অঘোষিত লকডাউনে ঢাকা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে রাজধানীতে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। বাধ্যতামূলক ছুটির কারণে রাস্তায় নেই মানুষ।

ঐতিহ্যের নগরী ঢাকায় কোটি কোটি মানুষের বসবাস। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের পদচারণে নগরের সর্বত্র থাকে কোলাহল, যানজট। কিন্তু করোনার ছোবলে স্তব্ধ হয়ে গেছে সব।

একান্ত প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হওয়া নিষিদ্ধ। সময়ের প্রয়োজনে, গুরুত্বপূর্ণ কাজে মাস্ক পরে সাবধানতার সঙ্গে কিছু লোকের চলাচল ছিল। তবে সে ক্ষেত্রেও পুলিশি জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

রাস্তায় নেই যন্ত্রচালিত গাড়ি। রিকশাও না থাকার মতোই। সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচি যেমন হরতাল-অবরোধেও ঢাকার চিত্র কখনো এমন হয়নি। ওই সব কর্মসূচি চলাকালেও সীমিত আকারে রাস্তায় গাড়ি চলাচল করেছে। কিন্তু এখন একেবারেই নেই। এমন রাজধানী দেখে অভ্যস্ত নই আমরা কেউই।

অঘোষিত ‘লকডাউনে’ থাকা ঢাকায় হঠাৎ প্রেমের গল্প কানে ভেসে এলো। ঘটনার স্থান মতিঝিল শাপলা চত্বর। সেখানে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথের পাহারাদার হারিস মিয়া পাশের এক ভবনের তরুণ দারোয়ানকে শোনাচ্ছিলেন নিজের প্রেম আর বিয়ের গল্প।

হারিস মিয়া বললেন, এভাবেই সময় কাটছে। সারাদিন বাসায় ঘুমায় ছিলাম। সন্ধ্যার পর এসে ডিউটিতে যোগ দিলাম। গত তিন রাতই নাইট ডিউটি করছি। এমন ঢাকা কোনোদিন দেখি নাই। মিথ্যা বলবো না, ভয় লাগছে এমন ঢাকা দেখে।

যে শহরের যানজটে বিরক্ত নগরবাসী বারবার শহরটা ছেড়ে দিতে চান, সেই নগরবাসী এখন গৃহবন্দী। সকাল থেকে রাত অব্দি শহরজুড়ে চলে না গাড়ি। দিনের আলোয় তাও কিছু মানুষের দেখা মেলে, সন্ধ্যা এলে অদ্ভূত এক শূন্যতা এসে ভর করে তিলোত্তমাকে। লাখো প্রাণে কল্লোরিত রাতের ঢাকা এখন ভূতুড়ে নগরীতে রূপ নিয়েছে।

সরেজমিনে শুক্র ও শনিবার, এ দুই রাত ঢাকা শহর ঘুরে দেখা মিললো ভিন্নতর দৃশ্য। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবগুলো স্থান- সিটি কলেজ, জিগাতলা, শিয়া মসজিদ, শ্যামলী, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রবেশ মুখ, নতুন বাজার, বনানী, মহাখালী, বিজয় সরণী মোড়, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্থান, দৈনিক বাংলা ও মতিঝিলের সড়ক সুনসান। নগরের বিভিন্ন সড়ক মোড়ে অবশ্য পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। বের হওয়া অল্পসংখ্যক পথচারীকে থামিয়ে তারা ঘরের বাইরে আসার কারণ জানতে চাইছে। করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করেও মানুষজনকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে।

শনিবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর অন্যতম প্রধান আবাসিক এলাকা সেগুনবাগিচায় প্রবেশ করতেই গা হিম করে যেতে বাধ্য। রূপকথার গল্পের মতো, কেউ যেন ‘রূপার কাঠি’ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে গেছে সদা ব্যস্ত এই আবাসিক এলাকাকে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Design & Developed By Aynan