রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন

এবার ঈদ মৌসুমে বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র

বশির আহমেদ, বান্দরবান প্রতিনিধি : প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি বিদেশি ও স্থানীয় পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত থাকে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু এবার ঈদের মৌসুমেও বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে পর্যটকসহ স্থানীয় দর্শনার্থীরা।

পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে বিনোদনের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটন স্পটগুলোই স্থানীয়দের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম। তাই দেশি বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি ভোগান্তিতে প ড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারাও। ঈদের ছুটিতেও পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ থাকায় পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়িতে বসেই ঈদ কাটিয়েছে স্থানীয়রা।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের কারনে গেল মার্চ মাস থেকে দেশব্যাপী অঘোষিত লকডাউনের কারনে সবকিছু বন্ধ করে দেয়া হলে বান্দরবানেও দোকানপাট যানবাহন হোটেল-মোটেলসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র। এর ফলে কর্মহীন হয়ে পড়ে পর্যটন সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষ। টানা লকডাউন শেষে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী দোকানপাট যানচলাচল খুলে দেয়া হলেও এখনো বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্র। তাই অনেক পর্যটক বেড়াতে এসেও ফেরত চলে গেছে এবং স্থানীয়রাও ঈদের ছুটিতে ঘুরে বেড়াতে পারেনি কোন দর্শনীয় স্থানে। গত রোজার ঈদে লকডাউনের কারনে সবকিছু বন্ধ থাকায় পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরে বেড়াতে পারেনি দর্শনার্থীরা। এবার লকডাউন খুলে দেয়ায় কোরবানীর ঈদে পর্যটন স্পটগুলো খুলে দিবে এমনটা প্রত্যাশা ছিল সকলের। কিন্তু সবকিছু খুলে দেয়ার পরও পর্যটন স্পট বন্ধ থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, লকডাউন খুলে দেয়া হয়েছে। দোকানপাট গাড়ি চলছে। বাইরে থেকে অনেকে আসছে ঘুরার জন্য। কিন্তু হোটেল বন্ধ থাকায় তারা চলে গেছে। তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দদের বান্দরবানে পর্যটন স্পট ছাড়া বিনোদনের তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। তাই ঈদের সময় মানুষ একটু ঘুরে বেড়ায়। পর্যটনস্পটগুলো খুলে দিলে ঈদের দিন পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষ দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বেড়াতে পারত। ঢাকা থেকে আসা বান্দরবানের বাসিন্দা আলাউদ্দীন আলিফ বলেন, লকডাউনের কারনে টানা ৪ মাস মানুষ ঘরে ছিল। এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। অফিস-আদালত, দোকানপাট সব খোলা হয়েছে। ঈদের সময় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দিলে আশপাশের স্থানীয় পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে মাইন্ড রিফ্রেশ করতে পারত। কারন বান্দরবানে এমনিতে কোন বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তাই স্থানীয়রা পর্যটন স্পটগুলোতেই বিভিন্ন ছুটিতে পরিবার-পরিজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যেকোন সরকারি বন্ধ, পূজা ও ঈদের ছুটিতে বান্দরবানের মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, স্বর্নমন্দির শৈলপ্রপাত, নীলগীরিসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে যায় অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরণের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখায় বান্দরবানের পর্যটকদের আগমন ঘটেনি। পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মুলফটকে লাগানো হয়েছে তালা আর র্কর্মচারীরা পার করছে অলস সময়। পর্যটক না থাকায় বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বিরাজ করছে শুনসান নীরবতা।

ঈদের ছুটিতে বান্দরবান জেলা প্রশাসন পরিচালিত র্পর্যটনকেন্দ্র নীলাচল ঘুরে দেখা যায়, পর্যটনকেন্দ্রের মূল ফটকে তালা টিকেট কাউন্টার রাখা হয়েছে বন্ধ। পর্যটনকেন্দ্র নীলাচলের তত্বাবধায়ক আদিব বড়–য়া জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই এবারে সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ। আমাদের এই পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমনে প্রতিদিনই অনেকে মূল ফটকের সামনে আসে। কিন্তু অনুমতি না থাকায় আমরা কাউকে প্রবেশ করে ভ্রমণ করতে দিই না।

বান্দরবান আবাসিক হোটেল ফানুস রিসোর্টের পরিচালক ইমরান উদ্দীন বলেন, করোনায় আমাদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। আমাদের বান্দরবানের সকল হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকায় অনেক কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা নতুন ব্যবসার চিন্তা করছে। অনেক পর্যটক আমাদের ফোন করছে রুম বুকিং এর জন্য। পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আমরা তাদের রুম দিতে পারছি না। তাই পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

বান্দরবানের আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে বান্দরবানের প্রচুর পর্যটকের আগমন হয়। কিন্তু এবারে বান্দরবানে কোন পর্যটক নেই। আমাদের সব ব্যবসা বন্ধ হয়ে রয়েছে।তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে বান্দরবানের পর্যটন ব্যবসায় একেবারে ধস নেমে এসেছে। পর্যটন স্পটগুলো খুলে দিলে আবারো হয়ত সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: শামীম হোসেন জানান, কোরবানীর ঈদে বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হলেও শীঘ্রই বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র ও সকল আবাসিক হোটেল-মোটেল খোলা হবে এবং বান্দরবান ভ্রমনে পর্যটকরা আরো বেশি আনন্দ পাবে।তিনি আরো জানান, বান্দরবানে দীর্ঘদিন লকডাউন ছিল। বন্ধ ছিল যানবাহন চলাচল। তবে এখন শুধু পর্যটনকেন্দ্র ও আবাসিক হোটেল-মোটেল বন্ধ। বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এই বন্ধে আরো নিত্যনতুন কাজ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে এবং দেশি-বিদেশি প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটবে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮মার্চ থেকে বান্দরবানের সকল আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় বান্দরবান জেলা প্রশাসন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সকল আবাসিক হোটেল-মোটেল ও পর্যটনকেন্দ্র।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Nazmul Hasan