রবিবার, ০৭ Jun ২০২০, ০২:৪১ পূর্বাহ্ন

খুলনার উপকূলে তরমুজের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে!

এস.এম. সাঈদুর রহমান সোহেল, খুলনা ব্যুরো::

খুলনার শষ্য ভান্ডারখ্যাত উপকূলবর্তী উপজেলা দাকোপে এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসির রেখা নেই। করোনার চলমান প্রভাবে আশানুরূপ ক্রেতা না থাকা ও নায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন চাষিরা।

এদিকে, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বিপুল পরিমাণ তরমুজ বিনষ্ট হয়েছে। এভাবে ধারাবাহিক বৃষ্টি হলে পানি জমে মাঠে থাকা তরমুজের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন চাষিরা। সংকটের কারণে ক্ষেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে তরমুজ।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, দাকোপ উপজেলার বাজুয়া, দাকোপ সদর, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বানিশান্তা ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ ও ১৫ হেক্টর জমিতে বাঙ্গির চাষাবাদ হয়েছে।

তরমুজ চাষিরা জানান, বিঘা প্রতি এবার তরমুজের উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৬-১৮ হাজার টাকা, বিপরীতে ৪৫-৫০ হাজার টাকা বিক্রির প্রত্যাশা ছিল তাদের। কিন্তু সে আশা এখন অনেকটাই হতাশায় পরিণত হয়েছে।

সূত্র মতে, ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বাজার ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানী হয়ে থাকে এখানকার তরমুজ। বর্তমানে মাঠে ফলন উপযুক্ত হয়ে যাওয়ায় এখানে শুরু হয়েছে তরমুজ বিক্রির কার্যক্রম। সাধারণত ঢাকা চট্টগ্রাম নারায়নগঞ্জ বরিশালসহ বড় মোকামের পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখানে এসে তরমুজ কিনে থাকে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এবার ওই সকল এলাকা থেকে ব্যাপারীরা আসতে পারছেনা। স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণের করোনা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে তরমুজ কেনা বেচায় বেশ কিছু বিধি নিষেধও জারি করেছেন।

উপজেলার পশ্চিম বাজুয়ার তরমুজ চাষি ফণী ভুষণ মন্ডল, কচা গ্রামের বিধান মন্ডল, দাকোপের গৌরাঙ্গ ঘরামী, হরিনটানার রণজিত মন্ডল এবং চুনকুড়ি গ্রামেরে অশোক রায় বলেন, এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ কারণে নায্যমূল্য পেলে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ ব্যবসা হবে। তবে যদি পাইকারী ক্রেতা আসতে না পারে তাহলে তারা পথে বসা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

এই চাষিরা জানান, অনেকেই বিভিন্ন সমিতি অথবা মহাজনি সুদে টাকা নিয়ে তরমুজ চাষা করেছেন। যে কারণে খুব দ্রুত বিক্রি করতে না পারণে কালবৈশাখীর মৌসুমে শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে তরমুজ ক্ষেতে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলে তাদের দুঃশ্চিন্তার যেন শেষ নেই।
স্থানীয় কৈলাশগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মিহির মন্ডল বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি নিজ উদ্যোগে অনেক ব্যাপারীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রত্যায়ন নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন। তিনি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাইকারী ক্রেতাদের উপজেলায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান বলেন, দেশে অন্যান্য নিত্যপণ্য বিপনন ও পরিবহন যদি চলমান থাকতে পারে তবে কেন কৃষি পণ্য পারবেনা? তিনি অর্থনৈতিক বৃহত্তর স্বার্থে যথাযথ স্বাস্থ্য বিধি মেনে ব্যাপারীদের দাকোপে আসার সুযোগ দেওয়া উচিত মন্তব্য করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ীর বৈধ কাগজপত্র, আইডি কার্ড এবং স্বাস্থ্য সনদ প্রদর্শনের শর্তে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর এলাকার মালামাল পরিবহনের গাড়ী এখানে আসার অনুমতি দিয়েছি। অনুরুপ শর্তে একই অঞ্চলের ক্রেতা বা ব্যাপারীদেরও দাকোপে এসে তরমুজ কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বহিরাগতদেওরও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দাকোপে এসে তরমুজকেনার সুযোগ দেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Design & Developed By Aynan