সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

জুমের ফসল ঘরে তোলায় ব্যস্ত জুমিয়ারা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি::

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে জুমের ধান কাটার ধুম পড়েছে। চলতি বছর পাহাড়ে ফলন ভালো হয়েছে। যা দিয়ে আগামী ৯-১২ মাসের খাদ্যের জোগান হবে বলে আশা করছেন বেশিরভাগ জুমিয়া ও কৃষি কর্মকর্তারা।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পেশা জুম চাষ হলেও দিনে দিনে বিকল্প চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। বৈরী আবহাওয়া, মাটির উর্বরতার কারণে ফলন কমে যাওয়ায় জুম চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়ি জেলার ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে জুম ধান চাষ হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার জুম চাষ করেছে।

বিভিন্ন প্রকার স্থানীয় ধানের পাশাপাশি হাইব্রিড ধানও চাষ করেছে জুমিয়ারা। ধানের পাশাপাশি লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শসা, বাঙ্গি, ঢেঁড়স, ভুট্টা, পুঁইশাকসহ নানা শাক-সবজিও চাষ করেছেন জুমিয়ারা। তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধানসহ অন্যান্য ফসল ঘরে তুলতে। পাহাড়ের ঢালকে চাষাবাদ উপযোগী করে বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ মাস থেকে ধান ও বিভিন্ন শাক-সবজির বীজ বপন করেন জুমিয়ারা। বৃষ্টির পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে ফলানো ফসল কাটা করা হয় ভাদ্র-আশ্বিন থেকে। কয়েক দশক আগেও এ চাষাবাদে জুমিয়াদের আগ্রহ থাকলেও দিন দিন তা কমছে। জুমের অনুকূল আবহাওয়া, মাটির উর্বরতা না থাকায় এবং পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে মিশ্র ফলসহ অন্যান্য বাগানের চাহিদা বাড়ায় হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ চাষাবাদ পদ্ধতি।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া এলাকার জুমিয়া মংশি মারমা বলেন, জুমে এবার ভালো ধান হয়েছে এবং কমপক্ষে ৯ মাসের চালের জোগান জুম চাষ হতেই আসবে। অনেক জুমিয়ারই পুরো বছরের খাদ্যের জোগান জুম হতে আসবে। একই এলাকার অংলা মারমা বলেন, জুমে ভালো ধান ও শাক-সবজি হয়েছে এবার। তবে করোনার কারণে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত বাকি শাক-সবজি কম দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে।

দীঘিনালা উপজেলার সীমানা পাড়া এলাকার জুমিয়া সজিব ত্রিপুরা বলেন, ‘আগে আমরা জুমে শুধু স্থানীয় ধানের চাষ করতাম। চলতি বছর আমরা হাইব্রিড ধানের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল জাতের শাক-সবজিও চাষ করেছি। ফসল ভালো হয়েছে। আগে আরও বেশি ফলন পেতাম। মাটির উর্বরতা আগের মতো নেই বলেও এখন ফলন কম হয়।’

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুল্যাতলী এলাকার জুমিয়া রাঙা চান চাকমা বলেন, করোনার কারণে আর্থিক সংকটে পড়ে অনেকে জুম চাষ করেনি। ভবিষ্যতের খাদ্য সংকট দূর করতে এবং পুনরায় জুম চাষের জন্য সরকারিভাবে ঋণ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মর্ত্তুজ আলী বলেন, এবার জুমে ফলন ভালো হয়েছে। জুমিয়ারা গড়ে প্রতি একরে ২-২.৫ মেট্রিক টন ধান পেতে পারেন। জুমে ধান চাষের পাশাপাশি একইসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ হচ্ছে। অতিরিক্ত ফলনও হচ্ছে। তবে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক ও সময়োপযোগী কৃষি উপকরণ গ্রহণ ও ব্যবহার করে জুম চাষ করার পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

জুমের ফসল বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুর রশিদ বলেন, নানা কারণে মাটির উর্বরতা কমছে। মাটির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের পাশাপাশি পাহাড়কে অনাবৃত রাখা যাবে না। বিভিন্ন শাক-সবজি চাষের মাধ্যমে পাহাড়কে ঢেকে রাখতে হবে এবং জুমিয়াদেরকে আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদে অভ্যস্ত হতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Nazmul Hasan