রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মের জন্য প্রস্তুত রাখব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক::

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে শুধু বর্তমানেই না, আগামী দিনের নতুন প্রজন্ম কিভাবে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, কিভাবে চলবে সেটা এখন থেকে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে নির্দেশনা দিয়ে রাখব। তিনি বলেছেন, যারাই ভবিষ্যতে আসুক, তারাই এগিয়ে নিতে পারবে। কারণ আমাদের তো বয়স হয়ে গেছে। আমার তো ৭৪ বছর বয়স। কাজেই সেটাও মাথায় রাখতে হবে। আর কতদিন!

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকার বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভার পর এই প্রথম দলের নীতি নির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সভা গণভবনে অনুষ্ঠিত হল। সভায় সভাপতিমণ্ডলীর অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অর্থনৈতিকভাবে আমরা মোটামুটি ভালো অবস্থানে আছি। বাজেটের ঘাটতি এবার ৬ শতাংশ ধরেছিলাম। আমার সিদ্ধান্ত ছিল দরকার হলে ১০ শতাংশ ধরবো। কিন্তু সেটা আমাদের লাগেনি। কাজেই তার মধ্যে রেখেই আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পেরেছি। কারণ রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যার একটা অর্থনৈতিক নীতি আছে, সেটাকে মাথায় রেখেই আমরা কিন্তু কাজ করে যাই। যার ফলে আমরা যেকোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি খুব হিসাব করে। আমাদের পার্টির যে পলিসি সেটাকে মেনেই কিন্তু আমরা সব পদক্ষেপ নিচ্ছি।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে ২০১০ সালে পরিকল্পনা নিয়েছিলাম ২০১০ থেকে ২০২০। সেখানে এখন আমরা ২০২১ থেকে ২০৪১ সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও প্রণয়ন করে সেটাও আমরা গ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশ হচ্ছে একটা ডেল্টা। আমাদের বদ্বীপ; এই বদ্বীপের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কারণ আপনারা জানেন যে, নদী ড্রেজিংয়ের কথা সব সময় বলে আসছি। একটা সময় ছিল, আমি আর বোধ হয় মতিয়া আপা ছাড়া আর কেউ ড্রেজিংয়ের কথা বলতো না। অনেক বিশেষজ্ঞরাও এটা নিয়ে তখন প্রশ্ন তুলতো। আমরা কিন্তু সেই আগের দিনে ভাঙা রেকর্ডের মতো এই ড্রেজিং ড্রেজিং বলেই যেতাম। তো এখন আবার প্রত্যেকে আমাদের পথে আসছে। এখন সেই বিশেষজ্ঞরাও এখন বলে যে ড্রেজিংটা একমাত্র উপায়।

আমাদের নদীগুলোর ভাঙন হচ্ছে, নদীগুলোর ক্ষতি হচ্ছে। নদীগুলোকে বাঁচানোর জন্য এটা দরকার। আমরা ডেল্টা প্ল্যান যেটা করেছি। ডেল্টা প্ল্যানের এইটাই লক্ষ্য, আমাদের যতগুলো বড় নদী আছে, আমরা নদী ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা বজায় রেখে বদ্বীপটা রক্ষা করা এবং সুরক্ষিত করা। আমাদের দেশের মানুষকে কিভাবে সুন্দর একটা জীবন, অর্থনৈতিক উন্নয়নটা ত্বরান্বিত করা সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করেছি, বাস্তবায়ন করছি। অর্থ্যাৎ আওয়ামী লীগ যেহেতু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এই সংগঠনই এদেশের ম্বাধীনতা এনেছে, কাজেই আমরা যখন সরকারে আছি, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যে দেশটা শুধু বর্তমানেই না, আগামী দিনের নতুন প্রজন্মের জন্য কিভাবে এই দেশটা এগিয়ে যাবে কিভাবে চলবে, সেটাই এখন থেকে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখবো বা আমরা নির্দেশনা দিয়ে রাখবো।

তিনি বলেন, হ্যাঁ, এটা ঠিক আমরা যা করছি, সময়ের বিবর্তনে সেটা কিন্তু সংশোধন করতে হবে। পরিবর্তন করতে হবে, পরিশোধন করতে হবে। এটা করতে হবে, এটা নিয়ম। সেটাও আমরা জানি কিন্তু তারপরও একটা ফ্রেমওয়ার্ক একটা ধারণাপত্র অথবা একটা দিক নির্দেশনা; সেটা যদি সামনে থাকে তাহলে যেকোনো কাজ খুব সহজে যারাই আসুক ভবিষ্যতে তারাই করতে পারবে। কাজেই তারপরে যারা আসবে তারা যেন দিকহারা না হয়ে যায়, তারা যেন একটা দিক নির্দেশনা থাকে, একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, না আমাদের এখানে যেতে হবে। সেজন্য আমরা প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করলাম। এরপর দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করে দিলাম। ২০৪১ সাল পর্যন্ত কি হবে। আবার জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছে এসডিজি-২০৩০।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নটা একটা স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়ন হতে হবে। সেখানে যে ধারাগুলো আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমরা এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জন করেছিলাম। এসডিজি বাস্তবায়নেও আমাদের সাফল্য আসবে, এইজন্য আমরা ঠিক আমাদের দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ধারাগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Nazmul Hasan