সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন

ফকিরহাটে ইউপি সদস্য মিজানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

সাঈদুর রহমান সোহেল, খুলনা ব্যুরো::

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য সাময়িক বরখাস্তের এক মাস যেতে না যেতেই একই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য সৈয়দ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি ও লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করায় তার বিরুদ্ধে ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অপরদিকে, একই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ দেলোয়ার শেখের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ।

স্থানীয় একাধিক সূত্র ও ফকিরহাট থানায় দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মারধরের অভিযোগ এনে ইউপি সদস্য সৈয়দ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গত ২৮ আগস্ট ফকিরহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন একই ইউনিয়নের জাড়িয়া সিংগাতী গ্রামের বাসিন্দা মৃত গৌরচন্দ্র ব্যানার্জীর পুত্র কার্তিক চন্দ্র ব্যানার্জি। তিনি সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন-২০০৪ সালের ২ আগস্ট ইউপি সদস্য সৈয়দ মিজানুর রহমান মৃত সুভাষচন্দ্র ব্যানার্জির ওয়ারিশদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ৩০ নভেম্বর সৈয়দ মিজানুর রহমানের কাছ থেকে আমি উক্ত জমি ক্রয় করি।

জিডিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমার বড় ভাই গনেশ চন্দ্র ব্যানার্জি মারা যাওয়ায় ওয়ারিশ সূত্রে তার ছেলে সাগর ব্যানার্জি সম্পত্তি প্রাপ্ত হয়। কিন্তু ইউপি সদস্য সৈয়দ মিজানুর রহমান এবং তার সহযোগী গ্রাম পুলিশ শেখ দেলোয়ার হোসেন ও শেখ আব্দুল আজিম ওরফে মোহন গত ১৩ আগস্ট বেলা ১১ টার দিকে আমাদের বসতবাড়িতে উপস্থিত হয়ে আমার ভাইপো সাগর ব্যানার্জিকে জমি বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এসময় আমি আমাদের বাড়ির পাশে চৌমাথা নামক স্থানে স্বপনের চায়ের দোকানের সামনে ইউপি সদস্য সৈয়দ মিজানুর রহমানকে পেয়ে ‘সামান্য জায়গা বিক্রি করলে তারা থাকবে কোথায়’ এই কথা জিজ্ঞাসা করার সাথে সাথে তার সহযোগীরা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে মারধর করতে উদ্যত হয়। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা আমাকে জীবননাশের হুমকিসহ নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে চলে যায়। তারা যেকোন সময় আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে উল্লেখ করে তিনি ফকিরহাট থানায় জিডি করেন (যার নম্বর ৯৪৮)। ইউপি সদস্য সৈয়দ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অবৈধভাবে জমি দখল, প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে প্রকাশ, মিজানুর রহমানের শ্যালক শেখ শওকত আলী শেখ ও ভায়রা ইসলামসহ অনেক আত্মীয় স্বজনকে সরকারি নানা সুবিধা দিয়ে তিনি প্রকৃত দরিদ্রদেরকে বঞ্চিত করেছেন। এছাড়া দিপালী বসু নামে এক অসহায় বৃদ্ধ মহিলার জমি ১৫ বছর ধরে তিনি জবর দখল করে রেখেছেন।

অপরদিকে একই ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, গ্রাম পুলিশ দেলোয়ার শেখ স্থানীয় সিংগাতী গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী দাউদের কাছে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা ধার চায়। কিন্তু তিনি দিতে না পারায় এবং পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের মারধর ক্ষয়ক্ষতি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন। এ ঘটনায় দাউদ শেখ বাদি হয়ে গত ৩০ আগস্ট গ্রাম পুলিশ দেলোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ফকিরহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন (ডায়েরি নম্বর ১০১০)।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারাই বিভিন্ন লোককে দিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বরাদ্দকৃত গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য সরকার নির্ধারিত সহায়ক চাঁদার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ফকিরহাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য আ. জব্বারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মাদ ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অভিযোগে উপজেলার আরও ৪জন ইউপি সদস্যকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Nazmul Hasan