রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

বাঘায় যুবককে গলাকেটে হত্যা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি::

রাজশাহীর বাঘায় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে জবাই করে জহরুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবককে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয় লোকজন তেঁথুলিয়া শিকদারপাড়া গ্রামের একটি নির্জন স্থানে রাস্তার পাশে জহুরুলের মোটরসাইকেলটি রাখা দেখতে পান।

মোটরসাইকেলের ওপর মোবাইলের একটি কার্টুন ছিল। তবে ভেতরে কোন মোবাইল সেট ছিল না। আর পাশেই পড়ে ছিল দেশীয় তৈরি একটি দা। এর কিছুটা দূরে জহুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ পড়েছিল। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম রয়েছে। লাশটি দেখার পর স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের শিকদারপাড়া হয়ে পীরগাছা রাস্তার দক্ষিনে খেড়ু হাজীর আমবাগান থেকে ওই যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় তৈরি দা, হাসুয়া, হেলমেট ও হত্যার ঘটনাস্থল উত্তরের রাস্তা থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। ধারনা করা হয়েছে, আগের দিন (৫ জানুয়ারি) রাতের যে কোন সময়ে তাকে হত্যা করে ওই স্থানে লাশ ফেলে যাওয়া হয়েছে। নিহত জহুরুল ইসলাম উপজেলার মনিগ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে একই উপজেলার পানিকুমড়া বাজারের সততা এন্টারপ্রাইজের সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই রুহুল আমিন জানান, আগেরদিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তার কর্মস্থলে যায়। বিকেল ৫টা থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর নিতে থাকেন। বিষয়টি থানায় অবগত করে রাতভর খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। বুধবার খেঁজুর গাছের রস নামানোর লোকজন ওই বাগান দিয়ে যাওয়ার পথে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি জানার পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জহুরুর ইসলামের মরদেহ সনাক্ত করেন।

সততা এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারি মেহেদী হাসান জানান, আমার দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির মুঠোফোন দোকানে দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্য মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে তার প্রতিষ্ঠান থেকে মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওনা হয় জহরুল। বিকেল ৫ টার পর থেকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। রাত ১১টা পর্যন্ত তার কোন সন্ধান না পেয়ে তিনি নিজে বাদি হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঘটনাস্থল থেকে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বিকেলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ওই যুবককে কেন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, এ ব্যাপারে নিহতের আত্মীয় স্বজনসহ আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চারঘাট সার্কেল) নুরে আলম।

এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, স্বজন হারানোর শোকের মাতম। সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক বাবা রফিকুল, মা জমেনা ও স্ত্রী রিমা বেগমসহ তার আত্মীয় স্বজন। তাদের কান্নায় চোখের পানি ধররে রাখতে পারছিলেন না স্থানীয়রাও। বিকেল সাড়ে ৪টায় সর্বশেষ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution