সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

ভালুকায় সিজারের ৫ মাস পর পেটে মিলল গজ-ব্যান্ডেজ, মৃত্যুশয্যায় ফজিলা

আবুল বাশার শেখ, ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি::

সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার পাঁচ মাস পর গৃহবধূর পেট থেকে বের হলো গজ-ব্যান্ডেজ। (ডাক্তারী ভাষায় যাকে মব বলে)। ৫ মাস আগে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ-ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দিয়েছিলেন ডাক্তার। এতে পেটের ব্যাথা নিয়ে পাঁচ মাস যাবত বিভিন্ন হাসপাতালে আর ডাক্তারের কাছে ঘুরে অবশেষে ময়মনসিংহ একটি প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশনের পর ধরা পরে বিষয়টি। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম ফজিলা খাতুন (২৮)। তিনি ত্রিশাল উপজেলার আমিরাবাড়ী গ্রামের শাহজাহান মোল্লার স্ত্রী।

তিনি এর আগে ২টি সন্তান স্বাভাবিক প্রসব(নরমাল ডেলিভারী) করেছিলেন। তৃতীয় সন্তান প্রসবের সময় তার সিজার করা হয়। গত শুক্রবার ময়মনসিংহের ভাটিকাশর এলাকার আইডিয়াল নাসিং হোমে পুনরায় অপারেশন করে তার পেটের গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে। গজটি ভিতরে পচন ধরায় চিকিৎসকরা তার সুস্থতার বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না। যন্ত্রনায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ফজিলা। তার অবস্থা খুবই গুরুতর।

ফজিলা বেগমের স্বামী শাহজাহান মোল্লা জানান, ৫ মাস আগে প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় বেসরকারী ডিজিটাল হাসপাতালে ভর্তি করান স্ত্রীকে। সেখানকার হাসপাতালে মালিক পক্ষ জানান, ফজিলাকে জরুরী সিজার করতে হবে। তাঁদের কথামত রাজি হয়ে গত ১৩ই এপ্রিল ডাঃ মফিজের মাধ্যমে ও ডাঃ মেহেদীর এ্যানেথেসিয়ায় সিজার করে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন ফজিলা। ৪দিন হাসপাতালে থেকে বাড়ী নিয়ে আসেন স্ত্রীকে। কয়েকদিন পরই ফজিলার পেটে ব্যাথা ও পেট ফুলে গেলে ভালুকায় ডাঃ মোশারফের কাছে নিয়ে যান স্ত্রীকে। তিনি আল্ট্রা করার পর জানান, ফজিলার পেটে অ্যাতে কোন প্যাচ বা ইনফেকশন হয়েছে আপনি ময়মনসিংহ নিয়ে ভাল ডাক্তার দেখান। পরে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান কিন্তু সেখানেও কোন রোগ ধরা পরেনি। তারা রোগীকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলেন।

শাহজাহান আরও জানান, আমার অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় ফজিলাকে ময়মনসিংহের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানের ডাক্তাররা রোগীকে অপারেশনের কথা বলে ও অনেক রিস্কি হবে জানান, আমি দিশা না পেয়ে রাজী হয়ে যায়। পরে ওই হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ রবিন সহ ৫জন সার্জারী ও গাইনী ডাক্তার মিলে আমার স্ত্রীর অপারেশন করান। পরে ডাক্তাররা জানান, আমার স্ত্রীর পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে। বলেছেন ভিতরে নারীতে পচন ধরেছে। আল্লাহকে ডাঁকো। ডাক্তাররা বলেছেন তোমার স্ত্রী যদি বেঁচে থাকে তাহলে ৩ মাস পর আরও একটা অপারেশন করতে হবে। ৫ মাস যাবত স্ত্রীকে ডাক্তারের কাছে যেতে যেতে চিকিৎসা করাতে বর্তমানে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমি ওই চিকিৎসকের বিচার চাই। যাতে আমার মতো আর কেউ এমন যন্ত্রণা না ভোগ করতে হয়।

এ ব্যাপারে আইডিয়াল নাসিং হোমের পরিচালক ও অপারেশন টিমের ডাঃ এম এ রবিন বলেন, পেট ফুলা ও ব্যাথা নিয়ে ফজিলাকে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমরা জানতে পারি ৫ মাস আগে ভালুকায় তার সিজার করা হয়। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। অস্ত্রোপচারে পেটের ভিতর থেকে গজ-ব্যান্ডেজ (ডাক্তারী ভাষায় মব বলে) বের করা হয়। ওই মবটি অ্যাতের ভিতরে ডুকে পরছে। জরাযুর মধ্যে লাগছে এবং ওটি ইনফেকশন হয়ে অ্যাতের ভিতরে ডুকে ছিলো। রোগীর অ্যাত জোরা লাগাতে তিন মাস আরও একটা অপারেশন লাগবে।

ভালুকা ডিজিটাল হাসপাতালে পরিচালক মোঃ শরীফ জানান, আমাদের এখানে তারা কোন অভিযোগ করে নাই। আমি শুনছিও না। অনেক অপারেশন হয়তো এগুলো মনে থাকে না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখতাছি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Nazmul Hasan