মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পরও মেলেনি স্বীকৃতি

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযুদ্ধের ৪৮ বছর পরও গাজিপুরের কাপাসিয়ার ইসলাম উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। ইসলাম উদ্দিনের সন্তান সাইফুল ইসলাম তার পিতার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও যথাযোগ্য সম্মান প্রদানের জন্য দাবি জানিয়েছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা ইসলাম উদ্দিন ৭মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুতি শুরু করেন। এরপর তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ভারতের হাপানিয়া ক্যাম্পে যান এবং সেখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি দীর্ঘদিন ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের অনুরোধে মুক্তিযুদ্ধে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের জন্য ক্যাম্পে রাধুনীর কাজও করেন। তবে সে সময় দেশে ফেরার পর তার সেসব সনদ হারিয়ে যায়। বাবার সাথে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা তার পরিচিত মুক্তিযোদ্ধারা তাকে প্রত্যয়ন করে সনাক্তও করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন পরেও তার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এখনো স্বীকৃত হয়নি।

শুধু ইসলাম উদ্দিন নয়, এই এলাকার আরো অনেকেই রয়েছেন যারা ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন জটিলতায় তারা কেউই পাননি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি। তবে স্থানীয় অনেক মুক্তিযোদ্ধায় এই সকল যোদ্ধারা সম্মুখ সমর এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাইজ উদ্দিন বেপারী নামে এই এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, দেশ স্বাধীনের আগে দেশকে স্বাধীন করার জন্য ভারতের হাপানিয়া ক্যাম্পসহ আরো কয়েকটি জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। দেশ স্বাধীনের পর কাজের তাগিদে গ্রাম ছেড়ে ঢাকা চলে যায়। এসময় রক্ষী বাহিনি আসলে বাবা-মা আমার প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার কাগজপত্রগুলো ফেলে দেয়। তখন পরিস্থিতি অনুসারে তাদের ভয় ছিল, এসব কাগজ থাকলে আবার না জানি কোন সমস্যা হয় কিনা! পরে বিভিন্ন সময় চেষ্টা করলেও বিভিন্ন জটিলতায় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি।

আকবর আলী নামে এই এলাকার আরেকজন বাসিন্দা বলেন, আমরা সকলেই দীর্ঘদিন ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমি নিজে ভারতের মেনাগঞ্জ ট্রেনিং সেন্টার, গোকুল নগর, মহনতলা, হেজামারাসহ বিডিএফ হেড কোয়ার্টার থেকে প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার সময় আমাদের নাম আসেনি। বিভিন্ন সময় উপজেলা কামান্ডারের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগও করেছি, কিন্তু তিনিও কিছু জানাননি। বাছাইয়ের জন্য কাগজপত্রও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি মেলেনি।

এ বিষয়ে গাজীপুর কাপাসিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বজলুর রশীদ মোল্লা বলেন, এই ধরনের কথা শুনেছি। তাদের কাগজপত্র যাচাই বাছাইয়ের পর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সঠিক মনে করলে তারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Nazmul Hasan