মঙ্গলবার, ০২ Jun ২০২০, ১০:৪৫ অপরাহ্ন

যেসব কারণে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টারঃ দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যত দিন যাচ্ছে সংখ্যা তত বাড়ছে। আক্রান্ত ও মৃতের ঊর্ধমুখীতার কারণে চিন্তিত সবাই।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার কঠোর না হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিশেজ্ঞরা বলছেন, শিথিল লকডাউন, সামাজিক ও শারিরিক দূরত্ব না মানা, মাস্ক, গ্লাভসসহ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী যত্রতত্র ব্যবহার ও এর সঠিক ডিসপোসাল না করা- করোনায় সংক্রমিত ও মৃত্যুর হার বাড়ার কারণ।

করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বাড়ার কারণ বিশ্লেষণ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ভাইরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুলতানা শাহানা বানু বলেন, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হওয়ার পরও লকডাউন শিথিল করে মার্কেট, পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া; মানুষের কেয়ারলেস চলাফেরা; সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব না মানা, সুরক্ষা সামগ্রীর যত্রতত্র ব্যবহার ও সঠিক ডিসপোজ না করা এবং মানুষের মধ্যে ভীতি না থাকায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে।’

তিনি বলেন, উপসর্গহীন ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ করোনা ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীও সুপারস্প্রেডার হিসেবে কাজ করছে। কারণ, দেশে মানসম্পন্ন পিপিই ব্যবহৃত হচ্ছে না। পিপিই বলতে শুধু গাউন নয়, মাস্ক, আই প্রটেক্টরও আছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হওয়ার পর যে পরিমাণে পরীক্ষা করা দরকার ছিল তা হয়নি। এর কারণ পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার প্রস্তুত ছিল না। এখন সরকারি ছাড়াও বেসরকারি উদ্যোগে অনেক পরীক্ষা হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় এখন পরীক্ষার হার বেড়েছে। এ কারণে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ও মৃত্যুর হার জানা যাচ্ছে।

দেশে করোনার সার্বিক অবস্থা বুঝতে পরীক্ষা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘লকডাউন শিথিল, দোকান, মার্কেট খুলে দেওয়া, গার্মেন্টস খুলে দেওয়ার কারণে দ্রুত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্য লকডাউন কঠোর করতে হবে। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মানতে হবে।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক ও শারিরিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে।’

দেশে প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত হয় চলতি বছরের ৮ মার্চ। ১৮ মার্চ দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম রোগী মারা যান। এরপর থেকে বাড়তে থাকে মৃত্যু আর আক্রান্তের সংখ্যা। প্রথম রোগী সনাক্তের পর ১১ সপ্তাহ চলছে। ১৭ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত চলবে এ সপ্তাহ।

এ সপ্তাহের ছয় দিনে অর্থাৎ শুক্রবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে নয় হাজার ৯০২ জন; মৃত্যু হয়েছে ১১৮ জনের। শুধু শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এক হাজার ৬৯৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ২৪ জন।

এর আগে ১০ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ১০ম সপ্তাহে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সাত হাজার ২২৫ জন। মৃত্যু ১০০ জন এবং সুস্থ হন এক হাজার ৭০৩ জন। ৩ মে থেকে ৯ মে পর্যন্ত নবম সপ্তাহে সনাক্ত হয়েছিলো চার হাজার ৯৮০ জন, সুস্থ হয়েছিলেন দুই হাজার ৩৩৭ জন, মৃত্যু হয় ৩৯ জনের। ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত অষ্টম সপ্তাহে সনাক্ত হয় তিন হাজার ৭৯৩ জন। ওই সপ্তাহে সুস্থ ৬৪ জন, মৃত্যু হয় ৩৫ জনের।

শুক্রবার (২২ মে) পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ২০৫ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৩২ এবং সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার ১৯০ জন।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব রোধে সরকার দফায় দফায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলবে। প্রথম প্রথম মানুষ ঘরে থাকলেও অঘোষিত এ লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ার পর আবার বাইরে বেরিয়ে পড়েন। অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে খুলে দেওয়া হয়েছে কিছু কিছু মার্কেট ও কলকারখানা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Design & Developed By Aynan