রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন

সাইফকে ১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস

মুজিবুর রহমান, ই-কণ্ঠ ২৪ ডটকম : ফেডারেশন কাপের ফাইনাল শুরু হয় বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছিল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব প্রথম বারের মতো। অনেক আশা ছিল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়ে শিরোপা জিতবে। অনেক ভালো খেলেও সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল ১ গোলে হেওে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের।

ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস ১-০ গোলে সাইফকে হারিয়ে আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। টানা তিন বার ফাইনাল খেলল বসুন্ধরা কিংস। দুই বার ট্রফি নিয়ে গেল। গত আসরে টুর্নামেন্টেও চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়নদের ঘরেই গেল ট্রফি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফাইনালের ৫৩ মিনিটে আর্জেন্টাইন ফুটবলার রাউল অস্কারের একমাত্র গোলে চ্যাম্পিয়ন হল বসুন্ধরা কিংস।

ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ৩২তম আসর এটি। তিন বার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা মোহামেডান, আবাহনী, শেখ জামাল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদেও আছে। সেই তালিকায় এবার করপোরেট অফিস দল বসুন্ধরাও নাম লেখাল।
ম্যাচ শেষ হতেই একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন বসুন্ধরার ফুটবলাররা। গ্যালারিতে বাদ্য-যন্ত্র বাজলো। স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন শিষ্যদের সঙ্গে করমর্দন করে পিঠ চাপড়ে বাহবা দিলেন। সাফল্যের কারিগর গুরুকে শূণ্যে তুলে আনন্দ-উৎসব করলেন বসুন্ধরার ফুটবলাররা। উপরে হাত তুলে দর্শকদের অভিবাদনের জবাব দিলেন আনিসুর রহমান জিকোরা। এ সবই ফেডারেশন কাপের শিরোপা অক্ষুন্ন রাখার খন্ড খন্ড চিত্র। রোববার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংস ১-০ গোলে সাইফ স্পোর্টিংকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। ফেডারেশন কাপের গত তিন আসরের দু’টি চ্যাম্পিয়ন ও একটি রানার্সআপ ট্রফি এখন এই দলটির শোকেসে। বিপরীত দিকে তখন ভিন্ন চিত্র। প্রথমবার ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠেও শিরোপা জিততে না পারায় হতাশ বেলজিয়ান কোচ পল জোসেফ পুট ও তার শিষ্যরা। ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় এএফসি কাপের প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত হল বসুন্ধরা কিংসের।

শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচ। তাই সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়েই খেলেছেন দু’দলের ফুটবলাররা। ম্যাচের চার মিনিটে মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ক্রসে তপু বর্মন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় বসুন্ধরা কিংসের গোল। কিংসের আক্রমনভাগকে থামানোর জন্য ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন সাইফ কোচ পল পুট। অফসাইডের ফাঁদ তৈরি করেন রহমত মিয়া ও রিয়াদুল হাসান রাফিরা। সাইফের ফাঁদে কয়েকবারই পড়তে দেখা গেছে মতিন মিয়া ও অস্কার বেসেরাদের। ১৯ মিনিটে দারুণ আক্রমন শানায় সাইফ। মাঝ মাঠ থেকে নাইজেরিয়ার মিডফিল্ডার জন ওকোলির বাড়িয়ে দেয়া বল খুঁজে নেয় ইকেচুকু কেনেথ এনগোকেকে। বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়া নাইজেরিয়ান এ ফরোয়ার্ড বল মারতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। শট না নিয়ে ওকোলিকে দেন। তার শট তপুর গায়ে লেগে ফিরে আসে। সামনে পাওয়া বলে আরিফের বুলেট গতির শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। ৫২ মিনিটে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা। রবসনের ডিফেন্স চেরা পাস ধরে বল নিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে বক্সের মধ্যে ঢুকে বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড রাউল অস্কার বেসেরা। আর এই গোলেই সর্বো”চ গোলদাতার তালিকায় সাইফের কেনেথেকে স্পর্শ করেন তিনি। দু’জনেরই গোল পাঁচটি করে। ৬৯ মিনিটে আনিসুর রহমান জিকোর দৃঢ়তায় বেঁচে যায় কিংস। বক্সের বাইরে থেকে কেনেথের জোরালো শট লাফিয়ে ওঠে কর্ণারের বিনিময়ে ফেরান বসুন্ধরার গোলকিপার। সমতায় ফেরানো হয়নি সাইফের। মিনিট চারেক পর গোল প্রায় পেয়েই যা”িছল সাইফ। বক্সের মধ্যে ওকোলির ছোট পাসে বাঁ পায়ের মাটি কামড়ানোর শট পোস্টের কাছ ঘেষে চলে যায়। কিš‘ দুর্ভাগ্য সাইফের। শেষ পর্যন্ত আর গোল শোধ করা হয়নি তাদের।
দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন, মতিন মিয়া, ইব্রাহিম, মাসুক মিয়া জনি, গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকো, অধিনায়ক তপু বর্মন, বিশ্বনাথ ঘোষ, ইরানী খালেদ শাফি, সবুজ, ব্রাজিলিয়ান রবসন, ব্রাজিলিয়ান জনাথন, সুফিলদের নাচ-উল্লাস, মোবাইলে ভিডিও করা, সেলফি তোলা পুরো মাঠ জমিয়ে রাখল। ফুটবল মাঠের মাঝবৃত্তে গোল হয়ে হাতে হাত রাখে চ্যাম্পিয়নরা। মাঠেই ক্ষাণিকটা দূরে থাকা রানার্সআপ সাইফ স্পোর্টিংয়ের খেলোয়াড়রা। সঙ্গে দলের বেলজিয়ান কোচ পল যোসেফ পুট। মাঠে ঢুকে গিয়ে তার ছেলেদের সান্ত¡না দিচ্ছিলেন। অনেক খেলোয়াড় কান্নাও করেছেন। করারই কথা কারণ পুরো ম্যাচে সাইফ যেসব সুযোগ পেয়েছিল তার একটিও কাজে লাগেনি। দুর্দান্ত সব সুযোগ পেয়েও গোল ভাগ্যের ছিল না সাইফের। কয়েকবার সুযোগ পায় পেয়েও ব্যর্থ। অন্তত চার বার সাইফের সহজ গোলের সুযোগ ব্যর্থ করে দিয়েছেন বসুন্ধরার গোলপোস্টের অতন্দ্রপ্রহরী আনিসুর রহমান জিকো।
বসুন্ধরা কিংস নিজেদের ঘর আগলে রেখে সাইফের ওপর আক্রমণ করে। পুরো ম্যাচে গুনলে তিনটি সুযোগ পেয়েছিল। এর মধ্যে একটা সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল আদায় করে নেয় বসুন্ধরা।
সাইফ পিছিয়ে থেকেও গোলের সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কেনেথ উকুচুকুজনাথন। জীবন বাজি রেখে লড়াই করে তিন বার সুযোগ আদায় করেছিলেন কিন্তু প্রতিবারই গোলকিপার জিকো থামিয়ে দিয়েছেন।
সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব প্রথম থেকেই আক্রমণে ছিলেন।
কিন্তু কোনো খেলোয়াড় বল জালে ঢুকাতে পারলেন না। ১ গোলে হেরে সাইফ স্পোটিং ক্লাবের খেলোয়াড়রা মাঠ ছাড়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Technical Helped by Titans It Solution