বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদে ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি

অনলাইন প্রতিবেদক::

আসন্ন ঈদুল আজহায় করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চালানোর কথা ভাবছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে ঈদুল ফিতরে রেল বন্ধ ছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত পরিসরে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অন্তত আরও এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হবে।

রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঈদে রেল সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্ভিস। কিন্তু আমরা সবচেয়ে জোর দিচ্ছি পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর। তাই এখনই ঈদের রেল সার্ভিস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে চলাচল করা রেলের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেল চলাচলের প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রেল চালানোর সিদ্ধান্ত হলে বাড়ানো হতে পারে অন্তত আরও ২০ জোড়া রেল। শতভাগ টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। এরই মধ্যে ভিআইপি ছাড়া অন্য সব কোটায় টিকিট সংরক্ষণ পদ্ধতি তুলে নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এবার ঈদেও অনলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সবাই সমান সুযোগ পাবেন।

আর ঈদকে সামনে রেখে ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে অগ্রিম টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তবে সবকিছু নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. মিয়া জাহান বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে ৩১ মে থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ১৯ দফা নির্দেশনা মেনে এসব ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত রেলওয়ে প্রতিটি যাত্রী স্বাস্থ্যবিধি ও রেলওয়ের নির্দেশনা মেনে ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় যাত্রীর উপস্থিতি কম।

তিনি বলেন, এ সব বিষয় মাথায় রেখেই ঈদুল আজহায় রেল সার্ভিসের কথা ভাবা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের ইচ্ছা- এ ঈদে রেল সার্ভিস চালু রাখা।

এদিকে, করোনাভাইরাসের কারণে গত ঈদুল ফিতরে রেলসার্ভিস বন্ধ ছিল। এতে মালবহন ও অন্যান্য খাত মিলে প্রায় চারশ কোটি টাকার আয় হারায় রেল। এবার ঈদে রেল যোগাযোগ চালু থাকলেও প্রায় দুইশ কোটি টাকার মতো আয় থেকে বঞ্চিত হতে হবে। কারণ ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়েই চলাচল করতে হবে সব ট্রেনকে।

গত বছরের ঈদুল আজহায় সাড়ে ৩ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2020  E-Kantha24
Design & Developed By Codehost BD